সাইমন কাজারের ব্রিগেড
ইউরোয় ডেনমার্ককে হারিয়ে ইংল্যান্ডের জয়

ইউরোয় ডেনমার্ককে হারিয়ে ইংল্যান্ডের জয়

বাংলাদেশ মেইল ::

ওয়েম্বলিতে  হ্যারি কেনের দলের বিরুদ্ধে ক্রীড়া নৈপুন্যের সর্বোচ্চটা দেখিয়েছে সাইমন কাজারের ব্রিগেড। ইউরোয় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ ইংল্যান্ড ডেনমার্কের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে ডেনমার্ককে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে।

৫৫ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের পর এই প্রথম কোনও মেজর (বিশ্বকাপ ও ইউরো কাপ)-এর ফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড। ১৯৯২ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়ন ডেনমার্কের স্বপ্নের দৌড় থামিয়ে। এই প্রথমবার ইউরো কাপের ফাইনাল খেলবে থ্রি লায়ন্স। ১১ জুলাই ওয়েম্বলিতে ফাইনালে মানচিনির ইতালির সামনে সউথগেটের ইংল্যান্ড।

মাত্র ৮ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল হয় ইংল্যান্ড ও ডেনমার্কের দ্বিতীয় ইউরো সেমিফাইনালে। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে স্কোর ১-১, তাতে ম্যাচ গড়ালো অতিরিক্ত সময়ে।১৩ মিনিটে কেনের বাড়ানো বলে বাঁ দিক থেকে রহিম স্টারলিংয়ের ডানপায়ের শট সরাসরি ক্যাস্পার শুমেইখেলের হাতে চলে যায়। দুই মিনিট পর কেনের শক্তিশালী হাফ ভলি গোলবারের ওপর দিয়ে যায়।

১৬ মিনিটে ফিলিপস বলের দখল হারান। তাতে হজবার্গ ইংল্যান্ডের বক্সে সুযোগ তৈরি করে। তার নিচু শট লক্ষ্যে ছিল। জর্ডান পিকফোর্ড সেভ করেন, যদিও তা চলে যায় ডলবার্গের কাছে। তিনি ব্রেইথওয়েটকে শট নেওয়ার সুযোগ করে দেন, কিন্তু ম্যাগুইরে ব্লক করেন। স্ট্রাইগার লার্সেনের কর্নারে বল বিপজ্জনক জায়গা থেকে পাঞ্চ করে ফেরান পিকফোর্ড।

গোটা টুর্নামেন্টে গোলপোস্ট অক্ষত রাখা ইংল্যান্ড ভেঙে পড়ে ৩০ মিনিটে। ড্যামসগার্ডের দারুণ ফ্রি কিক থামাতে পারেননি পিকফোর্ড। ৩৮ মিনিটে স্‌টারলিংকে রুখে দেন শুমেইখেল। পরের মিনিটে ইংলিশ ফরোয়ার্ডকে ঠেকাতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল করেন ডেনিশ অধিনায়ক সিমন কায়ের। বিরতির পর ম্যাগুইরেকে শুমেইখেল এবং ডলবার্গকে প্রতিহত করে পিকফোর্ড স্কোর সমান রাখেন।

ওয়েম্বলিতে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়ে সমতা ফিরিয়েছিল ইংল্যান্ড। অতিরিক্ত সময়ে জোয়াকিম ম্যাশহলে বক্সের মধ্যে অবৈধভাবে রাহিম স্টার্লিংকে বাধা দিলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। ভার প্রযুক্তিতে দেখা যায় রেফারি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। ১০৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে এবারের ইউরোতে চতুর্থ গোলটি করে গ্যারি লিনেকারের ১০ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন। কেনের পেনাল্টি রুখে দিয়েছিলেন ডেনমার্কের গোলকিপার ক্যাসমার শ্মাইকেল। কিন্তু ফিরতি বল জালে জড়িয়ে দেন কেন।

এবারের ইউরোয় ২ দলই দুর্দান্ত পারফর্ম করে এসেছে এখনও পর্যন্ত। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ৪-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে স্টার্লিংরা শেষ আটের লড়াইয়ে। অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ২-১ গোলে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল ডেনমার্ক। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা মনোবল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ড্যানিশদের। হ্যারি কেনদের বিশেষজ্ঞরা এগিয়ে রাখলেও অঘটন ঘটাতে প্রস্তুত ছিল সাইমন কাজার অ্যান্ড কোং।

কিছুদিন আগে ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেটও সমীহ করে বলেছিলেন যে, কোনওভাবেই ডেনমার্ককে সেমিফাইনালে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। ওয়েম্বলিতে ঘরের মাঠে খেলায় সমর্থকদের নিরাশ করেনি ইংল্যান্ড ফুটবল দল।

ডেনমার্কের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে শেষ ছয় বারের সাক্ষাতে মাত্র একবারই জয় পেয়েছে ব্রিটিশ বাহিনী। ২০০২ ফুটবল বিশ্বকাপে ৩-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড শিবির। এছাড়া ৩ ম্যাচ ড্র ও ২ ম্যাচ হারতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে।

ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে এখনও পর্যন্ত যতবারই ২ দলের দেখা হয়েছে ততবারই ১-০ ব্যবধানে জিতেছে জয়ী দল। পাঁচবার ইংল্যান্ড জয় পেয়েছে, তো দুবার জয় পেয়েছে ড্যানিশরা। তাঁরা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে শেষ ২ বার জয় পেয়েছে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৯৮৩ ও ২০২০ সালে।

এই নিয়ে ইউরো কাপে নিজেদের তৃতীয় সেমিফাইনাল খেলতে চলেছে ইংল্যান্ড। এর আগে ১৯৬৮ সালে যুগস্লোভানিয়ার বিরুদ্ধে হারতে হয়েছিল। ১৯৯৮ সালে জার্মানির বিরুদ্ধে পেনাল্টিতে হারতে হয় তাঁদের। ডেনমার্কের এই নিয়ে চতুর্থ সেমিফাইনাল ইউরো কাপে। এর আগে ১৯৬৪, ১৯৮৪ ও ১৯৯২ সালে টুর্নামেন্টের শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছিল ডেনমার্ক।