এক টাকার কাবিনে বিয়ে করা পিয়াসার কোটি টাকার মিশন

এক টাকার কাবিনে

বাংলাদেশ মেইল :: 

নানা কারণে আলোচিত মডেল কণ্যা পিয়াসার গ্রেফতারের পর জানা যাচ্ছে নানা তথ্য । এক টাকার কাবিনে বিয়ে করার গল্পো ছড়ানো পিয়াসা এখন কোটি টাকার মালিক । অভিযোগ নিজের ফ্ল্যাটে ব্যবসায়ীদের ডেকে এনে করতেন প্রতারনা ।

বিভিন্ন সময়ে প্রতারনার শিকার হওয়া ব্যবসায়ীরাও মুখ খুলতে শুরু করেছেন । ২০১৭ সালে রাজধানী রেইনট্রি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষনের ঘটনার সময় পিয়াসার নাম আলোচনায় আসলেও প্রতারনার মাধ্যমে তার উপরে উঠার সিড়ি নির্মিত হয়েছে অনেক আগ থেকেই । ওই মামলার অভিযুক্ত আসামি শাফাত আহমেদের স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছিলেন মডেল পিয়াসা।ওই মামলার সাক্ষীর তালিকায় পিয়াসার নাম রয়েছে। আদালতের সমন জারির পরও তিনি আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাননি।

রবিবার রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে মডেল ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা এবং মোহাম্মদপুর থেকে মরিয়ম আক্তার মৌ নামের এই কথিত মডেলকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

চট্টগ্রামের নিম্ম মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে পিয়াসার দৈনন্দিন চলাচল , ব্যবসায়ীদের মাঝে বিচরন সবকিছুই ছিলো রহস্যে ঘেরা । ২০১৭ সালের রেইনট্রির ঘটনার কিছুদিন আগে গুলশানের একটি কাজি অফিস থেকে স্বামী শাফাত আহমেদকে তালাকের নোটিশ দেন তিনি । সেসময় পিয়াসা নিজেই বলেন শাফাতের সাথে তার এক টাকার কাবিনে বিয়ের গল্পো । নিজেকে নির্লোভ প্রমাণ করতে পিয়াসা এক টাকার দেনমোহরের গল্পো বাজারে ছাড়েন । কিন্তু বলা হচ্ছে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সাথে করেছেন প্রতারনা । এশিয়ান টেলিভিশনের পরিচালক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে । প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও এমডির সাথে তার উঠাবসা বাজারে চাউর হয় সেসময় ।

চট্টগ্রামেই জন্ম ও মডেলিংয়ে হাতেখড়ি হয়েছিল পিয়াসার । ২০০৯ সাল থেকে ঢাকার অভিজাত মহলে পরিচিতি পান মডেল পিয়াসা হিসেবে। নিম্ম মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠলেও অল্প সময়ের মধ্যে ৩২ বছর বয়সী পিয়াসার হাত হয়ে উঠে অনেক লম্বা । তাকে সমীহ করে চলেন অনেক বাঘা বাঘা শিল্পপতিও— এমন কথা ঢাকার অভিজাত মহলে সবাই জানেন। সেই পিয়াসাই হঠাৎ করে পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর বিস্মিত হয়েছেন অনেকেই ।

পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, পিয়াসার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। পিয়াসা বারিধারায় একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। মৌ নামের অন্য সদস্যকেও আটক করা হয়েছে ।  তাঁরা দুজনই একই চক্রের সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে উঠতি বয়সের ছেলেদের নিয়ে এসে মাদক দ্রব্যাদি সেবন করিয়ে আপত্তিকর ছবি তুলতেন। এরপর ব্ল্যাকমেল করে ভুক্তভোগীদের কাছ থে টাকা আদায় করতেন এই দুই নারী। তাঁদের দুজনের বিরুদ্ধে গুলশান ও মোহাম্মাদপুর থানায় মামলা হয়েছে ।

অভিযোগ রয়েছে কক্সবাজারে হোটেল হোয়াইট সেন্ট নামের একটি প্রকল্পের কথা বলে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন সাড়ে আট কোটি টাকা । প্রকল্পের গালগল্পে ভুলিয়েছেন চট্টগ্রামের বেশ কিছু ব্যবসায়ীকেও । এশিয়ান টেলিভিশনের সাবেক এমডি মিজানুর রহমানের সাথে চট্টগ্রামে একটি নতুন ইলেক্ট্রনিক্স পন্যের ব্যান্ডের প্রচারনায়ও দেখা গিয়েছিল তাকে ।