বর্তমান সরকার দেশের পানি সংকট দুর করেছে – স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

বাংলাদেশ মেইল ::

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, চট্টগ্রামে এখন পানির সঙ্কট নেই। একসময় পানির দাবিতে সারাদেশে মিটিং মিছিল হতো। চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বলে হালিশহর, সিডিএ তে পানির জন্য হাহাকার ছিল। এখন পানির দাবিতে মিছিল-মিটিং হয় না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে চট্টগ্রাম শহরের মানুষ এখন পানি পাচ্ছে। চট্টগ্রাম ওয়াসা আরও প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম ভালোবাসে বলেই একে একে সমস্যাগুলো সমাধান হচ্ছে। উন্নয়ন করতে হলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে। স্থানীয় সরকার শক্তিশালী না হলে কখনও উন্নয়ন তরান্বিত হয় না।

শনিবার দুপুর ১ টায় নগরীর রেডিসন ব্লু ‘তে চট্টগ্রাম ওয়াসা আয়োজিত চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের অধিন ‘পতেঙ্গা বুষ্টিং পাম্প ষ্টেশনের’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর না থাকলে দেশের উন্নয়ন হতো না। চট্টগ্রাম আছে বলেই বাংলাদেশ সৌভাগ্যবান। কিন্ত সমন্বয়ের অভাবে চট্টগ্রামে কাঙ্খিত উন্নয়ন থেকে আমরা এখনও দূরে।একজন মেয়রের উপর সব বোঝা উঠিয়ে দিলে তো হবে না। এককভাবে কোন মেয়রের পক্ষে উন্নয়ন তরান্বিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য সকলকে সহযোগীতা করতে হবে। মেয়রকে এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে সমন্বয় করার জন্য। সকলের সম্পৃক্ততার বাড়ানো গেলে চট্টগ্রামের উন্নয়নে আমিও সহযোগিতা করতে পারবো। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারকে অবশ্যই শক্তিশালী করতে হবে, আয় বর্ধক প্রকল্প হাতে নিয়ে স্বণির্ভরতার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এজন্য জনপ্রতিনিধিদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, কাজের জন্য উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে এক হতে হবে। কাজ করলে টাকার অভাব হবে না। প্রধানমন্ত্রীও সম্মতি দিবেন যদি টাকাটা কাজে লাগে।
মন্ত্রীর আরো বলেন,এটা কোনো দস্যুদের দেশ না, কোন দখলবাজের দেশ না, কিন্তু আমরা ব্যর্থ, জনগনের দেওয়া দায়িত্ব পালন করে পারছি না। ওয়াসার উন্নতি হবে, উন্নয়নের জন্য আন্দোলন করবেন, বাঁধা দেওয়ার জন্য নয়। লুটপাটের দরকার নেই, সন্ত্রাস করারও দরকার নেই। মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা না হলে ২০০০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে সিঙ্গাপুরের মতো হতো।
সরকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর কাছে পাওনা কর আদায় প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকারী প্রতিষ্ঠানে যদি কর বকেয়া থাকে সেগুলো আদায় করতে হবে। তাদের সাথে যোগাযোগ করে কর আদায়ের উদ্যোগ নিতে হবে। এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের কর ঢাকায় আদায় হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কর্পোরেশন যদি চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে নায্য কর না পায় তা আদায়ে ব্যবস্থা নিতে পারে। বন্দর কর্পোরেশনের সেবা নিলে নায্য করও দিতে হবে। তিনি বলেন, কৌশল যদি ঠিক থাকে টাকা কোন সমস্যা না। আর প্রকল্প নিলে টাকার অভাব হবে না। তবে টাকা কাজে লাগাতে হবে। সময় মতো প্রকল্প শেষ করতে হবে। সব ক্ষেত্রে সুশাসন কায়েম হলে অনেক সমস্যার সমাধান এমনিতে হয়ে যায়।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গ্রহণের পর চট্টগ্রামে নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি করেছিল তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। চট্টগ্রামের উন্নয়নে সরকার সবসময় অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। কিন্তু এই অগ্রাধিকারের সুযোগ আপনাদের কাজে লাগাতে হবে। চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গেটওয়ে। নদীর আশেপাশে আবর্জনা পড়ে থাকছে, জায়গা ইজারা নিয়ে ইন্ডাস্ট্রি করে দখল করা হচ্ছে। যা কখনোই কাম্য নয়। এটি কোনো দস্যুর দেশ নয়।
চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও পটিয়ার সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরী, বোয়ালখালীর সংসদ সদস্য মোসলেস উদ্দিন, চন্দনাইশের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম, সাতকানিয়া- লোহাগাড়া আসনের এমপি আবু রেজা নদভী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন।
উল্লেখ্য, শনিবার উদ্বোধন হওয়া পতেঙ্গা বুস্টার পাম্প স্টেশনটির মাধ্যমে নগরের দক্ষিণাংশে বসবাসকারী জনগোষ্ঠির নিকট পানি পৌঁছানো সম্ভব হবে। ফলে চট্টগ্রাম নগরের বন্দর ইপিজেড এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী স্থাপনার বিশাল জনগোষ্ঠির চাহিদা মিঠানো সম্ভব হবে। এই বুস্টার মেশিনের মাধ্যমে দৈনিক ৪ দশমিক ৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
পরে মন্ত্রী চট্টগ্রাম ওয়াসার বুষ্টিং পাম্প উদ্বোধন করেন।