চট্টগ্রামে বিধ্বংসী চেহেরায় করোনা,বাড়ছে সংক্রমণ

বাংলাদেশ মেইল ::

গেল বছরের এপ্রিল থেকে করোনার সাথে পরিচিত চট্টগ্রামবাসী। বছর শুরু থেকে আবারো পুরোনো রূপে ফিরেছে করোনা পরিস্থিতি। দিন দিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সেই সাথে মৃত্যুর তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে।

বুধবার (৩১ মার্চ) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী যেখানে করোনা শনাক্তের হার ছিল ১০.০০ শতাংশ সেখানে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বৃহস্পতিবার (০১ এপ্রিল) শনাক্তের হার ২৫.৭৩ শতাংশ!

বুধবার (৩১ মার্চ) যেখানে দুই হাজার ৯২৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৯০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে, সেখানে বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) এক হাজার ১১৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৮৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে!

সবমিলিয়ে চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৪০ হাজার ২৮৩ জন। এরমধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরে ৩২ হাজার ৬২ জন ও চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলায় আক্রান্ত আট হাজার ২২১ জন। বৃহস্পতিবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরো দু’জন মারা গেছেন। করোনা সংক্রমণে ঝুঁকিপুর্ণ ২৯ জেলার তালিকায় উপরের দিকে আছে চট্টগ্রাম। এ নিয়ে চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ৩৮৮ জন।

চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ লাফিয়ে বাড়লেও এখনও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষই উদাসীন। করোনা সংক্রমণরোধে সরকার নির্দেশিত ১৮ দফাও উপেক্ষিত। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে কঠোর নিদের্শনা জারি করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার এক গণবিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সব ধরনের জনসমাগম ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। ওই গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চট্টগ্রামে সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক কর্মসূচি স্থগিত করা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি সীমিত করতে হবে। মসজিদসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। পর্যটন, বিনোদন কেন্দ্র, সিনেমা হল, থিয়েটার হল, মেলার আয়োজন ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

এছাড়াও গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। ধারণক্ষমতার ৫০ ভাগের বেশি যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আন্তঃজেলা যান চলাচল সীমিত করতে হবে, প্রয়োজনে বন্ধ করতে হবে। বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের ১৪ দিন পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক (হোটেলে নিজ খরচে) কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ঘোরাফেরা, আড্ডা বন্ধ করতে হবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাত ১০টার পর বাইরে বের হওয়া যাবে না।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বাইরে গেলে মাস্ক পরাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। মাস্ক না পরলে কিংবা স্বাস্থ্যবিধি লংঘন করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হোটেল-রেস্তোরাঁসমূহে ধারণ ক্ষমতার ৫০ ভাগের বেশি মানুষ প্রবেশ করা যাবে না।

কিন্তু করোনা সংক্রমণরোধে সরকার নির্দেশিত ১৮ দফা কিংবা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারিকৃত স্বাস্থ্যবিধি মানতে কঠোর নিদের্শনা মানছে না চট্টলাবাসী। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে নগরবাসীকে বাধ্য করার জন্য এখনও প্রশাসনিক কোনো উদ্যোগও দেখা যায়নি।

১৫ মার্চ থেকে ঘরের বাইরে মানুষ যাতে মুখে মাস্ক পরে বের হয়, সেটি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের ছয়জন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে নামেন। এর দু’দিন পর থেকে মাঠ পর্যায়ে তাদের আর তৎপরতা দেখা যায়নি। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযান অব্যাহত থাকলেও ৬০ লক্ষাধিক মানুষের মহানগরী চট্টগ্রামে তা একেবারেই অপ্রতুল।

তাই চট্টগ্রাম নগরীতে এখনও মুখে মাস্ক না পরে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন অনেকেই। নগরীর মার্কেট-দোকানপাট, অফিস-আদালত, কল-কারখানা, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, রাস্তাঘাট ও বাজার এমনকি হাসপাতাল-ক্লিনিকসহ সবখানেই স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মানা হচ্ছে না।

দূরপাল্লার বাসগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী নেয়া হলেও নগরীতে গণপরিবহণে সেটি মানা হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, বাড়তি ভাড়া ঠিকই আদায় করা হচ্ছে গণপরিবহণে, কিন্তু ঠিকই আগের মতো দাঁড় করিয়েও নেয়া হচ্ছে যাত্রী। কিছু কিছু ক্ষেত্রে গাড়ির সংকটের কারণে যাত্রীরা জোর করে বাসে উঠে যাচ্ছেন বলেও জানা গেছে।