সুচিন্তার অনুষ্ঠানে
রিসোর্ট কান্ডঃ মামুনুল হককে এক হাত নিলেন সুন্নী আলেমরা

বাংলাদেশ মেইল ::

হেফাজতের ইসলামের দেশবিরোধী চক্রান্তকে প্রতিহত করার আহবান জানিয়েছেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আলেমরা । সোমবার রাতে সুচিন্তা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ফেসবুক লাইভে তারা এই আহবান জানান ।
সোমবার (৫ এপ্রিল) সুচিন্তা ফাউন্ডেশন চট্টগ্রামের সমন্বয়ক এ্যাডভোকেট জিনাত সোহানার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের জঙ্গিবাদবিরোধী আলেম-ওলামা-শিক্ষার্থী কনফারেন্সে হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হকের সাম্প্রতিক সময়ের রিসোর্ট কান্ডের তীব্র সমালোচনা করেন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া আলোচকরা ।
অনুষ্ঠানে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ অসিউর রহমান আলকাদেরি বলেন, যারা উগ্রবাদী যারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে ভাংচুর করে, জনগণের ও রাষ্ট্রের সম্পদ নষ্ট করে, নিরীহ জনগণের ওপর অবিচার করে, চলাফেরার মধ্যে আঘাত করে এটা ইসলামের দৃষ্টিতে জুলুম, অত্যাচার, অবিচার ও সন্ত্রাস। যারা ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করে দেশের সম্পদ নষ্ট করে, জনগণের সম্পদ নষ্ট করে, থানায় আক্রমণ করে, জ্বালাও পোড়াও করে এর সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা সম্পূর্ণ জঙ্গিবাদী তৎপরতা।

অনুষ্ঠানটিতে অংশ নিতে দেখা যায় আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান আল আজহারীকে । তিনি তার আলোচনায় বলেন , মাওলানা মামুনুল হক রিসোর্ট কান্ডে ইসলাম ও মুসলমানদের সুনামহানী করেছেন । নিজের স্ত্রীর নাম ব্যবহার করে সোনারগা রিসোর্টে ভিন্ন নারী নিয়ে তার অবস্থান । জনতার হাতে ধরা খাওয়া – সবকিছু হেফাজতে ইসলামের ভন্ড চরিত্রের পরিচয় বহন করে ।
তিনি বলেন , ‘অত্যাচার অবিচার সন্ত্রাস সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই । যারা জনগণের সম্পদ নষ্ট করে, ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ করে জ্বালাও-পোড়াও করে ইসলামের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নাই। হাজার শিক্ষিত হোক না কেন যেসব আলেম মন্দ আচরণ করে, মানুষের উপর জুলুম করে , জনগণের সম্পদ ধ্বংস করে সে আলেম হতে পারে না । সে যত বড়ই হোক না কেন সে কখনো প্রকৃত মোমিন নন । হেফাজতের মতো জালেম উগ্রবাদী সন্ত্রাসীরা কখনোই ইসলামী আলেম হতে পারে না। ‘

হেফাজতকে ইসলামের দুশমন দুশমন উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, আজ বিশ্বের মুসলমানদেরকে অসম্মান করেছে হেফাজতে ইসলাম।
আমি মনে করি তারা কোরআন সুন্নাহর ফায়সালা অনুযায়ী তারা মুসলমানের নামে কলঙ্ক। তারা নিজেদের স্বার্থে ইসলামকে ব্যবহার অপচেষ্টা করছে। তারা ইসলামকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সাধারন মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি করছে।কোরআন ও ইসলামের পরিভাষায় তারা মুনাফিক।
অনুষ্ঠানের আলোচনায় কওমী মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দেয়া সরকারের ভুল হয়েছে বলেও উল্লেখ করে মাওলানা হাসান আজহারী বলেন, যারা এসএসসি বা দাখিল পাস করেনি তাদের মাস্টার্স সার্টিফিকেট দিয়ে দেয়া ভুল হয়েছে সরকারের।
মাওলানা হাসান আজহারী বার বার সাম্প্রতিক সময়ে রিসোর্ট কান্ড নিয়ে মামুনুল হকের প্রতি বিষেদগার করে বলেন, ‘একজন মাওলানা বিয়ের কাবিননামা দেখাতে পারলেন না। ঘটনার এতোদিন পরেও। কাবিননামা ছাড়াই অন্যের স্ত্রীকে নিজের স্ত্রী বলে চালিয়ে দিচ্ছেন, তিনি আসলেই একজন ভন্ড আলেম। কোরআন ও সুন্নাহর দলিল দিয়ে বলা যায় এমন বিয়ে শরীয়ত সম্মত নয়। ‘
মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ এহসানুল হক জেহাদী আল মুজাদ্দেদী তার আলোচনায় বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী একজন সম্মানিত ব্যাক্তি , যিনি দেশের স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তীতে যোগ দিতে এসেছেন । মোদীবিরোধী আন্দোলন করে সাধারন মানুষের মৃত্যুর কারণ হওয়া হেফাজতে ইসলাম আসলে একটি দেশ ও স্বাধীনতা বিরোধী সংগঠন । যাদের শহীদ হয়েছে দাবি করা হচ্ছে তারা আসলে বিভ্রান্ত। নিহত হবার পরে নিহতের রক্তের বদলার নামে উঠ চাওয়া হচ্ছে। এটা জিহাদ হতে পারে না। তারা সারাদেশে ইসলামকে ব্যবহার করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। নিজেদের সার্থে মাদ্রাসার নাবালকদের ছাত্রদের ব্যবহার করা করেছেন। আর তাদের নেতারা নারী নিয়ে রিসোর্টে গিয়ে মাস্তি করছে। নেতাদের চরিত্রই বলে দেয় তারা মুলত অনৈসলামিক কর্মকান্ড লিপ্ত হয়েছে। ‘
মাওলানা মুফতি আহসানুল হক হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক কে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন। তিনি বলেন নারী নিয়ে রিসোর্টে গিয়ে মাস্তি করা কোন আলেমের চরিত্র হতে পারে না।
সুচিন্তা ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরীর সঞ্চালনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রধান পরীক্ষক ছৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান আল আজহারি, মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ এহসানুল হক জেহাদী আল মুজাদ্দেদী ও জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক (আরবি) আল্লামা তারেকুল ইসলাম আলকাদেরি।