৫৩ বছর পর ইতালির ইউরোপ জয়, স্বপ্নভঙ্গ ইংলিশদের

    বাংলাদেশ মেইল::

    ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের জন্য খেলা গড়ালো টাইব্রেকারে। ১৯৭৬ সালে জার্মানি এবং চেকোস্লোভাকিয়ার মধ্যকার ফাইনালের ফলাফল নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। ৪৫ বছর পর ইউরোপ সেরার মুকুটের লড়াই মীমাংসা হলো টাইব্রেকারে। ওয়েম্বলিতে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত সময়েও ১-১ গোলে সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ঘরে তুললো ইতালি।

    শেষবার ১৯৬৮ সালে যুগোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচে ১-১ গোলে সমতায় শেষ করে ইতালি। পরে রিপ্লে ম্যাচে যুগোস্লোভাকিয়াকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোর শিরোপা ঘরে তোলে ইতালি।

    ৫৫ বছর আগে ওয়েম্বলির এই টার্ফেই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক শিরোপা ঘরে তুলেছিল ইংলিশরা। ফুটবলের জন্মভূমি হওয়া স্বত্ত্বেও মেজর কোনো টুর্নামেন্টের সাফল্য আর আসেনি ইংলিশদের। আর না পাওয়ার গ্লানি ইংলিশদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল বহুদিন ধরে। ৫৫ বছর পরে এসে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জিতলেই মুক্ত হতে পারতো সেই গ্লানি থেকে। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠে ইংল্যান্ড। আর প্রথমবারেই ইতালির কাছে পরাস্ত ইংলিশরা।

    ঘরের মাঠ ওয়েম্বলিতে গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করে আসা ইতালির বিপক্ষে ম্যাচের দুই মিনিটের মাথায় গোল করে ইংলিশদের লিড এনে দেন লুক শ। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭তম মিনিটে লেওনার্দো বনুচ্চির গোলে সমতায় ফেরে আজ্জুরিরা। ম্যাচের বাকি সময় দুই দলই গোলের চেষ্টা করলেও আর লিড নিতে পারেনি কেউই। আর নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত সময়েও কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচের মীমাংসা হয় টাইব্রেকারে।

    টাইব্রেকারে প্রথম শট নিতে এসে বল জালে পাঠান ডমেনিকো বেরার্দি। এরপর ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন জালে বল পাঠিয়ে সমতায় ফেরান ইংলিশদের। এরপর আন্দ্রেয়া বেলোত্তির শট রুখে দিয়ে ইংলিশদের এগিয়ে নেন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। পরের শটে গোল করে ইংলিশদের ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন হ্যারি মাগুয়ের। ইতালির হয়ে তৃতীয় শট নিতে এসে গোল করেন লেওনার্দো বনুচ্চি। পরের শট নিতে এসে বল গোলপোস্টে মারেন মার্কাশ রাশফোর্ড। চতুর্থ শটে ইতালির হয়ে বার্নার্দেস্কি গোল করলে ইতালি এগিয়ে যায় ৩-২ ব্যবধানে।

    ইংলিশদের চতুর্থ শট নিতে আসা জডান সানচোর শট রুখে দেন ইতালিয়ান গোলরক্ষক ডনারুমা। ইতালির পঞ্চম শট নিতে আসা জর্জিনহোর শট রুখে ইংলিশদের শিরোপা স্বপ্ন ধরে রাখেন পিকফোর্ড। তবে ইংল্যান্ডের হয়ে শেষ শট নিতে আসা বুকায়ো সাকাকে দুই হাত দিয়ে রুখে দেন ডনারুমা। আর তাতেই ৫৩ বছর পর ইউরোপ সেরার মুকুট পুনরুদ্ধার করল ইতালি।