খাশোগি হত্যার অনুমোদন দেন সৌদি যুবরাজ

বাংলাদেশ মেইল ::

খাশোগি হত্যার অনুমোদন দেন সৌদি যুবরাজ
সৌদি আরবের ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা বা গ্রেফতারের অভিযানে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অনুমোদন দিয়েছিলেন।

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্সের দফতর। খবর : বিবিসির।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা বা আটক করার জন্য পরিচালিত অভিযানে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অনুমোদন দিয়েছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জামাল খাসোগী,একজন সৌদি নাগরিক ও ওয়াশিংটন পোস্টের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক একজন প্রখ্যাত ও জনপ্রিয় সাংবাদিক ও কলামিস্ট-যিনি ২০১৮ সালের অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদিআরবের দূতাবাসের ভেতরেই খুন ও নিখোঁজ হন। এরপর ইস্তাম্বুলের সুদূরে তুরস্কের গ্রামাঞ্চলে খাসোগীর শরীরের খন্ড খন্ড মাংসের টুকরো খুঁজে পাওয়া যায়।

ওয়াশিংটন পোস্টের জনপ্রিয় সাংবাদিক জামাল খাসোগীর হত্যার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর দায়ভার সৌদি রাজপরিবার ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উপর বর্তায়। কেননা খাসোগীর হত্যার সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন যুবরাজ সালমানের বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা। আর তাছাড়া ঐ সময় খাসোগী সৌদি রাজপরিবার, রাজতন্ত্র ও যুবরাজ সালমানের দুঃশাসনের উপর কয়েকটি লেখা লিখে সৌদি রাজপরিবার ও যুবরাজ সালমানের কাছে বেশ শত্রু হয়ে উঠেছিলেন এবং তাদের কাছ থেকে তিনি নিয়মিত প্রাণ নাশের হুমকিও পেয়ে আসছিলেন। আর তাছাড়া ইস্তাম্বুলে খাসোগীকে হত্যায় যারা জড়িত ছিলেন তাদের স্বীকারোক্তিতেও বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। ফলে খাসোগীকে হত্যার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র এর জন্য সৌদি রাজপরিবার ও যুবরাজ সালমানকে প্রধান আসামী ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে-যা সৌদি রাজপরিবার ও যুবরাজ সালমান সবসময়ই খুবই জোরেশোরে অস্বীকার করে আসছেন।

জো বাইডেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের পর জানে-প্রাণে যখন মধ্যপ্রাচ্যকে ঢেলে সাজাতে লেগেছেন-ঠিক এ সময় আরো একটি মার্কিন প্রতিবেদন প্রকাশিত হল-যাতে আরো স্পষ্ট হল যে-“খাসোগীর হত্যাকাণ্ডে সৌদি যুবরাজ সালমান সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন, সুতরাং এজন্য তাকে যথাযথ শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।” বিশ্বময় এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে-এতে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পকে’র ক্ষেত্রে কোন টানাপোড়ন সৃষ্টি কিংবা বাইডেনের ঐ অঞ্চল নিয়ে করা প্লান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন বাধা সৃষ্টির আশংকা দেখা দিয়েছে।