করোনার টিকা পৌঁছালো চট্টগ্রামে

বাংলাদেশ মেইলঃঃ

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ডোজ টিকা চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছে।

রবিবার সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে বেক্সিমকো ফার্মার একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কাভার্ডভ্যানে ভ্যাকসিন নগরীর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এসে পৌঁছায়।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির ও চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি সেটি গ্রহণ করেন।

এ সময় সেখানে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (রোগ ও নিয়ন্ত্রণ) ডা. নুরুল হায়দার, বেক্সিমকো ফার্মার মো. মহসীনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে করোনা ভ্যাকসিনগুলো সংরক্ষণের জন্য আগে থেকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কোল্ড রুমে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা ছিল।

সকাল ৭টা ১০ মিনিটে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কাভার্ডভ্যানটি থেকে নামানো হয় ভ্যাকসিনের কার্টন। টিকা সংরক্ষণের জন্য কার্টনগুলো সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ইপিআই কোল্ডরুমের ওয়ার্ক ইন কুলারে রাখা হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, আমরা ৩৮টি কার্টনের ৪ লাখ ৫৬ হাজার ডোজের টিকা বুঝে পেয়েছি। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি চমেক হাসপাতালের ৪টি বুথে টিকাদান কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক শুরু হবে।

সে ক্ষেত্রে আমরা সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের তালিকা অনুযায়ী টিকা প্রদান করবো। ডাক্তার, নার্স, পুলিশ, প্রশাসন সাংবাদিকসহ সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের ধারাবাহিকভাবে টিকা প্রদান করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ভ্যাকসিন মনিটরিং মেশিন দিয়ে কার্টনে রাখা টিকার তাপমাত্রা যাচাই করা হয়েছে।

এটির গুণগত মান সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে যেভাবে আনা হয়েছে, ঠিক একইভাবে তা ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আনা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যারা ক্যানসার আক্রান্ত কিংবা যারা জটিল রোগে আক্রান্ত তাদের আমরা বিশেষভাবে পরীক্ষা করবো। এছাড়াও সাধারণ যারা টিকা নিতে আসবে, তাদের ব্লাড প্রেসার ও সুগার মনিটর করেই এই টিকাদান করা হবে।

এছাড়া যাদের হাঁপানি রোগ আছে, তাদের ক্ষেত্রে আমরা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করবো।

চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, আমাদের বহুল আকাঙ্ক্ষিত যে ভ্যাকসিন তা এসে পৌঁছেছে। চট্টগ্রামবাসী অধীর অপেক্ষায় ছিল এই ভ্যাকসিনের জন্য।

‘জেলার জন্য ৩৮ কার্টন এসেছে। প্রতি কার্টনে ১২০০ ভায়াল আছে। প্রতি ভায়ালে ১০টি ডোজ। সর্বমোট ৪ লাখ ৫৬ হাজার ডোজ টিকা রাখা হয়েছে আমাদের ইপিআই এর ওয়ার্ক ইন কুলারে।

তিনি আরও বলেন, ভ্যাকসিন ঢাকা থেকে যথাযথ তাপমাত্রায় এসেছে। এই টিকা ২ সেন্টিগ্রেড থেকে ৮ সেন্টিগ্রেডের মধ্যে রাখতে হয়। আমরা কোল্ডরুমের তাপমাত্রাও পরীক্ষা করে দেখেছি। আমাদের ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) স্টোরে দুটি ওয়ার্ক ইন কুলারে করোনার টিকা রাখা হচ্ছে। এরপর চাহিদা অনুযায়ী আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকাগুলো নগরীর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকার নির্ধারিত হাসপাতাল কেন্দ্র এবং বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হবে। ’

উল্লেখ্য, ভ্যাকসিনবাহী ফ্রিজার ভ্যানটি গতকাল ঢাকা থেকে ৭টায় রওনা হয়ে নগরীর হালিশহরের বেক্সিমকোর ডিপোতে রাত আড়াইটায় এসে পৌঁছায়। পুলিশ প্রহরায় ভ্যাকসিনবাহী ফ্রিজার ভ্যানটি সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে নগরীর আন্দরকিল্লার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আনা হয়।