হেফাজতের বিক্ষোভকে কাজে লাগাতে চায় বিএনপি

বাংলাদেশ মেইল ::

সরকারকে বড় ধরনের চাপে ফেলতে হেফাজতের বিক্ষোভ  কর্মসূচিকে কাজে লাগাতে চায় বিএনপি ।  ঢাকাসহ সারাদেশে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ  সমাবেশে সক্রিয় সমর্থন ও অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করেছে দলটি ।

এ সপ্তাহে একদিকে হেফাজতের বিক্ষোভ  সমাবেশ, অন্যদিকে বিএনপির  কর্মসূচি থাকবে। বিএনপির কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসা নেতা-কর্মীরা হেফাজতের কর্মসূচিতেও যোগ দেবে। বিএনপি ও দলীয় জোটে থাকা হেফাজতে ইসলামের বেশ কয়েকজন নেতার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, হেফাজত ঘোষিত শনিবারের বিক্ষোভ  কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে শুক্রবার লন্ডন থেকে টেলি কনফারেন্স করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। টেলি কনফারেন্সে হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা আবদুল কাদের বাচ্চু অংশ নেন।  জানা গেছে, তারেক জিয়া তাদের এই বলে আশ্বস্ত করেন যে অতীতের মতো বিএনপি তাদের পাশে থাকবে এবং সব ধরনের সহায়তা করবে। এ সময় তিনি সরকারের ইসলামীবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জনগণকে আরো সজাগ করে তোলার বিষয়েও কথা বলেন।

সূত্র মতে, টেলি কনফারেন্সে আলোচনা করেই রবিবার সারাদেশে হরতালের ঘোষনা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। শনিবারের বিক্ষোভে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মিদের হেফাজতের সাথে মাঠে তাদের নির্দেশ দেবেন এমন নিশ্চয়তা পেয়ে মোদী বিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে একজোট হেফাজতে ইসলাম।

শুক্রবার রাতে ছাত্রদল যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এক বিবৃতিতে শনিবার দেশব্যাপী  বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষনা দেন।

ঢাকা সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে ৫ জন নিহত হবার পর  এই বিক্ষোভ  কর্মসূচিকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে কাজে লাগাতে চায় বিরোধী জোট।

ঢাকা মহানগর বিএনপির একাধিক সূত্র  নিশ্চিত করেছে, হেফাজতের ওই কর্মসূচিতে সর্বাত্মক সহায়তা করবে তারা। প্রয়োজনে নিজ দলের নেতা-কর্মীদেরও তাতে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে শীর্ষপর্যায় থেকে। মহানগরের নেতারা আরো বলেছেন, আসছে ২৮ মার্চের হরতালে  একাত্মতা জানাবে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ  কর্মসূচি বিএনপি নীতিগত ভাবে সমর্থন করবে। কারন নিরস্ত্র জনতার উপর গুলি চালানো হয়েছে স্বাধীনতা দিবসে৷ এটা কখনোই প্রত্যাশিত ছিল না। মোদী বিরোধী প্রচারণার সঙ্গে বিএনপি বা ১৮ দলের কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক নেই। ইস্যু ভিন্ন হলেও বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনও অনেকটাই সরকারের বিরুদ্ধে। এর জন্যই বিএনপির সঙ্গে হেফাজতের এক ধরনের যোগাযোগ আছে। বিএনপি ও হেফাজতের কর্মসূচি পাশাপাশি চলবে।

ওই নেতার ধারণা, বিএনপি ও হেফাজতের বিক্ষোভ  কর্মসূচি সরকারের বাধার সম্মুখীন হবেই। এর জন্য যতটা সম্ভব কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। এ ছাড়া হেফাজতের কর্মসূচি সফল করতে সহযোগিতা দেওয়ার জন্য বিএনপি তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন জেলার নেতাদের প্রস্তুতি নিতে বলেছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে ঢাকা ও পাশের জেলাগুলোকে সর্বশক্তি দিয়ে হেফাজতকে সহায়তা করতে বলা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, হেফাজতের হরতাল সফল করে তোলার লক্ষ্যে  জামায়াতে ইসলামীও একটি বড় ভূমিকা রাখবে। তাদের সঙ্গে ইসলামী ঐক্যজোট ও খেলাফত মজলিসের বেশ কয়েকজন নেতা ওই কর্মসূচি সফল করতে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ইসলামী ঐক্যজোট ও খেলাফত মজলিসের বেশ কয়েকজন নেতা সরাসরি হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে জড়িত।

তারেক জিয়ার সঙ্গে টেলি কনফারেন্সে অংশ নেওয়া হেফাজতের এক নেতা  জানান, বিএনপি বিক্ষোভ  কর্মসূচির বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি হরতালের দিন সমাবেশে বিপুল জনসমাগম ঘটাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোরও পরামর্শ দিয়েছেন।

কর্মসূচিতে বিএনপির সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, হেফাজতের আন্দোলন ইমানি আন্দোলন। ইমান রক্ষায় বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি বা ইসলামী দলগুলো যেমন অতীতে হেফাজতকে সমর্থন দিয়েছে, ভবিষ্যতেও তা থাকবে।

প্রসঙ্গত, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ঢাকা মহানগরের প্রয়াত আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা শাপলা চত্বরে হেফাজতের ২০১৪ সালের ৫ মের সমাবেশে মঞ্চে গিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন। বিভিন্ন স্থানে হেফাজতের নেতা-কর্মীদের জন্য খাবার ও পানির ব্যবস্থা করেছিল বিএনপি-জামায়াত-জাতীয় পার্টি। সেই সময়ে বিএনপির সমর্থনের ঘোষনা দেবার পরই সরকার কঠোর হয়ে দমন করে শাপলা চত্বরে জমায়েত হওয়া হেফাজত কর্মিদের।