ডেভেলাপারের বিক্রিত ফ্ল্যাট পুনরায় বিক্রির পাঁয়তারা

বাংলাদেশ মেইলঃঃ

 

চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার ওয়াসার মোড় এলাকায় কেয়ারি ছালে আবু টাওয়ার বা এস এ টাওয়ারে ডেভেলাপার কোম্পানি কেয়ারি লিমিটেডের বিক্রিত ফ্ল্যাট পুনরায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সালেহ আবু টাওয়ারের মালিকপক্ষ মোহাম্মদ ছালে আহমদ ও আবু গণি নিয়মবহির্ভূতভাবে ডেভেলাপার কোম্পানিকে না জানিয়ে ‘পাওয়ার অব অ্যাটনি বা ক্ষমতায়ন’ বাতিলের কারসাজি করেই এ ধরনের ফ্ল্যাট বিক্রির পাঁয়তারা করছে বলে জানা গেছে।
ফ্ল্যাটের ক্রেতা অসীমা তালুকদারের মামলার অভিযোগ সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সূত্র মতে, প্রায় তিনটি চিঠির মাধ্যমে অবহিত করার পর মালিকপক্ষ এবং ডেভেলাপার কোম্পানির প্রতিনিধির মধ্যে বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে ‘পাওয়ার অব অ্যাটনি বা ক্ষমতায়ন’ বাতিলের বিধান রয়েছে। কিন্তু এস এ টাওয়ারের মালিকপক্ষ তা অনুসরণ না করেই অনৈতিক পন্থায় কাগজপত্র তৈরি করেছেন বলে জানা যায়।
২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে অসীমা তালুকদার সিডিএর অনুমোদিত কেয়ারি সালেহ আবু টাওয়ারের তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম তলায় ফ্ল্যাট বরাদ্দ নেন কেয়ারি লিমিটেডের কাছ থেকে। তিনি নিয়ম অনুযায়ী চুক্তির মাধ্যমে এ সংক্রান্ত সব আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করেন ডেভেলাপার কোম্পানির সঙ্গে।
নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদে কেয়ারি লিমিটেড ২০১৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর এক ক্ষমতায়ন পত্রের মাধ্যমে অসীমা তালুকদারকে তাদের পক্ষে ভবনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় মামলা করার ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।
কিন্তু বিপত্তি বাধলো গেলো বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে। ফ্ল্যাটের মালিক অসীমা তালুকদার ওয়াসার মোড় দিয়ে যাওয়ার সময়ে দেখলেন, তাঁর ফ্ল্যাটের সীমানায় মালিকপক্ষ ফ্ল্যাট বিক্রির সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
গত বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর অসীমা তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে ফ্ল্যাট বিক্রি থেকে বিরত থাকার জন্যে জায়গার মালিক পক্ষকে উকিল নোটিশ পাঠান এবং এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী ও দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ব্যবস্থা নেন।
কিন্তু মালিকপক্ষ সেই নোটিশ গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাপা হওয়ার পর থেকে এখনো পর্যন্ত এ ব্যাপারে কারো কোনো আপত্তির দাবিও ওঠেনি।
অসীমা তালুকদারের অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর তিনি নির্মাণাধীন ফ্ল্যাটের কাজে ওই বহুতল ভবন- এস এ টাওয়ারে উঠলে ভূমির মালিকেরা তাকে বাধা দেন এবং ভয়ভীতি হতার হুমকি, অশালীন ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় তিনি গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের চিফ ম্যাট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়।
অসীমা তালুকদার মালিকপক্ষের বেআইনি কার্যক্রম বন্ধ এবং তাঁর নিরাপত্তা চেয়ে গত ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ডেপুটি কমিশনার-উত্তর বরাবরে আবেদন করে তাঁর সহযোগিতা কামনা করেন।
এই বিষয়ে খুলসী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো,শাহিনুজ্জমান বাংলাদেশ মেইলকে বলেন,এই মামলার বিষয়ে তদন্দ চলছে,তদন্দ শেষে কার্যকর ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।