নেপালে বিলুপ্ত পার্লামেন্ট বহাল করেছে সুপ্রিম কোর্ট

বাংলাদেশ মেইল  ::

বিলুপ্ত পার্লামেন্টকে আবার পুনর্বহাল করেছে নেপালের সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে শের বাহাদুর দেউবা’কে নতুন প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেয়া যাবে বলে নির্দেশ দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

এতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে হিমালয় দুহিতা নেপালে। তারই ধারাবাহিকতায় তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি গত মে মাসে পার্লামেন্ট বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। কিন্তু তার সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে সোমবার রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এ রায়কে কেপি শর্মা ওলির জন্য বিরাট এক আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওলির পার্লামেন্ট বিলুপ্তির ঘোষণায় নেপালে বড় রকম সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি করে।

এর আগে গত ডিসেম্বরে একবার তিনি পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করেন। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফেব্রুয়ারিতে রায় দেন সুপ্রিম কোর্ট। ফলে আবার বসে পার্লামেন্ট। এতে আস্থাভোট হয় ১০ই মে। তাতে হেরে যান কেপি শর্মা ওলি। এ সময় তিনি নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যাদেবী ভান্ডারিকে পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করার পরামর্শ দেন। বলেন যে, তিনি বা বিরোধী দলীয় নেতা দেউবা কেউই নতুন সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেননি। কিন্তু সোমবার সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তা দেবেন্দ্র ডাকাল বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আগামী সাত দিনের মধ্যে পার্লামেন্ট অধিবেশন আহ্বানের নির্দেশ দিয়েছেন।

বিরোধী শের বাহাদুর দেউবাকে দুই দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে বলে আদেশে বলা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এক সপ্তাহের মধ্যে দেউবা আস্থাভোট আহ্বান করবেন। তবে এ বিষয়ে কেপি শর্মা ওলি বা তার কোনো সহকর্মীর মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু আদালতের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্টের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন তার কয়েক শত সমর্থক।

তাদের একজন রমেশ আচার্য্য বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক। তাই আমরা বিক্ষোভ করছি। সুপ্রিম কোর্ট পার্লামেন্ট এবং এর অধিকারে হস্তক্ষেপ করেছে। অল্প সময়ের জন্য দাঙ্গা পুলিশদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। তবে এতে কেউ হতাহত বা গ্রেপ্তার হয়নি। কিন্তু সামনের সময়ে আরো বিক্ষোভ হতে পারে।