ডেল্টার চেয়ে ভয়ংকর ভ্যারিয়েন্ট ইন্দোনেশিয়ায়!

ভয়ংকর ভ্যারিয়েন্ট

বাংলাদেশ মেইল ::

করোনাভাইরাসের ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ‘উর্বরভূমি’ হয়ে উঠছে ইন্দোনেশিয়া। বিশ্বের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ইন্দোনেশিয়ায় মহামারির বর্তমান গতি ও আক্রান্তের হার নতুন কোভিড ধরনের উৎপত্তির ঝুঁকিতে রয়েছে দেশটি, যা ডেল্টার চেয়ে ভয়ংকর ভ্যারিয়েন্ট।

গত সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়া দৈনিক আক্রান্তের হারে ভারত ও ব্রাজিলকে অতিক্রম করে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুসলিম জনসংখ্যার দেশটিতে দৈনিক গড়ে ৫০ হাজার জনের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত ও দেড় হাজারের মতো মৃত্যু হচ্ছে।

মহামারি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন ভয়ংকর ভ্যারিয়েন্ট সবসময় এমন অঞ্চল বা দেশগুলোতে শুরু হয়, যারা সহজে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, পাঁচ শতাংশের বেশি করোনা টেস্টের ফলাফল পজিটিভ হলে মহামারি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয় না। ইন্দোনেশিয়ায় করোনা মহামারি শুরুর পর ১৬ মাস ধরে আক্রান্তের হার ১০ শতাংশের বেশি ছিল। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ শতাংশে। সুতরাং বিশেষজ্ঞরা সহজেই অনুমান করছেন, ইন্দোনেশিয়ায় করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট বা সুপার ভ্যারিয়েন্ট তৈরির শঙ্কা যথেষ্ঠ রয়েছে।

সংক্রামক রোগ নিয়ে গবেষণা করে এমন একটি সরকারি সংস্থার পরিচালক আমিন সোয়েবানদিরিও বলেছেন, নতুন ভ্যারিয়েন্ট আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত নজরদারি খুবই গুরত্বপূর্ণ। তার মতে, ইন্দোনেশিয়ায় করোনার প্রকোপ দেখে নতুন ভ্যারিয়েন্টের শঙ্কা অস্বীকার করা যায় না।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুটি গবেষক দল ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, সেখানে নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের রয়েছে শঙ্কা। ভাইরাস যত বেশি ছড়ায় তত বেশি নতুন ভ্যারিয়েন্ট তৈরি ত্বরান্বিত হয়। ঈদুল আজহার কারণে ইন্দোনেশিয়ায় করোনা ভাইরাস আরও বেশি মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ইতোমধ্যে উঠে এসেছে। এর আগে ঈদুল ফিতরের পর সংক্রমণ অনেকাংশে বেড়েছিল। বেড়েছিল মৃত্যুও। এবারও তেমন হওয়ার শঙ্কা প্রবল।

বিশ্বে এই মুহূর্তে চারটি ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ‘আলফা’ ভ্যারিয়েন্ট। প্রথমে এটি আবিষ্কার হয় যুক্তরাজ্যে। পরে ‘বেটা ভ্যারিয়েন্ট’ আবিষ্কার হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়। ‘ডেল্টা’ ভ্যারিয়েন্টে আবিষ্কার হয় ভারতে এবং ‘গামা’ ভ্যারিয়েন্ট আবিষ্কার হয় ব্রাজিলে।

সব ভাইরাসই সময়ের সঙ্গে স্বভাবতই বদলাতে থাকে, সার্স-কোভিড-২ এক্ষেত্রে কোন ব্যতিক্রম নয়।২০২০ সালের শুরুর দিকে যখন এই ভাইরাসটি প্রথম চিহ্নিত হয়, তারপর এটির হাজার হাজার মিউটেশন হয়েছে।মিউটেশনের মাধ্যমে এভাবে যে পরিবর্তিত ভাইরাস তৈরি হয়, তাকে বলা হয় ভ্যারিয়েন্ট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বেশিরভাগ মিউটেশনের ফলে ভাইরাসটির মূল গঠনের ওপর খুব কম বা একেবারে কোন প্রভাবই আসলে পড়ে না। সময়ের সঙ্গে এটি বিলুপ্তও হয়ে যায়। কিন্তু কোন কোন মিউটেশন এমনভাবে ঘটে, যা ভাইরাসটিকে টিকে থাকতে এবং বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

বিএম/ ভয়ংকর ভ্যারিয়েন্ট