মামুনুল হকের আটকের খবরে মহেশখালীতে হিন্দুদের উপর তান্ডব

বাংলাদেশ মেইল ::

হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকের আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে মহেশখালীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরে তান্ডব চালায় হেফাজতের সমর্থকরা। গতকাল শনিবার সন্ধ্যার পর নতুনবাজার থেকে উপজেলা সদরের দিকে হেফাজতের মামুনুল হকের অনুসারীরা একটা মিছিল করে। মিছিল শেষে আবার ফিরে যাওয়ার সময় কালী মন্দিরের টিনের সীমানা প্রাচীর এবং ঐ এলাকার হিন্দুদের বাড়ীঘরের সীমানা প্রাচীর ভেঙে দিয়ে চলে যায়।

এছাড়া গভীর রাতে হেফাজতের ব্যানারে হঠাৎ দফায় দফায় লাঠি মিছিল হয়েছে। মিছিল থেকে বিভিন্নস্থানে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এছাড়া কালারমার ছড়ায় যুবলীগ নেতার বাড়িতে হামলা, বৌদ্ধ মন্দিরে হামলারচেষ্টা, মহেশখালী আওয়ামী লীগ অফিসে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ এবং উপজেলা প্রশাসন ও থানা এলাকায় হামলা হয়েছে।

এসময় পুলিশকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টাকালে হেফাজত কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছে একাধিক পুলিশ সদস্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ ফাঁকা গুলিও ছুঁড়েছে।

এসব ঘটনায় রাতেই মহেশখালী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে প্রায় ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এ ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তারেক রহমান জুয়েলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

হেফাজতের ব্যানারে মূলত জামায়াত-বিএনপির লোকজন এ তাণ্ডব চালিয়েছে বলে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন।

পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ‘অবরুদ্ধ’ হয়েছেন- এমন খবর মহেশখালী এসে পৌঁছালে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো মহেশখালীর বিভিন্ন স্থানে হেফাজতের ব্যানারে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। গ্রাম এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে বাজার এলাকায় জড়ো হয়। রাত ১২টার কিছু সময় পর একটি বিশাল লাঠি মিছিল বড় মহেশখালী থেকে উপজেলা সদরে আসে, মিছিলটি পৌর শহরের গোরকঘাটা বাজার থেকে সড়কের দু’পাশে ভাঙচুর চালিয়ে উপজেলা পরিষদ এলাকায় যায়, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কাছের জানালা ভাঙচুর করে।

স্থানীয়রা জানান, মহেশখালীর পাল পাড়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু বাড়ি ঘরে উপর হামলা হয়েছে। কালামারছাড়া,বড়ুয়া পাড়া বাজারে সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে, মন্দির ও ঘরবাড়িতে ভাংচুর হয়েছে।

এ বিষয়ে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাই  বলেন, হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে।

মহেশখালী-কুতুবদিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাহেদুল ইসলাম  বলেন, ইতোমধ্যে মহেশখালীতে অতিরিক্ত পুলিশ আনা হয়েছে। সমগ্র বিষয়টিকে কঠোরভাবে দেখছে পুলিশ।