রেলের আলোচিত খালাসি নিয়োগ দূর্নীতি, ১২ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

বাংলাদেশ মেইল ::

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে খালাসি নিয়োগে দূর্নীতি ও ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ সাবেক মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ ফারুক হোসেনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। বুধবার দুদুক সমন্বিত চট্টগ্রাম  জেলা কার্যালয় -২ উপ সহকারী  পরিচালক শরিফ উদ্দিন এই মামলা দায়ের করেন।

দুদুক সমন্বিত চট্টগ্রাম  জেলা কার্যালয় -২ উপ সহকারী  পরিচালক শরিফ উদ্দিন জানান, ২০১৯ সালে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ও সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার খালাসি পদে ৮৬৩ জনের নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে। ১৯ জন প্রার্থীকে প্রতারনা করে অসৎ উদ্দেশ্য নিয়োগ প্রদান, ২ জন প্রার্থীকে একই সাথে চার জেলা থেকে নিযোগ দেয়া করা হয়েছে। বয়স্ক ও জাল সনদধারী লোকদের নিয়োগ দিয়ে পরস্পরের যোগসাজশে এক কোটি দুই লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঘুষ গ্রহন করেছেন অপরাধীরা।

মামলায় বাকি আসামিরা হলেন, খালাসি নিয়োগ কমিটির আহবায়ক ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের উপ প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, সাবেক সিনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসার জোবেদা আক্তার, প্রাক্তন প্রধান ব্রিজ ইন্জিনিয়ার (পূর্ব) রফিকুল ইসলাম, এমএলএসএস হারাধন দত্ত, শাহাজান পুর রেলওয়ে উচ্চ সরকারী  বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা সুরাইয়া সুলতানা, খালাসি আবুল বশর খান,  প্রধান সহকারী সিপিও খন্দকার সাইফুল ইসলাম মামুন, টিকেট প্রিন্টিং প্রেস কলোনী হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সচিব মৃনাল ক্লান্তি দাশ, শাহাজানপুর রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী আক্তার হোসেন, মেসার্স ফাতেমা এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর আমিরুজ্জামান আশিষ, মেসার্স প্রান্ত শান্ত এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর পারভিন আক্তার।

মামলার এজাহারে আসামীদের অপরাধকাল দেখানো হয়েছে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত। কারন  নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ছয় বছর পর সম্প্রতি ফলাফল প্রকাশিত হয়। এতে, একাধিক পদে এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া এক ব্যক্তিকে দুই জায়গা থেকে নিয়োগ দেয়ার ঘটনাও ঘটেছিল।চট্টগ্রাম রেলওয়ের নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কর্মরত মোহাম্মদ ইউসুফ রায়হানকে ঢাকা বিভাগ থেকে খালাসি পদে নিয়োগ দেয়া হলেও, জামালপুর থেকে তাকেই আবার একই পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

আরিফ হোসেন নামে আরেকজন, গেইটকিপার ট্রাফিকে কর্মরত ছিলেন রাজশাহীতে। কিন্তু ঠাকুরগাঁও জেলা কোটায় খালাসি পদে চাকরি হয়েছে তার। খালাসি পদের পাশাপাশি আরিফের ওয়েম্যান পদেও চাকরি হয় ঠাকুরগাঁও থেকে। একইসঙ্গে তার বোন আয়েশা সিদ্দিকা রাত্রির চাকরি হয়েছে খালাসি পদে। আরিফ হোসেনের মতো রেলে কর্মরত এমন অনেকেই খালাসি পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন ।