দেশে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে ৪৪ শতাংশ

বাংলাদেশ মেইলঃঃ

গত এক বছরে সারা দেশে আত্মহত্যা করেছেন ১৪ হাজার ৪৩৬ জন নারী পুরুষ। যা কিনা পূর্বের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ বেশি। করোনা মহামারির মধ্যেও এসব আত্মহত্যার ঘটনার পেছনে মূল কারণ ছিল পারিবারিক জটিলতা, সম্পর্কের অবনতি, পড়াশোনা নিয়ে হতাশা ও আর্থিক সংকট।

শনিবার (১৩ মার্চ) আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রকাশ করা এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। ওয়েবনিয়ারে আত্মহত্যার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন সংগঠনটির জরিপ টিমের প্রধান এ এস এম শাহরিয়ার সিদ্দিকী। সংঘঠনটি মূলত দেশের আত্মহত্যার পরিসংখ্যান ও কারণ নিয়ে কাজ করে থাকে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের ৮ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট ৩টি জাতীয় পত্রিকা, ১৯টি স্থানীয় পত্রিকা, হাসপাতাল ও থানা থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। আর পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে মোট ৩২২টি ঘটনা।
প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় গত এক বছরে দেশে আত্মহত্যা করেছেন ১৪ হাজার ৪৩৬ জন। আর ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ১০ হাজারেরও বেশি। সে হিসেবে মাত্র এক বছরে আত্মহত্যার পরিমাণ বেড়ে গেছে প্রায় ৪৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রায় লকডাউনে চলে যায় দেশ। সেই করোনাকালে বেড়েছে আত্মহত্যার প্রবণতা। সে তালিকায় বেশি এগিয়ে নারীরা। নারীদের ক্ষেত্রে আত্মহত্যার সংখ্যাটা ৫৭ শতাংশ এবং পুরুষের ক্ষেত্রে ৪৩ শতাংশ।
মোট আত্মহত্যার ঘটনা ১৪ হাজার ৪৩৬টি। এর মধ্যে নারীর আত্মহত্যার ঘটনা ৮ হাজার ২২৮টি এবং পুরুষের আত্মহত্যার ঘটনা ৬ হাজার ২০৮টি।
আত্মহত্যার ঘটনা পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী রয়েছেন ৪৯ শতাংশ, ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী ৩৫ শতাংশ, ৩৬ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ১১ শতাংশ। সবচেয়ে কম আত্মহননকারী হচ্ছেন ৪৬ থেকে ৮০ বছর বয়সীরা, ৫ শতাংশ।
আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের পারিবারিক সমস্যার কারণে আত্মহত্যা করেছেন ৩৫ শতাংশ নারী-পুরুষ। এর বাইরে ২৪ শতাংশ সম্পর্কে টানাপোড়নের কারণে এবং অজানা কারণে ৩২ শতাংশ মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। আর্থিক ও লেখাপড়ার কারণে আত্মহত্যা করেছেন ৪ ও ১ শতাংশ।