টিকা নেবার এক মাস পর
করোনায় মারা গেলেন সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী

বাংলাদেশ মেইলঃঃ

সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও সিলেট-৩ আসনের দীর্ঘদিনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন (ইন্না…রাজিউন)। রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার বেলা ২ টা ৪০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান। জানা যায় এক মাস আগে তিনি করোনার টিকা নিয়েছিলেন।  এরপরও করোনা থেকে রেহাই পাননি।
গেল রোববার সিলেট থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে বিমানে অসুস্থতা অনুভব করায় সেখান থেকে তাকে  ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়।  সোমবার সকালে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। বিকালে তার নমুনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে।  শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিলো।  সেখানেই তিনি আজ মারা যান।
মাহমুদ উস সামাদের বড় ভাই চ্যানেল এস এর চেয়ারম্যান আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী ফেসবুকে এমপি কয়েস চৌধুরীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। পরে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এই সংসদ সদস্য  ১০ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গনে করোনার টিকা নেন। এরপর কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল না।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সিলেট-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি। এবং সামাজিক ভাবেও সকল মানুষের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা ছিলো তার। শেখ রাসেল স্মৃৃৃৃতি সংসদের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।

একজন অমায়িক ও  পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর খ্যাতি ছিলো। যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করে তিনি দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০০৮ সালে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা-ফেন্চুগন্জ আসন থেকে  জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে বিজয় লাভ করেছিলেন তিনি। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও বিজয়ী হন তিনি। পারিবারিক ভাবে বেশ ঐহিত্যবাহী ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান তিনি। মাহমুদ উস চৌধুরী ছাড়া বাকী দুই ভাই পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিলেন প্রায় ৫ দশক ধরে।