নাজিরহাট হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজি,অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

চাঁদাবাজি

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি,বাংলাদেশ মেইল ::

চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের ঝংকার মোড়, কাটিরহাট, মনিয়া পুকুরপাড়, হাইদচকিয়া, পাইন্দং ও রাজঘাট ব্রিজসহ কয়েকটি স্থানে চলছে নাজিরহাট হাইওয়ে থানা পুলিশের চাঁদাবাজি। মালবাহী ট্রাক, মাইক্রোবাস এবং সিএনজি অটোরিকশা টার্গেট করে চলছে এ বাণিজ্য। তবে প্রকাশ্যে এ বাণিজ্য চললেও নাজিরহাট হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোক্তার হোসেন বলছেন এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা জানান, নাজিরহাট হাইওয়ে থানা পুলিশের একটি টিম সড়কের ওইসব স্থানে অবস্থান নিয়ে চেকিংয়ের নামে গাড়ি থামিয়ে টাকা আদায় করছে। টাকা না দিলে দেওয়া হচ্ছে মামলা। প্রতি গাড়িতে ৫শ’ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে পুলিশ। সড়কের রাজঘাট মোড়ের দোকানি গোলাপ মওলা জানান, সম্প্রতি খাগড়াছড়ি থেকে আসা চট্টগ্রামমুখী একটি সবজিবাহী মিনি ট্রাককে পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন চেকিংয়ের নামে আটকে রাখে হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম। পরে দুই হাজার টাকার বিনিময়ে এক ঘণ্টা পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

মানিকছড়ি থেকে সবজি ক্রয় করে জিপযোগে নিয়ে এসে নিয়মিত ব্যবসা করেন মো. জালাল। তিনি বলেন, সড়কে নাজিরহাট হাইওয়ে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে অবৈধ মালামাল ও কাগজপত্র চেকিংয়ের নামে কাঁচামাল ও বিভিন্ন পণ্য বোঝাই ট্রাক, পিকআপ থেকে ২শ’ থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। এ পরিস্থিতির নিয়মিত শিকার হচ্ছেন তারা।
মাইক্রোবাস চালক ওসমান গণির অভিযোগ, তার মাইক্রোবাসটিকে ১৫ জুলাই নাজিরহাট হাইওয়ে পুলিশ মামলা দেয়। এসময় গাড়ির ডকুমেন্টগুলো জব্দ রাখে। মামলাটিতে নিষ্পত্তির তারিখ দেওয়া হয় ২১ জুলাই।

বিবিরহাটে ১৩ জুলাই পুলিশের একটি টিম একটি মাইক্রোবাস থামিয়ে চালক থেকে ২ হাজার টাকা দাবি করে। চালক দিতে না পারায় একপর্যায়ে তা কমে ৫শ’ টাকায় নেমে আসে। তাও দিতে না পারায় মামলা দেয় তাকে। চালক নিজাম উদ্দিন বলেন, দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় তার গাড়ির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়।

চট্টগ্রামে পেপার মিলে খাগড়াছড়ি এলাকা থেকে বিভিন্ন ধরনের কাগজ ট্রাকে সরবরাহ করেন উপজেলার রমজান মিয়াসহ দুই পার্টনার। রমজান জানান, ট্রাকে কাগজ নিয়ে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে সড়কের চারটি স্থানে নির্ধারিত অংকের টাকা দিতে হয় পুলিশকে। তিনি আরও বলেন, অভিযোগ বা প্রতিবাদ করার পরও পথে পথে পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হয়।

নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোক্তার হোসেন বলেন, চালকদের কথা মিথ্যাও হতে পারে। তার জানামতে সড়কে পুলিশের মাধ্যমে চাঁদাবাজি-র কোনও ঘটনা ঘটেনি। লকডাউনে কারো বিরুদ্ধে মামলা করিনি। পুলিশ এসবে জড়িত নয়। তবে, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাঁদাবাজি/বিএম