করোনা পরিস্থিতি বিধিনিষেধ ঈদ পর্যন্ত শিথিল

    ঈদের জামাত

    বাংলাদেশ মেইল ::

    করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলা বিধিনিষেধ ঈদ পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে শিথিল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত আট দিন বিধিনিষেধ শিথিল থাকবে। এই সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন, শপিং মলসহ দোকানপাট খোলা থাকবে। তবে আসনসংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলতে হবে গণপরিবহনকে। ঢাকায় কোরবানির পশুর হাট চলবে ১৭ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত।

    ঈদ পর্যন্ত কোন কোন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল থাকবে, তা আজ মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন দিয়ে জানাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গতকাল সোমবার সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য বিবরণী দিয়ে বিধিনিষেধ শিথিলের কথা জানানো হয়। তবে ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে আবার কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হবে।

    সরকার এমন দিনে বিধিনিষেধ শিথিলের সিদ্ধান্ত জানাল, যেদিন দেশে এক দিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণে সর্বোচ্চসংখ্যক রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। দেশে ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল আটটা থেকে গতকাল সকাল আটটা পর্যন্ত) নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৭৬৮ জন। এই সময় করোনায় মারা গেছেন ২২০ জন।

    করোনা সংক্রমণের এই পরিস্থিতিতে বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত জনস্বাস্থ্যের বিচারে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা। এর ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা আছে।

    বিধিনিষেধ শিথিলের কথা জানানোর আগের দিন গত রোববার সরকারের নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান বিধিনিষেধ ঈদের আগেও থাকবে কি না, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। যদি করোনাসংক্রান্ত কারিগরি পরামর্শক কমিটি পরামর্শ দেয়, তাহলে চলমান বিধিনিষেধ আরও এগিয়ে নেওয়া হতে পারে। তবে বর্তমানে যে পরিস্থিতি চলছে, তাতে পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার মতো জায়গায় পৌঁছানো যায়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন।

    বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সহিদুল্লা গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘না। এটি তাঁদের পরামর্শের উল্টো। আমরা মনে করছি, এর ফলে সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা অনেক বেড়ে যাবে। আমরা উদ্বিগ্ন।’

    করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে সরকার এ বছরের ৫ এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ দিয়ে আসছে। এর পাশাপাশি এবার স্থানীয় প্রশাসনও বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করেছিল। কিন্তু তারপরও করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ১ জুলাই থেকে সারা দেশে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়। প্রথমে এক সপ্তাহের জন্য বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হলেও পরে তা বাড়িয়ে ১৪ জুলাই পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এখন শ্রমজীবী মানুষসহ জীবিকার দিক বিবেচনা করে ঈদ ঘিরে বিধিনিষেধ শিথিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    গত মে মাসে পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময়ও সরকার করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ঈদযাত্রা বন্ধ রাখতে চেয়েছিল। এ জন্য তখন দূরপাল্লার পথে গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু পরে দেখা গেল, হাজার হাজার মানুষ কড়াকড়ি উপেক্ষা করে বাড়ির অভিমুখে রওনা হন। তাতে পথেঘাটে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। ফেরিঘাটে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তখন দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন পরিবহনে করে বাড়ি যেতে খরচও বেড়ে যায়।