বাংলাদেশে গভীর রাতে ভোট দেয় পুলিশ

বাংলাদেশ মেইলঃঃ

গণতন্ত্র, ভোটাধিকারের জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু নতুন প্রজন্ম এখনো ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র খুঁজে বেড়াই।বাংলাদেশে গভীর রাতে ভোট দেয় পুলিশ। ভোটাধিকার হরণের জন্য নির্বাচন কমিশনের বিচার হবে।

আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের সামনে সমাবেশে বিএনপি নেতারা এসব কথা বলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, গুম-খুনের জন্য আওয়ামী লীগের বিচার হবে। ভোটাধিকার হরণের জন্য নির্বাচন কমিশনের বিচার হবে। বিনা বিচারে কেউই ছাড় পাবে না। যুদ্ধ হবে, সংগ্রাম হবে, গণতন্ত্র ফিরে আসবে। সময় কারও জন্য বসে থাকে না। আমাদের অধিকার আমাদেরকেই আদায় করতে হবে।

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন, খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের নামে সাজানো মামলা ও সাজা প্রত্যাহার এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি।

স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চোরের দশ দিন গৃহস্থের এক দিন। সব কিছুর সীমাবদ্ধতা আছে। ভোট চুরি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সারা বিশ্ব সোচ্চার হচ্ছে। সহযোগিতাকারীদের তালিকা হচ্ছে। আমেরিকার ১০ জন সিনেটর দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত দিয়েছেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের যে দেশে ভোট চুরি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে- তা তদন্ত করছে। প্রত্যেকটি জিনিসের একটি এক্সপায়ার ডেট আছে।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আজকে মার্চ মাস। ১৪ দিন পরে দেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। তার ঘোষণা দিয়েছেন শহীদ জিয়াউর রহমান। কেন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল? গণতন্ত্র, ভোটাধিকারের জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। বাংলাদেশে গভীর রাতে ভোট দেয় পুলিশ।

যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, এই সরকার পুলিশকে দুইভাগে ভাগ করেছে। পুলিশের একভাগ বলছে মেজর (অব.) সিনহাকে ওসি প্রদীপ হত্যা করেছে, আরেক অংশ বলছে- না। পুলিশের একভাগ হাজী সেলিম পুত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র করেছে, আরেক অংশ বলছে- না।

বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আজও লজ্জিত। কারণ আমরা নতুন প্রজন্ম এখনো ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র খুঁজে বেড়াই।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, কোনো অর্বাচীন কী বলল সেটা ধরার বিষয় নয়। জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছিলেন। তিনি বলেন, এই সরকার ভোট চোর। এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। নিরপেক্ষ সরকারের চলমান আন্দোলনে শরিক হওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান তিনি।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচন প্রসঙ্গে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, এ রকম বেহায়া নির্বাচন কমিশন দিয়ে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সরকার প্রথমে আমাদের ছয় মেয়র প্রার্থীর নির্বাচিত এই ব্যতিক্রম ধর্মী কর্মসূচি বুঝতে পারেনি। যখন বুঝতে পেরেছে তখনই বাধা দেওয়া শুরু করেছে। আমাদের ফাইনাল রাউন্ডে যেতে হবে। আমরা শেখ হাসিনাকে পাল্টাতে পারলে সব পাল্টে যাবে।

মজিবুর রহমান সরোয়ার বলেন, আজ গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্র না থাকলে দেশ থাকবে না। দেশে উগ্রপন্থীদের উত্থান ঘটবে। এসব এই আওয়ামী লীগ সরকারের মাথায় নেই।