বিজিএমইএ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে

বাংলাদেশ মেইল ::

সমঝোতা কিংবা মেয়াদ বাড়ানো, সবকিছু পেছনে ফেলে দীর্ঘ ৮ বছর পর করোনা মহামারির মধ্যেই আজ রবিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ’র নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

এমন একটি সময়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন করোনার ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে গোটা বিশ্ব। আগামীকাল সোমবার থেকে লকডাইনে যাচ্ছে দেশ। ক্রয়াদেশ কমায় রপ্তানি আয়ের প্রধান এই খাতও বিপর্যয়ে। নির্বাচনকে ঘিরে তাই ভোটারদের আগ্রহও একটু বেশি। রাজধানীর হোটেল রেডিসান ব্লু চট্টগ্রামের বিজিএমইএর নিজস্ব কার্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে এই ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্যানেল সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম প্রচারণার মাঠেও ছিল বেশ সরব। যদিও করোনার কারণে শেষের দুটি অনুষ্ঠান বাতিল করে পরিষদ ও ফোরাম। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্যানেল ও ব্যক্তিগতভাবে এবারের নির্বাচনে সবমিলে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। নতুন প্রতিশ্রুতি, অতীতের অবদান ও এক পক্ষ অন্য পক্ষের প্রতি কাদা ছোড়াছুড়িও ছিল চোখে পড়ার মতো।

রাজধানীর হোটেল রেডিসনে সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। একইসময় চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য বিজিএমইএ’র চট্টগ্রাম কার্যালয়ে শুরু হয়েছে ভোট।

নির্বাচন বোর্ড সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সবাই মাস্ক পরে কেন্দ্রে আসছেন। প্রার্থীর সমর্থকদের অযথা জটলা না করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে। করোনা প্রটোকল মেনে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমোদন রয়েছে। সাংবাদিকদের জন্য আলাদা বুথ স্থাপনের পাশাপাশি নির্বাচন বোর্ড প্রতি ঘণ্টায় আপডেট তথ্য দেবে।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ২ হাজার ৩১৪ জন। এদের মধ্যে ঢাকা অঞ্চল থেকে ১ হাজার ৮৫৩ জন এবং চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে ৪৬১ জন। ভোটাররা ঢাকা অঞ্চল থেকে ২৭ জন এবং চট্টগ্রাম থেকে ৮ জন পরিচালক নির্বাচন করবেন। পরিচালকরা ১ জন সভাপতি, ঢাকা থেকে ৫ জন সহসভাপতি এবং চট্টগ্রাম থেকে ২ জন সহসভাপতি নির্বাচিত করবেন। আগামী ২০ এপ্রিল নতুন পর্ষদ দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

সম্মিলিত পরিষদের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি ফারুক হাসান এবং ফোরামের সভাপতি প্রার্থী হান্নান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি এবিএম সামছুদ্দিন। বিজিএমইএ এখন পর্যন্ত ১৪ বারে ১৩ জন সভাপতি পেয়েছেন। এদের মধ্যে সম্মিলিত পরিষদ ৯ বার এবং ফোরাম ৪ বার জয় পায়। সম্মিলিত পরিষদের মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস ২ বার সভাপতি হয়েছেন। ফোরাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক নির্বাচনে একমাত্র জয়ী সভাপতি সিনহা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুর রহমান সিনহা। অন্যদিকে সম্মিলিত পরিষদ থেকে নির্বাচিত সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী পূর্ণ প্যানেলে জয়লাভ করেছিলেন।

বিজি্এমইএতে সবশেষ প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালে। রানা প্লাজা ধ্বসের পর সমঝোতার মাধ্যমে বিজিএমইএ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৫ সালে সমঝোতার ভিত্তিতে সভাপতি হয়ে সিদ্দিকুর রহমান ২ বছরের স্থলে ৩ বছর ৫ মাস দায়িত্ব পালন করেন। চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৯-২১ মেয়াদে ফোরাম থেকে সভাপতি হয়।

নির্বাচনে উভয় পক্ষই জয়ের বিষয়ে আশাবাদি। যদিও সভাপতি প্রার্থী কে হবেন তা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বর্তমান পর্ষদে ফোরাম থেকে নির্বাচিত পরিচালক শহিদুল হক মুকুলসহ জ্যেষ্ঠ অনেক ফোরাম নেতা সম্মিলিত পরিষদে যোগ দিয়েছেন। মুকুল সম্মিলিত পরিষদ থেকে নির্বাচনও করছেন।

অন্যদিকে স্বাধীনতা পরিষদকে নিজেদের সঙ্গে নিয়েছে সম্মিলিত পরিষদ। তাদের প্রচারণায় মন্ত্রী, এমপি ও মেয়ররা অংশ নিলেও ফোরামের প্রচারণায় প্রধান আকর্ষণ ছিল ফোরামের সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনওয়ারুল আলম পারভেজ ও বর্তমান সভাপতি রুবানা হক এবং সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান সিনহা। উভয় পক্ষই তাদের অতীতের অর্জনকে ভোটারদের সামনে তুলে ধরেছেন।