হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে
১১ জন বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি উস্কানিমুলক

বাংলাদেশ মেইল ::

সম্প্রতি ১১ জন বিশিষ্ট নাগরিক হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে যে বিবৃতি দিয়েছেন তাকে ‘অমানবিক ও উস্কানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী আজ গণমাধ্যমে এক বিবৃতি পাঠিয়েছেন।

ফেস দ্যা পিপলেও বিবৃতির কপি পাঠিয়েছেন মাওলানা ইসলামাবাদী। বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশপ্রেমিক ও ধর্মপ্রাণ প্রতিবাদী জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে একদল গণবিচ্ছিন্ন তথাকথিত বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতিকে আমরা অমানবিক, উস্কানিমূলক ও গণবিরোধী বলে মনে করছি। এই বিবৃতি স্বৈরতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের নির্লজ্জ দালালির প্রমাণ বহন করে।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, হেফাজতে ইসলামের আহ্বানে দেশব্যাপী পালিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও হরতালের কর্মসূচি চলাকালে প্রতিবাদকারী আলেমসমাজ, মাদরাসা শিক্ষার্থী ও ধর্মপ্রাণ মানুষদের ওপর বিনা উস্কানিতে পুলিশ কর্তৃক নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাযজ্ঞের পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র গণপ্রতিরোধ গড়ে ওঠে। পুলিশের গুলিতে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা না জানিয়ে একতরফাভাবে প্রতিবাদী জনতার গণপ্রতিরোধকে আপনারা তথাকথিত ‘তাণ্ডব’ আখ্যা দিয়ে গণবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। ইসলামবিদ্বেষ ও সেকুলার মতাদর্শে আপনারা এতোই অন্ধ যে, আপনাদের বিবৃতিতে পুলিশের গুলিতে শহিদ হওয়া ১৭ জন নাগরিকের প্রতি কোনো ধরনের মানবিক সমবেদনা প্রকাশ পায়নি। বরং আপনারা বিবেকবুদ্ধি জলাঞ্জলি দিয়ে দালালির নজরানা পেশ করতে প্রতিবাদী ধর্মপ্রাণ গণমানুষের ওপর ‘সর্বশক্তি প্রয়োগে’র আহ্বান জানিয়ে প্রকারান্তরে জালিম ক্ষমতাসীনদেরকে মানুষ হত্যায় উৎসাহ দিয়েছেন। এজন্য ভবিষ্যতে আপনাদেরকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যখন সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃক ফেলানীসহ বাংলাদেশিদের গুলি করে হত্যা করা হয়, তখন আপনাদের বিবৃতি কোথায় থাকে? নিবর্তনমূলক ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে গ্রেপ্তার হওয়া লেখক মুশতাক আহমেদ সম্প্রতি কারান্তরীণ অবস্থায় মারা যাওয়ার পর আপনাদের কোনো বিবৃতি বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন কর্তৃক শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারী নিরীহ ছাত্রদের ওপর নৃশংস হামলা হলে আপনাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেলেও আপনাদের টু শব্দও শোনা যায় না। জনগণের কোনো ইস্যুতেই আপনাদেরকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে দেখা যায় না। তাহলে আপনারা কোন মুখে নিজেদের ‘বিশিষ্ট নাগরিক’ দাবি করেন? ক্ষমতাসীনদের দালালি ও মতাদর্শিক গোঁড়ামিতে বুঁদ হয়ে থাকতে থাকতে আপনারা গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।