চট্টগ্রামে এলো মর্ডানা ও সিনোফার্মের প্রায় দুই লাখ ডোজ ভ্যাকসিন

বাংলাদেশ মেইল ::

চট্টগ্রামে পঞ্চম বারের মতো এসে পৌঁছেছে মর্ডানা ও সিনোফার্মের ১ লাখ ৮৫ হাজার ২’শ ডোজ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন

আমেরিকার তৈরী করোনাভাইরাস প্রতিষেধক মর্ডানা এমআরএনএ ও চীনের তৈরী সিনোফার্মের এসব ভ্যাক্সিন বুধবার  চট্টগ্রামে পৌছায় । (২৮ জুলাই) বুধবার সকাল ৭ টায় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ফ্রিজার ভ্যানে করে আসা মর্ডনা ও সিনোফার্ম মিলে মোট ১২০ কার্টন ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।

তন্মধ্যে দ্বিতীয় চালানে মর্ডানার ২২ কার্টুন ও তৃতীয় চালানে সিনোফার্মের ৯৮ কার্টুন ভ্যাকসিন রয়েছে। মর্ডানার প্রতি কার্টুনে ৪’শ ভায়াল ও প্রতি ভায়ালে ১০ ডোজ করে মোট ১ লাখ ৬ হাজার ৮’শ ডোজ এবং সিনোফার্মের প্রতি কার্টুনে ৪’শ ভায়াল ও প্রতি ভায়ালে ২ ডোজ করে মোট ৭৮ হাজার ৪’শ ডোজ ভ্যাকসিন রয়েছে। মর্ডানার ভ্যাকসিন মহানগরী এলাকার ১১টি কেন্দ্রে ও সিনোফার্মের ভ্যাকসিন উপজেলা পর্যায়ে রেজিস্ট্রেশনকারীদের মাঝে ভ্যাকসিন প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে।

যাদের বয়স ৩০ বছর থেকে অধিক তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে এসএমএস প্রাপ্তি সাপেক্ষে ভ্যাকসিন গ্রহন করছেন।  এরপর ভ্যাকসিনগুলো সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ইপিআই স্টোরে ওয়াক-ইন-কুলারে (ডব্লিউআইসি) ২ থেকে ৮ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়। এসময় ভ্যাকসিন গ্রহণ কমিটি সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপারের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবদুল্লাহ আল-মাসুম, জেলা প্রশাসকের পক্ষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবন কুমার বিশ্বাস, ওষুধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক মোঃ সফিকুল ইসলাম, জেলা ইপিআই সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ হামিদ আলী ও কোল্ড চেইন টেকনিশিয়ান মোঃ জাফর উল্লাহ।

ভ্যাকসিন তদারকিতে ছিলেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জেলা স্বাস্থ্য তত্বাবধায়ক সুজন বডুয়া, জেলা ইপিআই টেকনোলজিস্ট কাজল কান্তি পাল, বেক্সিমকো ফার্মার ইনস্টিটিউশন অফিসার মোহাম্মদ ওয়াহিদ ও সিনিয়র স্টোর ম্যানেজার মোহাম্মদ মহসীন।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে চট্টগ্রামে দ্বিতীয় বারের মতো আমেরিকার তৈরী মর্ডানার ১ লাখ ৬ হাজার ৮’শ ডোজ ও তৃতীয় বারের মতো চীনের তৈরী সিনোফার্মের ৭৮ হাজার ৪’শ ডোজ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন আমরা পেয়েছি। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সিনোফার্মের ভ্যাকসিনগুলো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও মর্ডানার ভ্যাকসিনগুলো সিটি কর্পোরেশন এলাকার নির্দিষ্ট কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হবে। যাদের বয়স ৩০ বছরের অধিক তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে এসএমএস সাপেক্ষে ভ্যাকসিন গ্রহন করছেন।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় মর্ডানার ভ্যাকসিন পেতে মোট ১১টি কেন্দ্রে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কেন্দ্রগুলো হচ্ছে-চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, সিটি করপোরেশন জেনারেল হাসপাতাল, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), মোস্তফা হাকিম ম্যাটারনিটি হাসপাতাল, চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতাল, ছাফা-মোতালেব ম্যাটারনিটি হাসপাতাল, বন্দরটিলা ম্যাটারনিটি হাসপাতাল, বিএনএস পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম বিএএফ জহুর মেডিকেল স্কোয়াডন ও পুলিশ হাসপাতাল। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ইপিআই শাখায় প্রাপ্ত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন খুব সাবধানতার সাথে ওয়াক-ইন-কুলারে সংরক্ষণ করা রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত ৩১ জানুয়ারী ১ম দফায় অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরী ৪ লাখ ৫৬ হাজার ডোজ, ৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় আরও ৩ লাখ ৬ হাজার ডোজ, ১৮ জুন সিনোফার্মের তৈরী ৯১ হাজার ২’শ ডোজ এবং ১১ জুলাই ১ লাখ ৮৪ হাজার ডোজ করোনার ভ্যাকসিন চট্টগ্রামে আসে। ৭ ফেব্রুয়ারী  থেকে চট্টগ্রামে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।

বিএম/ মর্ডানা ও সিনোফার্মের