নিষেধাজ্ঞার পরও
চট্টগ্রামে বন্ধ হয়নি ফয়’স লেক, জনসমাগমে শেষ হলো বালি আর্কেটের জমকালো উদ্বোধন

সাইফুল আলম, বাংলাদেশ মেইল ::

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ছুটির দিন শুক্রবারও খোলা ছিল চট্টগ্রামের  ফয়’স লেক। অথচ গত বৃহস্পতিবার করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে বিনোদনকেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার, পর্যটনকেন্দ্রসহ সব ধরনের জনসমাগম ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। শুক্রবার ওষধ কাঁচাবাজার ছাড়া সব ধরনের দোকানপাট সন্ধ্যা ছয়টায় বন্ধের নির্দেশও দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বাস্তবে দেখা যায়  গণবিজ্ঞপ্তি জারির একদিন পরও শুক্রবার (২ এপ্রিল) খোলা আছে চট্টগ্রাম শহরের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র ফয়’স লেক। এছাড়া নগরীর চকবাজারে বালি আর্কেট নামের একটি শপিং মলের উদ্বোধনী আয়োজনে কোন ধরনের স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে যোগ দিয়েছে অন্তত দশ হাজার মানুষ।

তবে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা পেয়ে বন্ধ হয়ে যায় কাজির দেউড়ী শিশু পার্ক, আগ্রাবাদ শিশু পার্ক, বহদ্দারহাটের স্বাধীনতা পার্কসহ শহরের অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্র। সব বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ আর ফয়’স লেক খোলা থাকায় এখানে ভিড় করেছে হাজার হাজার মানুষ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী  বলেন, ‘ফয়’স লেক খোলা আছে কি না জানি না। বিষয়টি আমি দেখছি।

একই উত্তর তার বালি আর্কেট উদ্বোধন অনুষ্ঠানের জনসমাগম নিয়েও। পুলিশের সহযোগিতায় মুল সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে জমকালো আয়োজন সেরেছে জাতীয় পার্টির নেতা সোলাইমান আলম শেঠের মালিকানাধীন শেঠ প্রফার্টিজ। সেই আয়োজনে ঢাকা থেকে আসা জনপ্রিয়  অভিনেত্রী জয়া আহসান হতে শুরু করে কারোই মুখেই মাস্ক দেখা যায়নি। দর্শনার্থীদের মাঝেও বালাই ছিল না করোনা সচেতনতার।

সর্বোচ্চ করোনা শনাক্তের দিনে চট্টগ্রাম নগরীর সাধারন মানুষ মুখোমুখি হলো একই দেশে ভিন্ন আইনের। ফুটপাতের খেটে খাওয়া মানুষকে সড়ক থেকে তুলতে দেখা গেলেও বালি আর্কেট কিংবা ফয়’স লেক বন্ধ করার কোন ধরনের উদ্দ্যেগ দেখা যায়নি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

জেলার বিভিন্ন ল্যাবে ২ হাজার ৫৩৫ নমুনা পরীক্ষা করে ৫১৮ জন করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হবার পরও নতুন নির্দেশনা দিয়েই দায় সেরেছে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন।

বাংলাদেশ মেইল |ডেস্ক | সাইফুল