বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে ফ্রান্সে বিক্ষোভ, দাঙ্গা পুলিশের টিয়ারশেল

    ফ্রান্সে বিক্ষোভ

    বাংলাদেশ মেইল::

    ফ্রান্সে করোনাভাইরাস মহামারিকালীন বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ-মিছিল করছেন হাজারো মানুষ। তারা সরকারের ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইনের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। ফ্রান্সে বিক্ষোভ মিছিল সহিংসতায় রূপ নেওয়া ঠেকাতে দাঙ্গা পুলিশ টিয়ারশেল ছুঁড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

    শনিবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে আসেন বিক্ষোভকারীরা। এসময় তারা দেশের রেস্টুরেন্ট, বার বা কোনো সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে যেতে ‘হেলথ পাস’ ব্যবহারের সময়সীমা বাড়ানোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। এছাড়া কয়েকটি নির্দিষ্ট পেশার মানুষের জন্য ভ্যাকসিন নেওয়া বাধ্যতামূলক করে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা।

    ফ্রান্সে সপ্তাহান্তে করোনাকালীন বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় সপ্তায় হচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহে দেশজুড়ে প্রায় এক লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছিল।

    ফ্রান্সের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, গোটা দেশে এ সপ্তাহে ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তারা মূলত সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন।

    ইউরো নিউজের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার রাজধানী প্যারিসে কয়েক হাজার মানুষ অন্তত তিনটি র‍্যালিতে ভাগ হয়ে মিছিল করেছেন। এসব র‍্যালিতে অংশ নেওয়া সিংহভাগই ইয়োলো ভেস্ট আন্দোলনের কর্মী। তাদের বেশিরভাগের মুখেই মাস্ক ছিল না। একটি র‍্যালির বিক্ষোভরতদের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেলে চড়া দুই পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ বিক্ষোরতদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। শনিবার বিকেলে রাজধানী প্যারিসের বাইরে বহু শহরে অসংখ্য মিছিল বের হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ফ্রান্সে গত সপ্তাহে করোনাভাইরাস মহামারিকালীন নতুন বিধিনিষেধ ঘোষণা করে সরকার। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশটির প্রায় ৭৬ শতাংশ মানুষ সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে স্বাগত জানিয়েছেন।

    তবে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মাঠে নামার পক্ষে ৪৯ বয়েসী এক নার্স নাম প্রকাশ না করে এএফপি’কে বলেন, ‘আমি ইনজেকশন নেব না’। আর ৭১ বছর বয়েসী জেন ক্লদে ডিব বলেন, ‘আমাদের দেশ সর্বগ্রাসী হয়ে গেছে। ম্যাখোঁ, তোমার পাস, আমরা চাই না’।

    ফ্রান্স ছাড়াও সপ্তাহান্তে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধমুখি অবস্থায় যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়ার মতো কিছু দেশে লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভ-মিছিল হয়েছে।

    বিএম/ফ্রান্সে বিক্ষোভ