চট্টলার গর্বিত সন্তান
চলে গেলেন’বঙ্গবন্ধু’ শব্দের প্রবক্তা রেজাউল হক মোশতাক

বাংলাদেশ মেইল ::

না ফেরার দেশে চলে গেলেন, “বঙ্গবন্ধু” শব্দের প্রবক্তা, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক, ৬৯’ এর গন আন্দোলনের সামনের সারির নেতা রেজাউল হক চৌধুরী মোশতাক। তিনি বৃহস্পতিবার  (১৫জুলাই) রাত পৌনে একটায় ঢাকার ইউনাইটেড হসপিটালে কার্ডিয়াক এ্যাটাকে মৃত্যুবরন করেছেন।

ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মরহুম রেজাউল হক চৌধুরী’র ছেলে সাদিত চৌধুরী। তিনি জানান, ইউনাইটেড হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবার বাবা মৃত্যুবরন করেছেন। তার নামাজে জানাজা বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব  গুলশানের আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে৷

বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে প্রথম বঙ্গবন্ধু উপাধি ব্যবহার করেছিলেন ষাটের দশকের তুখোড় এ ছাত্রনেতা রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক। এই কৃতিত্বের জন্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ভাস্বর হয়ে আছে চট্টগ্রামের সন্তান মুশতাকের নাম।

১৯৬৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি সর্বপ্রথম  ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের প্যাডে ব্যবহার করেন রেজাউল হক মোশতাক৷ তখন তিনি ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন৷ সেই সময়ে  শেখ কামালের সহপাঠী রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক বঙ্গশার্দুল শেখ মুজিবের জন্য নতুন এই উপাধি উদ্ভাবন করলেন। সেই উপাধি ‘বঙ্গবন্ধু’। শেখ কামাল ও মুশতাক যৌথভাবে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কর্মকান্ড তুলে ধরার জন্য ‘প্রতিধ্বনি’ নামে একটি বুলেটিন প্রকাশ করেন। সেই বুলেটিনেরই নভেম্বর সংখ্যায় রেজাউল হক মোশতাক “সারথী” ছদ্ম পরিচয়ে ‘আজব দেশ’ নামে লেখা এক রাজনৈতিক প্রবন্ধে শেখ মুজিবের নামের আগে বঙ্গশার্দুল না লিখে ‘বঙ্গবন্ধু’ বিশেষণটি প্রয়োগ করেন।

পরে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।  ৬৯’ এর গন আন্দোলনে রাজপথে অনন্য অবদান রেখেছিলেন তিনি।

এছাড়া রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক চট্টগ্রাম সমিতি, ঢাকা’র সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চট্টগ্রামের আনোয়ারার ভিংরোল গ্রামে তার জন্ম। পারিবারিক জীবনে তিনি দুই মেয়ে এক ছেলে সন্তানের জনক।