বিশ্বজুড়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ

বাংলাদেশ মেইল ::

সারাবিশ্বে করোনা নতুন করে স্বরূপ দেখাতে শুরু করেছে। করোনার ৩য় ঢেউ মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশ নিয়েছে সতর্কতামুলক ব্যবস্থা।

ভারতে একদিনে ৪০ হাজার নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট আবারও সীমিত পরিসরে লকডাউনের কথা ঘোষণা দিয়েছেন। করোনার  তৃতীয় ওয়েব শুরু হয়ে গেছে ফ্রান্সে। একদিনে দেশটিতে ৩৫ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিকে টিকাদান বন্ধ রাখার পর ইউরোপে অক্সফোর্ড- অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রয়োগ শুরু করতে যাচ্ছে। ইউরোপের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাকে নিরাপদ বলে সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ দেশগুলো আবারও এই টিকা প্রয়োগ শুরু করছে।

ইউরোপীয়ান মেডিসিন এজেন্সি (ইএমএ) টিকাটি পরীক্ষা করে দেখতে পায় এর সঙ্গে রক্তে জমাট বাধার ঝুঁকির কোনও সম্ভাবনা নাই। পরে  জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন জানিয়েছে তারা টিকাটি আবারও প্রয়োগ শুরু করবে।

সম্প্রতি ইউরোপের কয়েকটি দেশে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। টিকা নিলে রক্ত জমাট বাঁধছে- এমন অভিযোগের পর সতর্কতার অংশ হিসেবে বেশকিছু দেশ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কর্মসূচি স্থগিত করে। তবে অ্যাস্ট্রাজেনেকার পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সিগুলো জোর দিয়ে বলেছে- এই টিকাটি নিরাপদ।

তবে ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি সিদ্ধান্ত দেওয়ার পরও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে এই টিকাটি কখন আর কিভাবে প্রয়োগ আবারও শুরু হবে। ইতোমধ্যে সুইডেন জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত নিতে তাদের আরও কিছু দিন সময় লাগবে।

ইএমএ’র নির্বাহী পরিচালক এমার কুক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন নিরাপদ ও কার্যকর। কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে এটি গ্রহণে ঝুঁকির চেয়ে উপকার বেশি।

এদিকে বিশ্বে  করোনায় সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির করোনাভাইরাস রিসোর্স সেন্টারের আজ ১৯ মার্চ সকাল ১১টার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১২ কোটি ১৭ লাখ ৪৬ হাজার ১৭৬ জন এবং মারা গেছেন ২৬ লাখ ৯০ হাজার ৮৩৪ জন। এ ছাড়া, সুস্থ হয়েছেন ছয় কোটি ৮৯ লাখ ৬৫ হাজার ১৩৬ জন।

করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন দুই কোটি ৯৬ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪১ জন এবং মারা গেছেন পাঁচ লাখ ৩৯ হাজার ৬৬৩ জন।

যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ও সংক্রমণ দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন এক কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৮২০ জন, মারা গেছেন দুই লাখ ৮৭ হাজার ৪৯৯ জন।