নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ৩টি পৃথক মামলা করার ঘোষণা ডা,শাহাদাতের

বাংলাদেশ মেইলঃঃ

নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ৩টি পৃথক মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন সদ্য সমাপ্ত চট্টগ্রাম সিটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন।

রবিবার (৩১ জানুয়ারী) দুপুর দেড়টায় নগরীর নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের মাঠে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন চলাকালে আমরা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে প্রতিঘন্টা ভোটের আপডেট চেয়েছিলাম। তারা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচন চলাঅবস্থায় আমি নিজেই ইসি অফিসে দুইবার গিয়েছি।  ভোটের হিসেব প্রিন্টেড কপি চেয়েছিলাম কিন্তু তারা আমাদের সাদা কাগজে সাজানো কপি দিয়েছে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় ভোটের হিসেব চেয়েছিলাম, তারা দিতে পারেনি। জালিয়াতি করে আমার ৪ থেকে ৫ শতাংশ ভোট তারা কেড়ে নিয়েছে। সুনির্দিষ্ট এই তিন কারণে তাদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হবে।

তিনি বলেন, চসিক নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা নিয়ে আপনাদের অবগতির জন্য জানাতে চাই যে এই নির্বাচনে ধানের শীষের বিপরিতে নৌকার প্রতীকের প্রাপ্ত নৌকার ভোট তিন লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ , আর ধানের শীষের ভোট ৫২ হাজার ৪৮৯টি। তিন লাখ ১৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে নৌকার প্রার্থীকে মেয়র ঘোষণা করা হয়েছে। রাত পৌনে ২টায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেল, এই নির্বাচনে মাত্র সাড়ে ২২ শতাংশ ভোট পড়েছে। যেটা বাস্তবিক অর্থে ছিল ৭.৫%।

বহুল বতর্কিত ইভিএমে ভোটাভুটি হয়েছে। ভোটের ফলাফল পেতে সেই সনাতন পদ্ধতির চেয়েও বেশি সময় কেন লাগল তা আমাদের কেন সকল সচেতন মানুষের কাছে এক বড় রহস্য। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল ইভিএম পদ্ধতিতে একটি নগর ভোটের ফলাফল ঘোষণা করতে সময় লাগলো সেখানে ১০ ঘণ্টা । কিন্ত কেন, ? সে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন অ।নিয়মের তথ্যচিত্র তুলে ধরে বলেন, সকালে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার পর বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসাররা ধানের শীষের এজেন্ট কার্ডে সাক্ষর না করে অসযোগিতা করেন। নির্বাচন বিধি অনুযায়ী ভোট গ্রহন শেষে গণনার পর প্রতিটি কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করার নিয়ম থাকলেও এবারে নির্বাচনে তা করা হয়নি।
পাঁচলাইশ ৩ নং ওয়ার্ডের চালিতাতলি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষের ১১ জন এজেন্ট কেন্দ্র অবস্থান নেওয়ার পর বায়েজিদ থানার ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাদেরকে ডেকে নিয়ে একটি কক্ষে বাইরে তালা দিয়ে দুপুর ১ টা পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখে।

তিনি বলেন- ১৭ নং পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে এক বছর আগে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে বিএনপি সমর্থিক কাউন্সির প্রার্থী আরিফুল ইসলাম ডিউক ৫ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনে তার ভোট দেখানো হয়েছে ৩৩৪টি। একইভাবে দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডের ইয়াছিন চৌধুরী আশু, মোহরা ওয়ার্ডের মোহাম্মদ আজম, পাথরঘাটা ওয়ার্ডের ইসমাইল বালিসহ অনেক জনপ্রিয় কাউন্সিলর ছিলেন , তাদের প্রাপ্ত ভোট দেখানো হয়েছে মাত্র ২ থেকে ৩শ ভোট ।