সমালোচনার ঝড়
রোজিনার বিরুদ্ধে মামলা, রাগে ক্ষোভে ফোঁসছেন সারা দেশের সাংবাদিকরা

বাংলাদেশ মেইল ::

প্রথম আলোর  সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করার পর উল্টো তার বিরুদ্ধে মামলায় দেয়ায়  রাগে ক্ষোভে ফোঁসছেন সারা দেশের সাংবাদিকরা।

ডয়চে ভেলে বাংলা বিভাগের প্রধান খালেদ মহিউদ্দিন লিখেছেন ‘ আমাকেও মামলা দিন শিরোনামে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘রোজিনার বিরুদ্ধে যে কারণে মামলা দিছেন, ওই কারণে আমার বিরুদ্ধেও মামলা দেন। নথি আমিও চুরি করছি।

সদাশয় সরকার, মনে রাইখেন আমারে বা আমগরে নথি দেওনের বা দেখানোর সাহস আপনের নাই। খালি নথি দিয়া রিপোর্ট হয় না, আপনেরেই জিগাইতাম পরে যে এই কামডা কেন করছেন?

আরও মনে রাইখেন রাষ্ট্রের বা মানুষের ক্ষতি করার কোনো সুযোগ আমাগো মত নথি চোরগো নাই। আপনারা যারা নথির কারবার করেন তাগো আছে। মনে আছে মেডেলের সোনা বা রূপপুরেরর বালিশ?

ওপেন চ্যালেঞ্জ দিলাম, যুক্তি দিয়া দেখান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের একান্ত সচিবের কাছে এমন কোন নথি আছে যা প্রকাশ হইলে এই দেশের বা দেশের মানুষের ক্ষতি হইব? ‘

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক  ড. আনু  মোহাম্মদ লিখেছেন, ‘রোজিনা ইসলাম কোন নথির খবর বের করতে চেয়েছিলেন বলে কর্তারা এতো ক্ষিপ্ত? সাংবাদিকতার ওপর এতো নির্যাতন, এতো অপমান? সেই নথি তো এখন জনসমক্ষে আনাই প্রথম কাজ হওয়া দরকার। মন্ত্রণালয়ের কর্ম-অপকর্ম-কুকর্ম যদি জনস্বার্থে প্রকাশ দরকার হয়, আর তা যদি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার নামে সরকার গোপন রাখেও তবুও তা জনগণের নজরে আনার কাজই সাংবাদিকতা। অনুমতিপ্রাপ্ত তথ্যই যদি সব খবর হয় তাহলে সরকারি প্রেসনোটই তো যথেষ্ট, আর মিডিয়ার কী দরকার? দেখা যাচ্ছে যতো দুর্নীতি, অনিয়মের খবর প্রকাশিত হচ্ছে তত সরকারের বাহিনী উপবাহিনী আইন ও বেআইন দিয়ে টুটি চিপে ধরতে চেষ্টা করছে। কিন্তু লাভ নাই। সব গোপন প্রকাশ হবে। রোজিনা এ সংক্রান্ত যত প্রতিবেদন তৈরি করেছেন সেগুলো এখন আরও প্রচার করতে হবে। ‘

সময় টেলিভিশনের পরিচালক ও সিনিয়র সাংবাদিক তুষার আবদুল্লাহ লিখেছেন,  ‘রোজিনা ইসলামের সঙ্গে যে আচরণ করা হলো কেন্দ্রীয় আমলা দফতর বা সচিবালয়ে । এ ঘটনার মাঠ পর্যায়ের বিস্তার ঘটবে । এতে সাংবাদিকতাই যে শুধু ক্ষতিগ্রস্থ হবে, তা নয় । মাঠের প্রশাসনের সঙ্গে জন সম্পর্কের দূরত্ব আরো বাড়বে । ঘটনার প্রতিবাদ এবং ‘অতি বাড়াবাড়ি’আচরণ প্রদর্শনকারীর বিরুদ্ধে পেশাজীবী সংগঠন ও কর্তৃপক্ষের অবস্থান নেয়া প্রয়োজন । ‘

দৈনিক সমকালের বিশেষ প্রতিনিধি রাজিব নুর লিখেছেন, ‘এই কাজী বেগমের ধনসম্পদ নিয়ে বিস্তর কথা লেখা হচ্ছে। সেই সব আমার জানা নেই। তবে তিনি যে একার সাহসে কাণ্ডটা করেননি, এটা জানার জন্য জ্যোতিষী হওয়ার দরকার নেই। তাঁর পেছনে বড় বড় সব ডাকাত আছেন। ডাকাতদের শলাপরামর্শে সময় লেগেছে বলেই রোজিনাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সচিবালয়ে আটকে রাখা হয়েছিল।

অবশেষে রাতে শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়েছে। এজাহারে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় এবং ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ও ৫ ধারায় গুপ্তচরবৃত্তি আর রাষ্ট্রের গোপন নথি নিজ দখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে বলা আছে, যদি কেউ নিষিদ্ধ স্থানে যায়, আর কোনো গোপন তথ্য সংগ্রহ বা প্রকাশ করে তাহলে তিনি অপরাধী হবেন। এসব ধারায় সর্বোচ্চ তিন বছর সাজার বিধান রয়েছে।

এই তো চাই, ডাকাতদলের ডাকাতির তথ্য বের করে আনার নাম গুপ্তচরবৃত্তি। সত্যিকারের রিপোর্টার যারা তাদের মোবাইল ফোনগুলো জব্দ করা হলে এমন আরও অনেক গুপ্তচর পাওয়া যাবে। তথ্য পাওয়া যে দেশে দুরূহ করে রাখা হয়, সেখানে নথিপত্র চুরি করা ছাড়া অন্য উপায় কি আছে?

সাংবাদিকদের অন্য সংগঠনগুলো কি করবে জানি না। রিপোর্টারদের সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সব সদস্যের বলা উচিত, ‘আমি একজন রিপোর্টার, জীবনে অনেক বার তথ্য চুরি করে প্রকাশ করেছি, একই অপরাধে রোজিনাকে জেলে আটকে রাখা হলে আমাকেও জেলে নেওয়া হোক।’

প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি  শরিফুজ্জামান পিন্টু লিখেছেন, ‘সাংবাদিকেরা টের পাওয়ার আগেই রোজিনা ইসলামকে শাহবাগ থানা থেকে সকাল আটটায় সিএমএম আদালতে পাঠানো হয়েছে! সাধারণত আসামিকে এতো সকালে আদালতে নেওয়া হয় না।

সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় আটক রাখার পর সোমবার রাতে সাংবাদিক রোজিনাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের করা অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়, যেখানে এক কর্মকর্তার কক্ষ থেকে সরকারি নথি নেওয়ার চেষ্টা এবং মোবাইলে ছবি তোলার অভিযোগ আনা হয়েছে। ‘

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ ফেসবুকে লিখেছেন ‘সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে অবিলম্বে সসম্মানে ছেড়ে দেয়া হউক না হয় পরবর্তী পরিস্থিতির দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে। ‘