ইজারাদারকে জরিমানা,নগরীর ৩ পশুর হাটে অভিযান

ইজারাদারকে

স্বাস্থ্যবিধি না মানায় নগরীর তিন পশুর হাট ইজারাদারকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ভ্রাম্যমাণ আদালত সোমবার (১৯ জুলাই) চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট জাহানারা ফেরদৌস অভিযানের নেতৃত্ব দেন

ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী জানান, স্বাস্থ্যবিধি না মানায় নগরীর ডবলমুরিং থানার পোস্তারপাড় পশুর বাজার, চান্দগাঁও থানার কর্ণফুলী পশুর হাট পাঁচলাইশ থানার বিবিরহাট কোরাবানির পশুর হাট ইজারাদারকে ৩টি মামলায় ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য ইজারাদারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযানে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাকর্মচারী পুলিশ সহায়তা করেন

এদিকে ,নগরীর ৬টি স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটে রোববার ক্রেতা-বিক্রেতার প্রচণ্ড ভিড়ে উপেক্ষিত ছিল স্বাস্থ্যবিধি। অপরদিকে ১৫ উপজেলায় বসেছে ২০৬টি পশুর হাট। ১৭টি শর্তে এবার নগরীর পশুর হাটগুলো ইজারা দেওয়া হলেও মানা হচ্ছে না বেশিরভাগ শর্ত। দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে ট্রাকে ট্রাকে চট্টগ্রামের হাটগুলোতে পশু আনা হলেও কোনো প্রকার স্প্রে করা ছাড়াই বিক্রি করা হচ্ছে। সরেজমিন দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আনা পশুগুলোকে স্প্রে তো দূরে থাক; ছয় পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার হাত ধোয়ার পানির ব্যবস্থাও রাখেনি ইজারাদাররা।

এদিকে কুরবানির ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে পশুর হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতা হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। চট্টগ্রামের পশুর হাটগুলোতে নানা অব্যবস্থাপনার কারণে অলি-গলি ও খামারে বেড়েছে পশু বিক্রি। রোববারও নগরীর হাটগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাকে ট্রাকে বিক্রির জন্য আনা হয় গরু-মহিষ। রোববার বিকালে নগরীর মুরাদপুর এলাকায় অবস্থিত বিবিরহাট পশুর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, মূল বাজারে যে পরিমাণ গরু-মহিষ রয়েছে তার ৮ থেকে ১০ গুণ বেশি পশু রয়েছে সড়ক ও রেললাইনের দুই পাশে। এ হাটে দেশের সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যশোর, কুষ্টিয়াসহ উত্তরবঙ্গ থেকে বেপারিরা প্রচুর পশু নিয়ে এসেছে বিক্রির জন্য। অথচ কোনো প্রকার স্প্রে করা ছাড়াই এসব পশু ট্রাক থেকে নামানো হচ্ছে। এ বাজারে হাত ধোয়ার কোনো ব্যবস্থায় রাখা হয়নি। বিপুল সংখ্যক ক্রেতা-বিক্রেতার চাপে এ পশুরহাটে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি।

অন্যদিকে চান্দগাঁও থানাধীন নূরনগর হাউজিং এস্টেট এলাকায় কর্ণফুলী পশুর হাটেও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আনা হয়েছে পশু। এ হাটে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা মাস্কও পরেনি। অথচ এ বাজারেও দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অনেক ব্যবসায়ী বিক্রির জন্য পশু নিয়ে এসেছে। তবে বিবিরহাট বাজারের চেয়ে কর্ণফুলী পশুর হাটে বেচা-বিক্রি বেশি হচ্ছে বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন। রোববার এ বাজারে সবচেয়ে বড় গরুটি বিক্রির জন্য এনেছেন অ্যাডভোকেট আরশাদুল আলম জিল্লু। নগরীর মইজ্যারটেক আদর্শপাড়া এলাকায় অবস্থিত পশু খামার ‘কুতুবদিয়া মালেক শাহ এগ্রোর’ মালিক তিনি। তার খামারে উৎপাদিত ১৫টি গরু ইতোমধ্যে বিক্রি করেছেন। বিক্রির জন্য আনা সবচেয়ে বড় গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে ১২ লাখ টাকা। সাড়ে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে।