‘সিআরবি বাঁচাও’ আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ চট্টগ্রাম

    সিআরবি বাঁচাও

    বাংলাদেশ মেইল ::

    বৃষ্টির চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে প্রতিবাদের উত্তাল শ্লোগানে মুখরিত চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকা । বৃস্টিস্নাত দিনেও সিআরবি বাঁচাও’ আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ । শনিবার নারী-পুরুষ, শিশু, বর্ষীয়ান মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে সিআরবি। পুরো এলাকা ছিল প্রতিবাদী জনতার দখলে। অনেকের মাথায় বাঁধা জাতীয় পতাকা।

    প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন , ব্যক্তিগত চাওয়া পাওয়া, দলীয় সংকীর্ণতা আর দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র আমাদের টুঁটি চেপে ধরতে ওঁৎপেতে আছে সব সময়। সেই ফাঁদে পা দিয়ে আমরা আটকে পড়েছি বারবার। যতোবারই এমন দুঃসময় এসেছে জাতির সামনে, জনতার ঐক্য আবারো বাঁচার প্রেরণা যুগিয়েছে। এবারও চট্টগ্রামবাসী এক হয়েছে ‘সিআরবি বাঁচাও’ আন্দোলনে। এ আন্দোলনে ভেসে যাবে কথিত বেনিয়া গোষ্ঠী।

    সিআরবির রক্ষার আন্দোলনে দিনব্যাপী অংশ নিয়েছিল চট্টগ্রামের বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক পেশাজীবী সংগঠন।  অংশ নেয়া সংগঠনগুলো হলো উদ্বিগ্ন নাগরিকবৃন্দ চট্টগ্রাম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক স্কোয়াড চট্টগ্রাম, গ্রিন অ্যালয়েন্স বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন চট্টগ্রাম নগর, বাণীগ্রাম ইয়ূথ মুভমেন্ট, নবযুগ মা দূর্গা ফাউন্ডেশন, সারাবাংলা ৮৮, অ্যাডলোসেন্ট এন্ড ইয়ূথ ফোরাম, দুর্নীতি বিরোধী সংগ্রাম পরিষদ, এক্টিভিস্টা চট্টগ্রাম এলআরপি ৪৮, ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম, বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদ চট্টগ্রাম, সম্মিলিত বাগান গ্রুপ চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম’ ৯৪, বিন্দু ফাউন্ডেশন, গোয়ালপাড়া এলাকাবাসী, লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং মেট্রোপলিটন, বাংলাদেশ ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদ, নরেন আবৃত্তি একাডেমি, চট্টগ্রাম সম্মিলিত স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম, শতায়ু অংগন, ডিসি হিল, চট্টগ্রাম, সাংস্কৃতিক মিডিয়া ঐক্য জোট, পথিক ৭১, চট্টগ্রাম বাইকিং গ্রুপ ও যত দূর গলা যায় ব্যান্ড।

    এদিকে , সিআরবি রক্ষার আন্দোলনে সোচ্চার রয়েছে চট্টগ্রামের সাংবাদিক , রাজনীতিবিদ , আইনজীবি , সাংস্কৃতিক কর্মিরা ।
    জানতে চাইলে , চট্টগ্রাম আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন , শহীদ আব্দুল রবের কবরের উপর চট্টগ্রামবাসী হাসপাতাল নির্মান কোনভাবেই সহ্য করবে না । প্রস্তাবিত স্থান গোয়ালপাড়ায় চাকসুর প্রথম জিএস শহীদ আব্দুর রবের কবর । অথচ এখানেই হাসপাতাল নির্মানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে ।  সিআরবির বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। অরাজনৈতিক এই আন্দোলনে মানুষের প্রাণের দাবির মহামিলন ঘটেছে। সময়ই নির্ধারণ করে দেবে এ আন্দোলনের শেষ কোথায় হবে।

    নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন , অবিশ্বাস্য হলেও এটা এখনও বাস্তব সত্য যে, আমাদের দেশে এখনও কিছু দুর্বৃত্ত ঘাপটি মেরে আছে যারা সামান্য ক’টা টাকার বিনিময়ে দেশের স্বার্থকে ভুলুন্ঠিত করতে চায়। শতবর্ষের পুরোনো গাছ কেটে ধ্বংস করতে চায় আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ। চট্টগ্রামের ফুসফুস কেটে কাউকে সিআরবি এলাকায় বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মান করতে দেয়া হবে না । ১৯ তারিখ আমরা “নাগরিক উদ্দ্যেগের ‘ ব্যানারে সমাবেশ করবো ।

    সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল নির্মানের বিরোধিতা করে সমাজবিঞ্চানী ড. অনুপম সেন বলেন ,  যে আশার আলোর আশায় পূর্ব পাকিস্তান থেকে এই ভূখন্ড ‘বাংলাদেশ’ নাম নিয়েছিল এতবছর পরে এসেও সেই আশা-ভরসা লুণ্ঠিত হচ্ছে।  এইসব ঘটনাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক শক্তিগুলো নিজের স্বার্থ খুঁজে। কিন্তু এর প্রতিরোধ এবং বিচারের দাবিতে আমরা প্রতিবাদ করি না। তরুণরা সে কাজটি করছে। সরকারের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে ভুলগুলি। এদের পাশে থাকা উচিৎ আমাদের সবার।

    এদিকে , এই প্রকল্পের বিষয়ে এখনি মুখ খুলতে নারাজ রেলওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা । সুত্র বলছে , রেল মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করে সিদ্ধান্ত নেবার জন্য অপেক্ষা করছে । প্রকল্প বাস্তবায়নে সমর্থন আদায়ের জন্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক নেতার দ্বারস্থ হয়েছেন মন্ত্রণালয়ের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা । সিডিএ এবং সিটি কর্পোরেশন দুই প্রতিষ্ঠানই সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মান প্রকল্পের বিরোধীতা করে আসছে । এর সাথে যুক্ত হয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরও ।

    তবে নগর আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ এই প্রকল্পের পক্ষে অবস্থান নিতে পারে বলে জানিয়েছে দলের ঘনিষ্ঠ সুত্র । পরিস্থিতি বিবেচনা করে সুযোগ মতো নিজেদের অবস্থান জানান দিতে পারে এই অংশটি ।