যুদ্ধবিরতির খবরে গাজায় বিজয়ের উল্লাস

বাংলাদেশ মেইল ::

ইসরাইলের সাথে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার পর গাজা উপত্যকায় বিজয়ের উল্লাস দেখা যাচ্ছে। ১১ দিন যুদ্ধের পর বৃহস্পতিবার রাতে ইসরাইল ও হামাস যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কথা ঘোষণা করে।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অফিস জানায়, সিকিউরিটি ক্যাবিনেট সর্বসম্মতভাবে শর্তহীন একটি যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে মিসরীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার সুপারিশ করেছে।

আর ফিলিস্তিনি গ্রুপ হামাস ও ইসলামিক জিহাদ এক বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করেছে। এটি কার্যকর হবে শুক্রবার ভোররাত ২টা থেকে (বৃহস্পতিবার ২৩.০০ জিএমটি)।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর গাজা ও ফিলিস্তিনি এলাকাগুলোতে হাজার হাজার লোক রাস্তায় নেমে আসে, তারা বিজয়সূচক ‘ভি,’ সংকেত প্রদর্শন করে, পতাকা দোলায়। ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই তারা বিজয়ের গান গাইতে থাকে।

আল জাজিরার সংবাদদাতা সাফওয়াত আল-কালুত শুক্রবার সকালে বলেন, ফিলিস্তিনিরা আতশবাজি পুড়িয়ে, ফাঁকা গুলি ছুড়ে উল্লাস করছে।
তিনি বলেন, হাজার হাজার লোক বিজয় উদযাপনের জন্য রাস্তায় নেমে এসেছে।

হামাসের এক সিনিয়র কর্মকর্তা গাজার একটি পরিবারের সাথে সাক্ষাত করার পরিকল্পনা করছেন। ইসরইলি হামলায় তিনটি ভবনে বসবাসরত ওই পরিবারের ৪৫ জন নিহত হয়।

গাজায় যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইসরাইল ও হামাস

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ইসরাইল ও গাজা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। উভয় পক্ষই বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ১১ দিন যুদ্ধের পর দু’পক্ষ বৃহস্পতিবার রাতে যুদ্ধবিরতিতে একমত হয়। স্থানীয় সময় রাত দুটায় (২৩.০০ জিএমটি, বৃহস্পতিবার) যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

মিসরের উদ্যেগে এই যুদ্ধবিরতি হয়েছে। অবশ্য এতে কোনো পূর্বশর্ত নেই। মিসর এখন আশা করছে, ইসরাইল ও গাজায় প্রতিনিধি পাঠিয়ে বিষয়টি চূড়ান্ত করার।

হামাস কর্মকর্তারা বলছেন, তারা তাদের দুই শর্তের ব্যাপারে অনির্দিষ্ট ছাড় পেয়েছেন। যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে তাদের দুই শর্ত ছিল শেখ জাররাহ এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা যাবে না এবং আল-আকসা মসজিদ কমপ্লেক্সে ইসরাইলি পুলিশের উপস্থিতি থাকতে পারবে না। ইসরাইলি কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ ভুল।

যুদ্ধবিরতির খবর প্রকাশ হওয়ার পরপরই গাজায় নতুন করে ইসরালি বিমান হামলা হয়, ইসরাইলে রকেট নিক্ষিপ্ত হয়। এদিকে ইসরাইলের প্রধান বিমানবন্দর বেন গুরিয়ানে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সকল ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া হয়। এতেই পরিস্থিতির নাজুকতা ফুটে ওঠে।
এমনকি যুদ্ধবিরতির মধ্যেও কোনো কিছু নির্ধারিত হয়নি।

১১ দিনের ইসরাইলি হামলায় গাজায় অন্তত ২৩২ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে শিশু ৬৫ জন। আর ইসরাইলে দুই শিশুসহ নিহত হয়েছে ১৩ জন।সূত্র : বিবিসি ও আল জাজিরা