পতেঙ্গা সৈকতে কিশোরীকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

বাংলাদেশ মেইলঃঃ

চট্টগ্রামে কিশোর অপরাধের ঘটনা প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে। সামান্য বিষয় নিয়ে যেমন ঘটছে মারামারির ঘটনা, তেমনি অনেক সময় প্রাণহানির ঘটনা ও ঘটছে। মূলত বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাই এই সব মারামারির ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে। এত সব কিছুর মধ্যেও পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকার একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। যা রীতিমত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক কিশোরীকে অপর দুই কিশোর-কিশোরী মিলে যেমন মারধর করছে, তেমনি লাশ ফেলা দেয়ারও হুমকি দেয়া হচ্ছে। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
৬০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, পতেঙ্গা সমুদ্রে সৈকতের কাছেই দাড়িয়ে কথা বলছিলেন দুই কিশোরী ও এক কিশোর। এসময় দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরীকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বলতে শোনা যায়, ‘ওই দিন আমাকে মারার জন্য ছুরি নিয়েছে বেটা।’
বসে থাকা কিশোরী এসময় বলেন, ‘তুমি আমারে মারো, মারো মারো ..। মারতে বললাম মারো না।’
এসময় পেছনে এসে এক কিশোরকে বসে থাকা কিশোরীর মাথায় আঘাত করতে দেখা যায়। সজোরে মেয়েটিকে পর পর চারবার থাপ্পড় মারে কিশোর ছেলেটি। ডান হাতে তিনবার ও বাম হাতে একবার বসে থাকা কিশোরী মেয়েটি মারে ছেলেটি। এসময় বলতে শোনা যায় ‘মারলে এভাবেও তো মারা যায়’।
এসময় বসে থাকা নির্যাতিতা কিশোরী বলেন, ‘ভাইয়া প্লিজ..’। কিন্তু ওই কিশোর তার কথা না শুনেই ‘ওকে মারবা কেন’ বলে কিশোরীর মাথায় ও মুখে আঘাত করতে থাকে এবং বলতে থাকে ‘আমাকে চেন তুমি’।
এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি চাইলে তুমি এখান থেকে জিন্দা যাইতে পারবা না। তুমি ওই দিন কোন সাহসে ছুরি নিছ। আমি চাইলে তুমি যেতে পারবা না।’
সেসময় নির্যাতিতা কিশোরী তার হাত ধরে মাফ চাইলেও মন গলেনি তাদের। উত্তরে মারধরকারী কিশোরীকে বলতে শোনা যায়, ‘তুমি জানো, আমি বললে এখানে তোমার লাশ ফেলে দেবে।’
হামলার শিকার কিশোরীর পরিচয় জানা না গেলেও নাম জানা গেছে দুই হামলাকারীর। তারা হলেন, তাহমিনা সিমি ও তার ছেলে সঙ্গী মেহেরুল।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। প্রথমত, ভিডিওটি কোন সময়ের সে বিষয়ে যাচাই করা হচ্ছে। মেয়েটিকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।