লকডাউন সীমিত করার দাবিতে চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীদের আন্দোলন

বাংলাদেশ মেইল ::

দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন আরোপ করেছে সরকার। চট্টগ্রামে লকডাউনের শুরুর দিনে গণপরিবহন ও শপিংমল বন্ধ হওয়া ছাড়া সবকিছুই স্বাভাবিক রয়েছে। সীমিত পরিসরে খুলেছে দোকানপাট ও সরকারি-বেসরকারি অফিস। তবে গণপরিবহন না চলায় অফিসগামী মানুষকে পোহাতে হয়েছে দুর্ভোগ।

দোকানপাট খোলার দাবিতে নিউমার্কেটে বিক্ষোভ
গণপরিবহন না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ
এদিকে মার্কেট-শপিংমল খুলে দেয়ার দাবিতে প্রথমদিনেই চট্টগ্রাম নগরীতে বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ী, দোকানি ও কর্মচারীরা। এসব কর্মসূচিতে হাজারও মানুষের সমাগম ঘটে।

সোমবার সকালে এবং বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর নতুন ব্রিজ, অক্সিজেন, মুরাদপুর, চকবাজার, কোতোয়ালী, নিউমার্কেট, আন্দরকিল্লা, টাইগারপাস, সদরঘাট, দেওয়ানহাট, আগ্রাবাদ, বারিকবিল্ডিংসহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় অফিসগামী যাত্রীদের। যানবাহন না পেয়ে অনেকে পায়ে হেঁটে রওনা দিয়েছেন গন্তব্যে। যান চলাচলও বন্ধ থাকায় ট্যাক্সি-রিকশায় দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে যেতে হয় কর্মস্থলে। মাঝেমধ্যে এক-দুটি বাসের দেখা মিললে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন লোকজন।

প্রায় ১১০টি মার্কেটের দোকানমালিক-কর্মচারীরা বিক্ষোভে অংশ নেন

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ আছে। বিশেষ করে বাস বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের ভোগান্তিটা বেশি হচ্ছে।

লকডাউনের বিরোধিতা করে দোকানপাট খোলা রাখার দাবিতে চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে ব্যবসায়ীরা। এ সময় তারা ‘লকডাউন মানি না, মানবো না’, ‘এই মুহূর্তে দোকান খুলে দাও, খুলতে হবে’ স্লোগান দেন। লকডাউন তুলে না নিলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন নেতারা।

এ সময় ব্যবসায়ীরা বলেন, সারাদেশে সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছে। বইমেলা, বেসরকারি অফিস- সব চললে দোকানপাট কেন বন্ধ থাকবে। আমাদের দাবি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেয়া হোক। দোকানপাট বন্ধ থাকলে পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে আমাদের।

নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারের তামাকুমণ্ডি লেন বণিক সমিতির সভাপতি আবু তালেব বলেন, প্রায় ১১০টি মার্কেটের দোকানের মালিক-কর্মচারীরা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। সামনে রমজান। আমরা ঈদের কেনাকাটা করতে না পারলে কোটি কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়বো। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলা রাখতে চাই।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন বলেন, মার্কেট খোলা রাখার দাবিতে ব্যবসায়ীরা মিছিল-সমাবেশ করেছেন। শান্তিপূর্ণভাবে উনারা কর্মসূচি পালন করেছেন।

এর আগে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় নগরের জিইসির ইউনেস্কো শপিং ব্যবসায়ী সমিতি ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে লকডাউন প্রত্যাহার এবং মার্কেট খোলা রাখার দাবিতে মানববন্ধন করা হয়।

এছাড়া বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে দুপুর ১২টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সেখানকার ব্যবসায়ীরা। মিছিলে ৬০-৭০ জন ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারী অংশ নেন। মিছিলটি শহরের পূর্ব বাজার থেকে শুরু হয়ে পশ্চিম বাজারে এসে শেষ হয়।

এদিকে লকডাউনের প্রথম দিনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আয়া-ওয়ার্ডবয়দের গাদাগাদি থাকলেও তেমন ছিল না রোগীর চাপ।

চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণ আর মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতি রুখতে সারাদেশে সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হলো ৭ দিনের লকডাউন। এ কারণে আজকে একটু রোগী কম। প্রতিদিনই প্রচুর রোগী আসে।