শিক্ষক পরিচয়ে ইয়াবা ব্যবসা, অবশেষে পুলিশের জালে

ইয়াবা ব্যবসা

বাংলাদেশ মেইল ::

জয়নাল আবেদীন (৪২),  স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে এলাকায় পরিচিত হলে আড়ালে তার ইয়াবা ব্যবসা।

এই শিক্ষক ইয়াবা সাম্রাজ্যে পরিচিত ‘দুলাভাই’ নামে। চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবার অন্যতম প্রধান যোগানদাতা তিনি। তার নাম কেউ জানে না, কেউ কখনও দেখেনওনি তাকে। শুধুমাত্র একটি মোবাইল নম্বরই ছিল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তার পরিচয়। সেই নম্বরে ফোন করলেই তিনি ইয়াবা নিয়ে হাজির হতেন। ইয়াবা দিয়ে সেই নম্বর আবারও পাল্টে ফেলতেন।

তবে মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে নগরের ডবলমুরিং থানার দেওয়ানহাট মোড় এলাকা থেকে এই ইয়াবা সাম্রাজ্যের ‘দুলাভাই’কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেয়া তথ্যে গ্রেপ্তার করা হয় তার আরও দুই সহযোগীকে। উদ্ধার করা হয় ২১ হাজার ৭শ’ পিস ইয়াবা ও নগদ সাড়ে ৮ লাখ টাকা।

বুধবার দুপুরে বিষয়টি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) পংকজ দত্ত।

গ্রেপ্তার জয়নাল কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া থানার জুলহারপাড়া গ্রামের মো. সিদ্দিক আহমেদের ছেলে। গ্রেপ্তার অপর দুই সহযোগী হলেন, তার শ্যালক মোবারক হোসেন (২৭) ও রেজাউল করিম দিদার (৩১)। গ্রেপ্তার জয়নাল কুরুসকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তিনি পুরোদস্তুর ইয়াবা ব্যবসা করেন।

অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) পংকজ দত্ত বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাতে দেওয়ানহাটে একটি দোকানের সামনে থেকে জয়নাল আবেদীন প্রকাশ ওরফে ‘দুলাভাই’কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যে তার দুই সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ২১ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবা ও সাড়ে ৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। চক্রটি মুলত চট্টগ্রামে ইয়াবা এনে মজুদ করতো৷

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, দুইদিন আগে প্রায় ২২ হাজার পিস ইয়াবাসহ চালক-হেলপারকে গ্রেপ্তারের পর উঠে আসে এই দুলাভাইয়ের নাম। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাতে দেওয়ানহাট মোড়ে ১ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বায়েজিদ থানাধীন হাজীরপুল এলাকায় তার বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে তার বাসার আলনার নিচে লুকিয়ে রাখা একটি শপিং ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয় আরও ২০ হাজার ইয়াবা। গ্রেপ্তার করা হয় তার দুই সহযোগীকে।

বিএম/ইয়াবা ব্যবসা