চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্তের অর্ধেকই যুবক

বাংলাদেশ মেইলঃঃ

গেল এক মাস থেকেই চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। সাথে মৃত্যুর সংখ্যাটাও। হাসপাতালেও রোগীর সংখ্যা আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গেল কয়েক মাসের চিত্র যেখানে স্বস্তি জুগিয়েছিল, সেটি এখন পুরোপুরিই দিনের দিন অস্বস্তিকর হয়ে ওঠছে। আক্রান্তের পরিসংখ্যানের তথ্যেও দেখা যাচ্ছে ভয়াবহতা। বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যায় বেশিরভাগ আছেন যুবকরাই। এরমধ্যে মোট আক্রান্তের প্রায় অর্ধেকই দখলে নিয়েছেন তারা। আর বেশি আক্রান্ত হওয়ার কারণ হিসেবে-মধ্যবয়সী এসব যুবকদের অযথা চলাফেরা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণকেই দায়ী করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

তথ্য অনুসারে, গতকাল বুধবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এরমধ্যে ২০ বছর থেকে ৪০ বছর বয়সীদের আক্রান্তের সংখ্যাই হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। প্রায় অর্ধেকই অর্থাৎ ৪৪ শতাংশ তাদের দখলে রয়েছে। আক্রান্তের মধ্যে ১৭ হাজার ৩৪৬ জনই এ বয়সী। যাদের মধ্যে ৭২ শতাংশই হচ্ছে পুরুষ। অন্যদিকে, আক্রান্তের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সীরা। মোট আক্রান্তের ১৯ শতাংশই হচ্ছেন এ বয়সীরা। বাকিদের মধ্যে ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী ১৫ দশমিক ২১ শতাংশ, ৬০ উর্ধ্বে ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ, ০ থেকে ১০ বছর বয়সী ৩ শতাংশ, ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী ৭ শতাংশ।

যুবকদের আক্রান্ত হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় দায় স্বাস্থ্যবিধি না মানা ও অযথা চলা ফেরা বলে মনে করছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির। তিনি জানান, কাজ ছাড়াই অযথা রাস্তা ঘাটে ঘুরছেন অধিকাংশ যুবক। দলবেঁধে বিভিন্ন স্থানে আড্ডা দিচ্ছেন, স্বাস্থ্যবিধিতো মানার বালাই নেই, নেই মাস্কও। যার কারণে তাদের মধ্যেই আক্রান্তের হার বাড়ছে। তারা যদি সচেতন হয়, অবশ্যই সংক্রমণ কমে আসবে।

নতুন করে আক্রান্ত আরও ২৯০ : চট্টগ্রামে একদিনে আরও ২৯০ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া গেছে। যাদের ২৫৪ জনই নগরীর বাসিন্দা। এ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৯ হাজার ৯৯৬ জনে এসে দাঁড়িয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যে জানানো হয়, মঙ্গলবার চট্টগ্রামের সরকারি বেসরকারি সাতটি ও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে সর্বমোট ২ হাজার ৯২৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ২৯০ জনের ফলাফল পজিটিভ আসে। নমুনা বিবেচনায় শনাক্তের হার প্রায় ১০ শতাংশ।  এদিকে, একই সময়ে আক্রান্তদের মধ্যে নতুন করে ৩৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেছেন। এ নিয়ে আক্রান্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ওঠেছেন ৩৪ হাজার ৪ জন। তবে এদিন আক্রান্তের মধ্যে কোন রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।