আজীবন ক্ষমতায় থাকতে পুতিনের নয়া আইন

বাংলাদেশ মেইল ::

আগামী ২০৩৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার পথ পোক্ত করতে নতুন একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সোমবার নতুন এই বিলের অনুমোদন দেওয়ায় আরো দুই মেয়াদে এক যুগের জন্য দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন তিনি। রয়টার্স।

ক্রেমলিনের বিরোধী সমালোচকরা বলছেন, পুতিন নতুন আইনের মাধ্যমে আরো দু’বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে পারবেন। এই উদ্যোগ পুতিনকে ‌‘আজীবনের প্রেসিডেন্ট’ হওয়ার সুযোগ করে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন তারা।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতাসীন রাশিয়ার প্রসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (৬৮) সোমবার বিলটিতে স্বাক্ষর করায় তা আইনে পরিণত হয়েছে। দেশটির সরকারের আইনি তথ্য পোর্টালে এই বিলের একটি কপি পোস্ট করা হয়েছে।

সংবিধান সংস্কারের অংশ হিসেবে গত বছর পুতিন এই বিলের প্রস্তাব করেছিলেন। গত জুলাইয়ে এ নিয়ে দেশটিতে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হলে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ তাতে সায় দেন। গত মাসে দেশটির আইনপ্রণেতারা নতুন এই বিলটির অনুমোদন দেন।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে ক্ষমতায় আছেন পুতিন। এক মেয়াদে ছয় বছরের ক্ষমতা নিশ্চিত হওয়ায় পুতিনের চলমান প্রেসিডেন্টের দফতর সামলানোর মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২০২৪ সালে। নতুন বিলে অনুমোদন দেওয়ায় আরো দু’বার দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন তিনি।

এর আগে, ২০০০ সালে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন পুতিন। সেই সময় টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দেশটির প্রেসিডেন্টের মেয়াদ চার বছরের জন্য নির্ধারিত থাকলেও পরবর্তীতে সংবিধানে সংশোধনী এনে তা ছয় বছর করেন পুতিন।

২০০৮ সালে ভ্লাদিমির পুতিনের স্থলাভিষিক্ত হন তার ঘনিষ্ঠ মিত্র দিমিত্রি মেদভেদেভ। রাশিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, দুই মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট পদে থাকার সুযোগ নেই। পুতিন কৌশলে বিরতি দিয়ে আবারও ক্ষমতায় ফিরতে দিমিত্রি মেদভেদেভকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেন বলে সমালোচকরা দাবি করেন।

মেদভেদেভ দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার মেয়াদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পরবর্তী ছয় বছর করে একটি বিলে স্বাক্ষর করেন। ২০১২ সালে ক্রেমলিনে ফেরেন পুতিন। ২০১৮ সালে আবারও দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি।