আত্নহননে প্ররোচিত করার অভিযোগ
ব্যাংক কর্মকর্তা মোরশেদ চৌধুরীর আত্মহনন নিয়ে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

বাংলাদেশ মেইল :: 

চট্টগ্রামে দেনা পরিশোধের চাপে আত্নহননের পথ বেছে নেওয়া ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল মোরশেদের পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন । রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আব্দুল মোরশেদের স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা ইশরাত জাহান চৌধুরী।

লিখিত বক্তব্য তিনি অভিযোগ করেন , পাওনাদারদের ধারাবাহিক চাপের কারণে আত্নহননের পথ বেছে নিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল মোরশেদ । টাকা পরিশোধের জন্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করে মোরশেদকে আত্নহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য করা হয়েছে ।

লিখিত বক্তব্য তিনি বলেন , ষোল বছর আগে আব্দুল মোরশেদ চৌধুরী সাথে তার বিয়ে হয় । তাদের একমাত্র কণ্যা জুমের বয়স ১২ বছর । আমার স্বামী পাওনা টাকার অতিরিক্ত টাকা পরিশোধের পরও পাওনাদারদের হুমকি থেকে রেহাই পাননি ।

তিনি বলেন , শুরুতে শেয়ার ব্যবসা পরে আমদানি – রপ্তানি  ব্যবসা করতে আপন ফুফাতো ভাই মইনুদ্দিন সাকিব থেকে ১২ কোটি ৬০ লাখ ১৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ শাখার আল ফালাহ ব্যাংকের ম্যানেজার আমার স্বামী আব্দুল মোরশেদ চৌধুরী। এই টাকার বিপরীতে ১৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকা পরিশোধও করেছিলেন তিনি। একই ভাবে অন্য ফুফাতো ভাই জাবেদ ইকবাল থেকে ১২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ধার নিয়ে মুল টাকার সাথে লভ্যাংশসহ পরিশোধ করেছিলেন ১৮ কোটি ৮৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। কিন্তু ধারের বিপরীতে জমা দেয়া ব্ল্যাংক চেকে টাকার অংক বসিয়ে বাড়তি লভ্যাংশ দাবি করে মোরশেদকে মানসিক চাপে রেখেছিলেন ফুফাত ভাইরা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসরাত জানান ,  এই আত্নহননের পেছনে মোরশেদের ফুফাত ভাই পারভেজ ও সাকিবের নানা হুমকি ভয়ভীতি প্রদর্শনই দায়ী । ৬ই এপ্রিল রাসেল নামের এক যুবলীগ নেতা পারভেজ ও সাকিবের পক্ষ নিয়ে  সর্বশেষ মুঠোফোনে মোরশেদকে হুমকি প্রদান করেছিলেন ।

সংবাদ সম্মেলনে ইসরাত জাহান তার স্বামীর আত্নহত্যার পেছনে যারা দায়ী তাদের শাস্তির দাবী জানান ।

উল্লেখ্য , ধারের টাকা পরিশোধের জন্য মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্নহননের পথ বেছে নিয়েছেন আল ফালাহ ব্যাংকের ম্যানেজার আব্দুল মোরশেদ চৌধুরী। গত ৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের পাচলাইশের হিলভিউ আবাসিক এলাকার নাহার ভবন থেকে এই ব্যাংক কর্মকর্তা মোরশেদের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।