এবারের বইমেলার নতুন চমক সাংবাদিক ফেরদৌস শিপনের উপন্যাস ‘উল্টোদিকে ব্যালকনি’।

রানা আবির নাহাঃঃ

ফেরদৌস শিপন। একাধারে একজন সাংবাদিক,সাহিত্যিক, কবি ও বটে। দীর্ঘ জীবন কাটিয়েছেন বিভিন্ন আঞ্চলিক,জাতীয় পত্রিকায়। টেলিভিশন সাংবাদিকতায় ও ছিল তার পদচারণা। সদা হাস্যজ্জল ও আন্তরিকতায় ভরপুর এই ব্যাক্তিটি এবার চট্টগ্রামের সাংবাদিক পাড়ায় নতুন নামে ভুষিত হয়েছেন। পত্রিকায় লেখনির পাশাপাশি এবার তার কলম গেল বইয়ের পাতায়। লিখেছেন উপন্যাস।

প্রকাশক আবদুল হাকিমের প্রকাশনা সংস্থা দাঁড়িকমা প্রকাশনী থেকে সোহানুর রহমান অনন্তের প্রচ্ছদে বাজারে এসেছে সাংবাদিক ফেরদৌস শিপনের উপন্যাস ‘উল্টোদিকে ব্যালকনি’।

আগামী ১৮ মার্চ বই মেলায় আসছে এই বই।
এই উপন্যাসের বিষয়ে কথা হয় প্রবীণ সাংবাদিক ফেরদৌস শিপনের সাথে। অনেকটা হাসিমুখে সাবলীনভাবে তিনি বলেন,

প্রেমী মন চেনা সময়কে খুব অল্প সময়ে বিনা নোটিসে বদলে দেয়। আর প্রেম নির্মাণের সময় সবকিছু নেড়েঘেঁটে আসলে সম্পর্ক দিয়ে তিন প্রকারের মিলন ঘটে। তা হলো, ঐশ্বরিক প্রেম, শরীরী প্রেম এবং করুণ প্রেম। শুধুই পরিচয়ই যে প্রেম ঘটে, তাও না। অথচ সব গল্পই প্রেমের। প্রেম কিন্তু সব গল্পেই থাকে। “উল্টোদিকে ব্যালকনি”র লেখা গল্পে একজন হাসানের কাহিনীটি কারো সঙ্গে তুলনা করতে যাইনি, চাইও না। এই গল্পের হাসানের চরিত্রে নিজের মনের কিছু কথা বলতে চেয়েছি। বুঝাতে চেয়েছি একটি গড়ে তোলা সংসারের নকশায় কিছু বাস্তবিক অদ্ভুত প্রেমের কাহিনী প্রণয় পরিণতি। আর মাদকের পক্ষে-বিপক্ষের শেষ পরিনতি। দেখাতে চেয়েছি, মাদকের বিরুদ্ধে যখন কেউ যায় তখন আমাদের সমাজের রাঘাববোয়ালরা তার পিচু লাগে। মাদকের চোরাচালানের বিরুদ্ধে সংবাদপত্রে প্রতিবেদন লিখে যখন এক সাংবাদিক তার চাকরী হারাতে হয়। তেমনিভাবে মাদক চোরাকারবারিদেরও ঘেন্না করে এ সমাজ। আবার যখন মাদকের চোরাচালান করতে গিয়ে প্রান হারাতে হয় একটি সংসারে কোন কর্তার। তাহলে কি আমাদের উল্টোদিকে অন্য কোন ব্যালকনি আছে, যেখানে আমরা এই সমাজের আরেকটি সহজ রূপ দেখতে পাবো। তবে বাস্তবিক অর্থে বলতে গেলে হাসানের বিভিন্ন চরিত্র সাজানো হয়েছে কাল্পনিক ও কাকতালীয় ঘটে যাওয়া জীবনের গল্প নিয়ে। সেখানে আচমকাই নতুন মাত্রা পায় সামাজিক নানা প্রেক্ষাপট। আসলে হাসানরা আমাদের সমাজেই আছে, ছিল। ভালো-খারাপ সবার মধ্যেই থাকে। কারণ পৃথিবীতে সবার সবকিছু করার সুযোগ হয় না, সবাই পারেও না। তবে ভুল মানুষের সাথে সময়ের কাজ ভুল করার ফল ভাল হয়না। মুলত: হাসানের সকল চরিত্রাবলিতে সেটাই তুলে ধরা হয়েছে।
সত্যিকার অর্থে মানুষের জীবন-কর্ম রূপকথার গল্প নয়। ইতিহাসে যেমন সত্য লুকিয়ে থাকেনা বা রাখা যায় না। তেমনি প্রতিটি মানুষেরই একটি নিজস্ব ইতিহাস রয়েছে। আক্রান্ত ইতিহাস, আক্রান্ত আবেগ, আক্রান্ত ভাবাবেগ এবং আক্রান্ত সত্যকে মোকাবেলা করতে হবে আমাদের আজকের প্রজন্মের সবুজ শক্তি দিয়ে। তাই আক্রমণটা হঠাত্‍ করে রাতারাতি নয়। সকল কাজেই সত্যটাই প্রতিষ্ঠা করতে হবে সততা ও সুন্দর চরিত্রের মাধ্যমে। আসলে কিছু কিছু মানুষ এমনই, যারা অন্যের জন্য জন্মায়, অন্যের জন্য বেঁচে থাকে। অন্যের অপরাধের শাস্তি ভোগ করে। যাদের প্রস্থানও হয় অন্যদের অভিযোগ আর আক্ষেপের বোঝা মাথায় নিয়ে। অথচ তাদের একটা জীবন কেটে যায় এই ভেবে ভেবে যে হয়তো তাদের জন্যও এই জগতের কোথাও না কোথাও কেউ অপেক্ষায় আছে, কিছু অপেক্ষায় আছে! কিন্তু তাদের সেই অপেক্ষার গল্প শেষ হয় ভয়াবহ উপেক্ষায়।

প্রসঙ্গত, সাংবাদিক ফেরদৌস শিপন দীর্ঘ দিন সাংবাদিকতা করেছেন দৈনিক আজাদীতে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলাধারা’য় সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন। ব্যক্তিগত জীবনে শিপন একজন আপাদমস্তক ভদ্রলোক হিসেবে পরিচিত। সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল ফেরদৌস একজন রোসবোধ ব্যক্তি হিসেবেও খ্যাত।