হেফাজতের তাণ্ডবের পাঁচদিন পর হাটহাজারী থানায় পৃথক ৬ টি মামলা দায়ের

বাংলাদেশ মেইলঃঃ

 

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হেফাজতের তাণ্ডবের পাঁচদিন পর হাটহাজারী থানায় পৃথক ৬ টি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় নাম উল্লেখ ছাড়া ২৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে এসব মামলা করা হয়।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী সার্কেলের এএসপি মসিউদৌলা রেজা।

থানা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয় ও সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গত ২৬ মার্চ হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের তাণ্ডবের ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের নাজির একরামুল হক শিকদার এবং সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আক্তার কামাল চৌধুরী বাদি হয়ে দুটি ও হাটহাজারী থানায় হামলা, পুলিশের কাজে বাঁধা, পুলিশ সদস্যদের মারধর অগ্নিসংযোগের অভিযোগে পুলিশ বাদি হয়ে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করেছে।

মামলা ৬ টিতে ২৫০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তবে মামলার এজাহারে তাণ্ডবে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিলেও টাকার অংকে তা উল্লেখ করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে হেফাজতকর্মীদের তাণ্ডবে সদর ভূমি অফিস ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এসি ল্যান্ড অফিসও।

তাণ্ডব চালিয়ে হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা উপজেলা সদর, ফতেপুর ও মেখল ইউনিয়নের ১৭টি মৌজার নামজারি খতিয়ান, খাজনা ও খতিয়ান বইসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দলিল-দস্তাবেজ তছনছ করে।

এসি-ল্যান্ড শরীফ উল্যাহ’র সরকারি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এসি-ল্যান্ড অফিসের বাইরে লাগানো ৬টি সিসিটিভি ক্যামেরাও ভাংচুর করে তারা। সেদিন মূল ফটক বন্ধ থাকায় সীমানা দেয়াল টপকে সদর ভূমি ও এসি ল্যান্ড অফিসে ঢুকে তারা।

হেফাজতের নাশকতার টার্গেট সরকারি দপ্তর কেন?

চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা আগুন দিয়েছে থানা ও ভূমি অফিসে। অতীতে এই দলটির বিরুদ্ধে থানাসহ রাজপথে ব্যাপক সহিংসতায় জড়ানোর রেকর্ড থাকলেও কোনো সরকারী দপ্তরে অগ্নিসংযোগ করার মত নাশকতার অভিযোগ মেলেনি। কিন্তু মোদিবিরোধী কর্মসূচিতে নেমে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় প্রবেশ করে ভাংচুর ও নথি পোড়ানোর মত নাশকতায় তারা কেন জড়ালো সে বিষয়টি ভাবাচ্ছে প্রশাসনকে।

আবার হেফাজতের মিছিল-সমাবেশের আড়ালে অন্যকোনো পক্ষ সরকারী অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটাচ্ছে কী-না তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে ।

জানা গেছে, শুক্রবার (২৬ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে হাটহাজারী দারুল উলুম মইনুল ইসলাম মাদরাসা এবং পার্শ্ববর্তী কয়েকটি মাদ্রাসা ও মসজিদ থেকে মিছিল বের করে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। এ সময় মিছিল থেকে হাটহাজারী থানায় ভাংচুর করা হয়।

পরে তারা হাটহাজারী উপজেলা ভূমি অফিসে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় ভূমি অফিসে নথি বের করে এনে তাতে আগুন দেওয়া হয়। তাদের অগ্নিসংযোগ থেকে বাদ যায়নি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতেও। পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালায়।

এ বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন বলেন, ‘মাদ্রাসার ছাত্ররা ভূমি অফিসে আগুন দিয়ে হাটহাজারীবাসীর অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করেছে। যার কারণে সবাইকে ভোগান্তিতে পড়তে হবে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট ড. মোহাম্মদ মাসুম চৌধুরী বলেন, “উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা করে প্রাথমিকভাবে সুবিধা পাওয়া গেলেও চূড়ান্তভাবে এরা ক্ষতিকর। এদের সঙ্গে সমঝোতা করে অতীতে অনেক জাতি ধ্বংস হয়েছে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তান তার জ্বলন্ত উদাহরণ। যেকোনো আন্দোলন বা প্রতিবাদের শিষ্টাচার আছে। হেফাজতে ইসলাম নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ প্রদর্শন করেছে৷ থানা কিংবা ভূমি অফিস জনগণের সম্পদ। এসবের ক্ষতি করা কোনো আন্দোলনের কর্মসূচি হতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “নরেন্দ্র মোদির সফরকে ঢাল হিসেবে দেখিয়ে হেফাজতে ইসলাম সরকারকে তাদের অতীতের আচরণ স্মরণ করিয়ে দিতে চাইছে। কারণ হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্ব নির্বাচনে এবার সরকারপন্থি কওমী নেতাদের হস্তক্ষেপ ছিল। কিন্তু হেফাজতে ইসলামের ভেতরে থাকা সরকারপন্থিরা হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে আসতে পারেনি। এসব নিয়ে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারা সরকারের বিরুদ্ধাচারণ করছেন নানাভাবে। যার ফলে মোদিবিরোধী কর্মসূচির নামে তারা সহিংসতা প্রদর্শন করে থাকতে পারে।”