ঢাকার মডেল দুই নারীর সাথে ফেসবুকে ঘনিষ্টতা,চট্টগ্রামে এনে প্রতারণা

বাংলাদেশ মেইলঃঃ

প্রথমে ফেসবুকে পরিচয়, বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠতা। এক পর্যায়ে মডেলিংয়ের প্রস্তাব পেয়ে সুদুর ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসেন দুই তরুণী (লাভলী আক্তার লিপি (২৩) ও নওশীন (২২))।

অতপর প্রতারণার শিকার হয়ে স্বর্বস্ব হারালেন এই দুই তরুণী। কৌশলে তাদের কাছ থেকে ভ্যানিটি ব্যাগ, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন নিয়ে সটকে পড়েন প্রতারকরা। এমনই তিন প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার তিন হলেন- আনোয়ার ইসলাম সানি (২৭), মো. আরাফাত (২৬) ও আহমেদ উল্লাহ (২৩)।

নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন আগ্রাবাদ এলাকার আখতারুজ্জামান সেন্টারের সামনে গত ৩১ জানুয়ারি এই প্রতারণার ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে ৬ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার দুই তরুণীর একজন (লাভলী আক্তার লিপি) ডবলমুরিং থানায় একটি মামলা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ডবলমুরিং থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রতারণায় জড়িত তিনজনকে আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করেছেন টাকা, মোবাইল ও ভ্যানিটি ব্যাগ।

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ফেসবুকে পরিচয়ের সুবাধে লিপিকে মডেলিংয়ের প্রস্তাব দেন গ্রেপ্তারকৃতদের একজন। প্রস্তাব পেয়ে বান্ধবী নওশীনকে সাথে নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসেন লিপি। আখতারুজ্জামান সেন্টারের সামনে তারা সাক্ষাৎ করেন এবং গ্রেপ্তারকৃতরাসহ নেভাল বীচে যান। নেভাল বীচ থেকে ফের আখতারুজ্জামান সেন্টারের সামনে আসেন তারা। এক পর্যায়ে খারাপ প্রকৃতির ছেলেরা ফলো করছে বলে প্রতারকরা লিপিদের কাছ থেকে ভ্যানিটি ব্যাগ, টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। পরে হোটেল ঠিক করতে যাবে বলে প্রতারকরা লিপিদের ওই ভ্যানিটি ব্যাগ, টাকা ও মোবাইল নিয়ে ছটকে পড়েন।’

মামলার এজহারে লিপি উল্লেখ করেন, ‘আমি পেশায় একজন ফটো সেশন মডেল। ঢাকায় ফটো সেশন মডেলিংয়ের কাজ করি। আমার একটি ফেসবুক আইডি আছে। ফেসবুক আইডির মাধ্যমে ২০১৮ সালে ১ নম্বর বিবাদী আনোয়ার ইসলাম সানির (২৭) সাথে পরিচয় হয়। ১ নম্বর বিবাদীও র‌্যাম্পের মডেলিংয়ের কাজ করতেন এবং পরিচয়ের সুবাধে বিভিন্ন ব্রান্ডের জন্য আমার নিকট থেকে ছবি নিতেন। তার সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে আমাদের মধ্যে একটা ভাল বন্ধুত্বের সম্পর্ক হয় এবং ১ নম্বর বিবাদীর মোবাইল নম্বর থেকে আমার মোবাইলে এবং ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে প্রায় সময় যোগাযোগ হতো।’

‘গত বছরের ২৪ জানুয়ারি ১ নম্বর বিবাদী আমাকে বলে যে, চট্টগ্রামে বিভিন্ন ব্রান্ডের ফটো সেশন হবে, তাই ৩০ জানুয়ারি আমাকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসতে হবে, সাথে আরো একজন নারী মডেল লাগবে এবং কাজ করলে ভালো মুনাফা পাওয়া যাবে। আমি ১ নম্বর বিবাদীর কথা সরল মনে বিশ্বাস করি ও আমার বান্ধবী নওশীনসহ (২২) ৩০ জানুয়ারি সকাল বেলা ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে রাতে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার আখতারুজ্জামান সেন্টারের সামনে আসি।’- এজহারে উল্লেখ করেন লিপি।

তিনি এজহারে আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে ১ নম্বর বিবাদী আমাকে বলে যে, আপনারা ঢাকা থেকে আসছেন, অনেক ক্লান্ত তাই এখন চলেন পতেঙ্গা বীচের পাশে গিয়ে হোটেলে উঠবো এবং পরের দিন সকাল বেলায় আমাদের মডেলিংয়ের কাজ শুরু হবে। তখন আমরা চার জনই একটি সিএনজিতে উঠে পতেঙ্গা বীচে যাই। আমরা সেখানে গিয়ে ৩ নম্বর বিবাদীকে দেখতে পায়। কিছু সময় পর উপরোক্ত বিবাদীগণ হোটেলে না নেওয়ার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করে আমাদের জন্য হোটেল নিতে বিলম্ব করেন। পরবর্তীতে বিবাদীরা আমাদের জানায় যে, আগ্রাবাদ এলাকায় গিয়ে হোটেল নিবে এবং পরের দিন মডেলিংয়ের কাজ করবেন। বিবাদীদের কথা সরল মনে বিশ্বাস করে আমরা ৫ জনই একটি সিএনজিতে উঠে ৩১ জানুয়ারি গভীর রাতে আগ্রাবাদের আখতারুজ্জামান সেন্টারের সামনে আসি।’

লিপি উল্লেখ করেন, ‘পতেঙ্গা বীচ থেকে আগ্রাবাদের দিকে আসার সময় ১ নম্বর বিবাদী আমাদের জানায় যে, আমাদেরকে খারাপ প্রকৃতির ছেলেরা ফলো করছে। আপনাদের সব কিছু আমার নিকট দিন। তখন আমি সরল বিশ্বাসে ১ নম্বর বিবাদীর কাছে আমার ভ্যানিটি ব্যাগ, ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা স্যামসাং গ্লাক্সি-এ ১০ মডেলের মোবাইল ফোন (মূল্য ১৬ হাজার টাকা) এবং ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা নগদ ৩৪ হাজার টাকাসহ দিই। আমরা আগ্রাবাদ মোড়ে আসার পর উপরোক্ত বিবাদীরা আমি ও আমার বান্ধবী নওশীনকে সিএনজিতে বসতে বলেন এবং আমাদের জন্য হোটেল ঠিক করতে যাবে বলে আমার ভ্যানিটি ব্যাগ, ব্যাগে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল নিয়া চলে যান। আনুমানিক ২০ মিনিট পর আমি ১ নম্বর বিবাদীকে ফোন করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাই। আমরা ১নম্বর বিবাদীর নিকট থাকা আমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করলে সে রিসিভ করেনি, পরে আমার ফোন বন্ধ করে দেন।