লন্ডনে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল

বাংলাদেশ মেইল ::

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবে লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। গেল মঙ্গলবার  এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র জন বিগস।

এই আয়োজনে সহযোগী থাকছে যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন। ৫০ হাজার পাউন্ড বাজেটের এই আয়োজন আগামী ২৬শে মার্চ থেকে শুরু হয়ে চলবে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত।  ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আয়োজন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র জন বিগস। অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশার সাইদা মুনা তাসনিম।

সংবাদ সম্মেলনে জন বিগস জানান, বৃটেনে বাঙ্গালীর প্রানকেন্দ্র, টাওয়ার হ্যামলেটসে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে, ৯ মাস ব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে । নির্বাহী মেয়র জনবিগস এ সংবাদ সম্মেলনে আরো জানান, কাউন্সিলের প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড ফান্ডিংয়ে, নানা শিল্প-সাংস্কৃতিক আায়োজনের মধ্যে থাকবে, আইকনিক ভবনে লাল-সবুজ লাইটিং। আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।   সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় বৃটেনে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম শহীদ আলতাব আলীর নামে একটি ভবনের নামকরন করা হবে।

বৃটেনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের হাই কমিশনার সাইয়েদা মুনা তাসনিম, সাংবাদিক নাহাশ পাশাসহ অন্যান্যরা ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন।

যুক্তরাজ্যের এই বারা বাঙালী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। বাঙালীদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সোমালিয়ান, ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকের বসবাস রয়েছে এখানে। টাওয়ার হ্যামলেটসে মোট ভোটার রয়েছে প্রায় এক লাখ ৮৫ হাজার। প্রায় এগারো বছর পূর্বে ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে টাওয়ার হ্যামলেটসে প্রথম সরাসরি ভোটের মাধ্যমে মেয়র নির্বাচন শুরু হয়। বারার ভোটারের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়া  নির্বাহী মেয়রের পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জানা গেছে, ২৬৫ দিনের এই আয়োজনে মূল আকর্ষণ হিসাবে থাকবে সবচেয়ে বেশী বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসের আকর্ষণীয় বহুতল ভবন, যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যিক রাজধানী ক্যানারি ওয়ার্ফের সবচেয়ে উঁচু ভবনকে বাংলাদেশের পতাকার লাল সবুজ রঙয়ে রাঙানো। এই আয়োজনে আরো থাকছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে অনলাইন রচনা প্রতিযোগিতা। এ উপলক্ষে একটু বড় আর্ট ফ্রেম বসানো হবে হোয়াইটচ্যাপেলের আইডিয়া স্টোর লাইব্রেরির দেয়ালে। ১৯৭১ সাল নিয়ে অনলাইন বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে দিয়ে তুলে ধরা হবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। এতে ১৯৭০-১৯৭১ সালের ছবি প্রদর্শনী থাকবে ।

মেয়র জন বিগস বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটসের সবচেয়ে বড় শক্তি বহুজাতিক সম্প্রদায়ের মিলেমিশে বসবাস। এরমধ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটি এইবার উন্নয়নে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে। তাদের সংস্কৃতি আমাদের টাওয়ার হ্যামলেটসকে বৈচিত্র্যময় করেছে। আমরা খুব আনন্দিত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে যুক্ত হতে পেরে।

সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের কালচারা কেবিনেট মেম্বার কাউন্সিলার সাবিনা আখতার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্পিকার কাউন্সিলার মোহাম্মদ আহবাব হোসাইন, কাউন্সিলার আবদাল উল্লাহসহ আরো অনেকে।