বাংলাদেশের অর্জনে পুলিশের ভূমিকা ব্যাপক’

বাংলাদেশ মেইলঃঃ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, উন্নয়নশীল দেশের পূর্বশর্ত হচ্ছে আইন শৃঙ্খলার উন্নতি করা। মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়েছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ। সেই পুলিশ আজ আমাদের সাথে একাত্ম হয়ে ৭ই মার্চ উদযাপন করেছেন। এজন্য আমি কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাঁদের অভিনন্দন জানাই। আজকের বাংলাদেশের অর্জনে পুলিশের ভূমিকা ব্যাপক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে বাংলাদেশ ২০৪১ সালে উন্নত বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে ইনশাল্লাহ।’

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে কর্ণফুলী থানা পুলিশের আনন্দ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী।

আজ বিকাল ৩টায় উপজেলার এইচ.টি কনভেনশন হলে সিএমপির কর্ণফুলী থানা পুলিশ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংশ্লিষ্ট থানার ওসি মো. দুলাল মাহমুদ।

জাতীয় সংগীতের মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন কর্ণফুলী থানার এসআই সুমন দে। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কর্ণফুলী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. ইয়াসির আরাফাত।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন ওসি তদন্ত মোহাম্মদ ফেরদৌস জাহান।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দিদারুল ইসলাম চৌধুরী, বীর মুক্তিযাদ্ধা এম এন ইসলাম,
কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব হায়দার আলী রনি।

সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. ইয়াসির আরাফাত বলেন, স্বাধীনতা একটি ছোট্ট শব্দ হলেও এর গভীরতা ব্যাপক।
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণটি স্বাধীনতার ঐতিহাসিক দলিল। ১৮ মিনিটের বক্তব্যে ১১০৭ শব্দের বক্তৃতায় কোনও বিরক্তিকর পুনরাবৃত্তি ছিল না। কোনও অপ্রয়োজনীয় বক্তব্য ছিল না কেবলমাত্র তিন স্তরে মূল বিষয়গুলি ছিল। এ কারণে ইউনেস্কো ‘মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ এ ভূষিত করেন। বঙ্গবন্ধু কোন ব্যক্তি নয়, একটি প্রতিষ্ঠানের নাম।’

অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বানাজা বেগম নিঁশি, উপজেলা আ’ লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন হায়দার, আনোয়ারা উপজেলা আ’লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, কর্ণফুলী উপজেলা আ’লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হাজী এস এম রফিক উল্লাহ, সদস্য মামুনুর রশিদ তালুকদার, জুলধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিক আহমেদ, যুবলীগের সভাপতি সোলেয়মান তালুকদার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহেদুর রহমান শাহেদ। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সিএমপি কর্ণফুলী থানা পুলিশের সকল সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই মহান ৭ই মার্চের ভিডিও ভাষণ প্রদর্শন ও কেক কেটে দিবসটি উদযাপন করা হয়। সাথে গণভবন থেকে লাইভে সরাসরি ৭ই মার্চের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়। অনুষ্ঠানে কোরআন তেলোয়াত করেন মাওলানা এনামুল হক আল কাদেরী। ত্রিপিটক পাঠ করেন বিকাশ দাশ। দুমিনিটের ৭ই মার্চের ভাষণ শোনান বড়উঠান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিশু আবরার হোসেন।

এছাড়াও উপস্থিত সকলের হাতে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের লেখা (যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টে প্রকাশিত) “বাংলাদেশ এশিয়ার বিস্ময়কর ডিজিটাল লিডার” প্রবন্ধটি ভাষান্তরিত বাংলায় প্রচারপত্রটি বিতরণ করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত মাসের ২৬ তারিখে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ প্রাপ্তি ও ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের দিনটিতে দেশব্যাপী হাইওয়ে থানাসহ ৬৬০টি থানায় একযোগে, একই সময়ে আনন্দ উদযাপন করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।

১৯৭১ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বিশাল জনসমুদ্রে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতাযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

বজ্র কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। প্রায় ১৯ মিনিটের ভাষণে বঙ্গবন্ধু ইতিহাসের পুরো ক্যানভাস তুলে ধরেন। জনতাকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন।

এদিকে ২০১৭ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ‘মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ বা ‘বিশ্বের স্মৃতি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। জ্বালাময়ী ওই ভাষণটিকে ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ (প্রামাণ্য ঐতিহ্য) হিসেবে ঘোষণা করেছেন।