মেসির জন্য নিজের জীবন দিতে পারি: এমি মার্তিনেজ

    মেসির জন্য

    বাংলাদেশ মেইল::

    কোপা আমেরিকা শুরু হওয়ার মাসখানেক আগে ঘটনাচক্রে জাতীয় দলে অভিষেক হয় এমিলিয়ানো মার্তিনেজের। নিয়মিত গোলরক্ষক ফ্রাঙ্কো আরমানি করোনা আক্রান্ত হওয়ায় বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে কপাল খুলে যায় তার।

    প্রথম ম্যাচ থেকেই নিজের জাত চেনান অ্যাস্টন ভিলার এই গোলকিপার। জাতীয় দলে নিজেকে পাকাপোক্ত করে নেন। এরপর শুরু তার স্বপ্নীল যাত্রা। আর্জেন্টিনার কাছে হতাশার নামান্তর হয়ে ওঠা কোপা আমেরিকা এলো তাদের হাত ধরে।

    দীর্ঘ ২৮ বছরের আক্ষেপ মেটানোর অন্যতম কারিগর এমি। সেমিফাইনালে কলম্বিয়াকে পেনাল্টি শ্যুটআউটে একাই হারিয়ে দিয়েছেন। ফাইনালেও ব্রাজিলের আক্রমন থেকে নিজেদের জাল রক্ষা করেছেন অসংখ্যবার। জিতে নিয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরা গোলকিপারের পুরস্কার গোল্ডেন গ্লোভ।

    মাসখানেকের যাত্রায় আর্জেন্টিনায় রীতিমতো হিরো বনে গেছেন এমিলিয়ানো। তবে দেশটির মূল নায়ক তথাপি বিশ্ব ফুটবলের শাসক লিওনেল মেসিকে সব কৃতিত্ব দিতে ভুল করলেন না এই গোলকিপার। দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কিভাবে ক্ষুদে জাদুকর এমিলিয়ানোকে তার সেরাটা ঢেলে দিতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। জানিয়েছেন, লিওনেল মেসি নামটা তার কাছে কতোটা তাৎপর্যপূর্ণ। এমনকি তার জন্য জীবন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করবেন না বলে জানিয়েছেন এমিলিয়ানো।

    মেসির ক্যাপ্টেনসিতে রীতিমতো মুগ্ধ এমিলিয়ানো। সেমিফাইনালে কলম্বিয়াকে হারানোর পর তরুণ এই গোলকিপারের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন মেসি। ক্যাপশানে এমিলিয়ানোকে আখ্যা দিয়েছেন একজন ‘ফেনোমেনন’ হিসেবে।

    এমিলিয়ানো মার্তিনেজ বলেন, সে যদি আমাকে নিয়ে একটি পোস্ট দেয় আর আমাকে বলে একজন ফেনোমেনন, ফাইনালে আমি কিভাবে ভালো না খেলি? আমি তার জন্য জীবন দিয়ে দিতে চাই। এমনকি তার জন্য মরতেও পারবো। আমি আরো ৪-৫ মাস আগে বলেছিলাম, আমি চাই মেসি আমার আগে কোপা আমেরিকা জিতুক। আমার মতো সব আর্জেন্টাইন চেয়েছে। এমনকি ব্রাজিলিয়ানরাও চেয়েছে, আর্জেন্টিনা কোপা জিতুক শুধুমাত্র মেসির জন্য।

    কেবল জাতীয় দলে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য নয়, মার্তিনেজ চান সারাবছর মেসির সংস্পর্শে থাকতে। তার জন্য ৬ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকার সঙ্গে একই ক্লাবে খেলতে চান অ্যাস্টন ভিলার এই গোলকিপার।

    তিনি বলেন, আপনি নিশ্চয়ই পৃথিবীর সেরা ফুটবলারের সঙ্গে খেলতে চাইবেন। তার সঙ্গে খেললে এবং তাকে খেলতে দেখলে আমি নিরাপদ বোধ করি এবং শান্তি পাই। সে সবাইকে উজ্জীবিত করে। আমাকেও। আমি একজন গোলকিপার। কিন্তু আমাকেও সে সারাক্ষণ উদ্ধুদ্ধ করে। আমি যদি তার সঙ্গে লিগে প্রতিটি ম্যাচে খেলতে পারতাম, নিশ্চিতভাবেই আমি আরো ভালো গোলকিপার হতাম। অ্যাস্টন ভিলায় দারুণ একটি মৌসুম কাটিয়ে আমি জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছি। কিন্তু বিশ্বাস করুন এই ৪৫ দিনে আমি আরো ১০-১৫ গুন ভালো হয়েছি।

    মেসির ঠিক কোন কথাটি তার পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে? এমন প্রশ্নের জবাবে এমি বলেন, উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে লিও আমাকে বললো, ওদের ক্রসগুলো ঠেকিয়ে দাও কারণ ওরা বেশ সাহসী। অধিনায়ক হিসেবে সে আমাদের সবাইকে সাহায্য করে। সেমিফাইনালে (শ্যুটআউটে) সে পেনাল্টি নেয়ার পর নিজের জায়গায় না গিয়ে আমার কাছে ছুটে এসে বললো, তুমি একটা শট ঠেকিয়ে দাও। আমি পরের শটটাই ঠেকিয়ে দিই। এটাই সে করে। এটি আসলে ব্যাখ্যা করা খুব কঠিন কিন্তু সে একজন সত্যিকারের দলনেতা। পৃথিবীর সব দেশ তাকে পেতে চাইবে। মেসির জন্য সেরা নৈপুণ্য দেখাতে চাইবে ।

    ফাইনাল শেষেও ট্রফি হাতে মার্তিনেজের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেছেন লিওনেল মেসি। যেখানে তরুণ এই গোলকিপারকে মনস্টার বলে আখ্যা দিয়েছেন। জানিয়েছেন, এমির ওপর তার আস্থার কথা। সেসব দেখে আবেগাপ্লুত এমিলিয়ানো।

    তিনি বলেন, আমি যখন এটা দেখলাম, বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। এগুলো এমন সব কথা কিংবা ছবি যেটি আপনি সারাজীবনের জন্য নিজের কাছে রাখতে চাইবেন। যখন আমি তাকে আলিঙ্গন করছিলাম, সেই ছবিটা আমি সারাজীবন ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখবো। একইভাবে সেমিফাইনালে যখন সে আমাকে আলিঙ্গন করে, ইন্টারভিউ কিংবা ইনস্টাগ্রামে আমাকে নিয়ে কথা বলে, বিশ্বাস করুন এসব আমাকে আরো ভালো খেলতে উদ্ধুদ্ধ করে।

    মেসির কোন বিষয়টি তাকে বেশি অবাক করে? এ প্রশ্নের জবাবে এমিলিয়ানো বলেন, আমরা ট্রুকো (কার্ডের একটি খেলা) খেলতাম। আমি, মার্চেসিন ও মুসো আর অন্যদিকে মেসি, পারেদেস এবং দে পল। ২০-৩০ রাতে আমরা ট্রুকো খেলেছি। সে খুব সাধারণ একজন কিন্তু অসাধারণ। সে বিশ্বসেরা কিন্তু সবার সঙ্গে সমানভাবে মেশে। এবং সে এমন একজন যে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ট্রফি জিততে চায়, দলের অন্য যে কারো চেয়ে বেশি করে চায়। আমাদের সবার মধ্যে সে এই তাড়নাটা ছড়িয়ে দিয়েছে।

    লিয়ান্দ্রো পারেদেস একবার জানিয়েছিলেন, মেসি মাঠে যা করে সেটি তার বিশ্বাসই হতে চায় না। মার্তিনেজ কি মেসির এমন কিছু দেখেছেন, যেটি তার বিশ্বাস হয় না?তিনি বলেন, ফ্রি কিকের সময় আমরা জানি যে এটা গোল হতে যাচ্ছে। সে যখন বল নেয় তখন সবাই আশ্বস্ত হয়, জানে যে বলটা সে হারাবে না। আমরা হয়তো ১-০ ব্যবধানে জিততে যাচ্ছি, মেসি কর্নার নিতে যাবে এবং বলবে, আমরা ম্যাচটা জিততে যাচ্ছি। আর মাত্র ৫ মিনিট বাকি। অ্যাস্টন ভিলায় আমরা অনেক সময় ৯১ কিংবা ৯২ মিনিটে ম্যাচ হেরেছি। কিন্তু মেসি যখন বলে, আমরা ম্যাচটা জিততে যাচ্ছি তখন আমরা আশ্বস্ত হই।