সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

    উপনির্বাচনে
    বাংলাদেশ মেইল::

    সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিকের সঙ্গে লড়াইয়ের জানান দিচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শফি আহমদ চৌধুরীও। ফলে শেষ মুহূর্তে এসে জমে উঠেছে সিলেটের এই উপনির্বাচন। এখনই বলা যাচ্ছে না কে হাসবেন শেষ হাসি। কারণ- নির্বাচনের কয়েকদিন আগে বেশির ভাগ ভোটারের রহস্যময় নীরবতায় অনেক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভোটাররা কী ভোটকেন্দ্রে যাবেন, ভয়হীন পরিবেশ কী থাকবে, নাকি গতানুগতিক হবে এই নির্বাচন- এসব প্রশ্নের উত্তর মিলছে না। তবে- ভোটারের এই নীরবতা নিয়ে শঙ্কার প্রশ্ন তুলেছেন আতিকুর রহমান আতিক। ভোটে মাঠে নীরব ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে গতকাল তিনি অভিযোগ করেন।

    শুরু থেকেই সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন নানা নাটকীয়তায় ভরা। প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এ আসনে আওয়ামী লীগের দেড় ডজন প্রার্থী চষে বেড়িয়েছেন দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা। এরমধ্যে থেকে নৌকার কাণ্ডারী হন হাবিবুর রহমান হাবিব। বয়সে তরুণ এই প্রার্থীকে নিয়ে এখন হিসেবে পড়ে গেছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনী এলাকায় প্রচুর খাটুনি, প্রচারণা সবই করেছেন হাবিব। কিন্তু এলাকাভিত্তিক আওয়ামী লীগের ভোটে নানা সমীকরণে তিনি যেন পেরে উঠতে পারছেন না। নির্বাচনের প্রথম দিকের হিসাব শেষ দিকে এসে পরিষ্কার হয়ে গেছে। তবে- হাবিব নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন।

    উন্নয়নের স্বার্থে মানুষ হাবিবকেই ভোট দেবে বলে মনে করেন আসনের তিন উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা জানিয়েছেন- হাবিবুর রহমান হাবিব বয়সে তরুণ হলেও তিনি গত আড়াই মাসের নির্বাচনের প্রচারণায় সবার সঙ্গে মিশেছেন। দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মনে ঠাঁই করে নিয়েছেন তিনি। ফলে এ নির্বাচনে জয় ছাড়া কিছু ভাবা হচ্ছে না। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাংবাদিক শাহ মুজিবুর রহমান জকন জানিয়েছেন- ‘হাবিবের পক্ষে তিন উপজেলার আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতারা মাঠে রয়েছেন। তারা মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছেন। এই প্রচারণায় মানুষের বিপুল সাড়া মিলেছে।’ তিনি বলেন- ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিবের মতো অন্য কোনো প্রার্থী নির্বাচনে ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচারণা চালাননি। প্রচারণার কারণেই ভোটের মাঠে অনেক এগিয়ে রয়েছেন হাবিব।’ তবে শঙ্কা আছে হাবিবকে নিয়ে। আতিকের পক্ষে ঝড় তুলে নীরব হয়ে পড়েছেন বেশির ভাগ ভোটার। এখন তারা কেন্দ্রে আসবে কি না- এ নিয়েও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। যদি নীরব ভোটাররা কেন্দ্রমুখী হয় তাহলে ফলাফল হাবিবের বিপরীতে যেতে পারে- এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকদের কাছেও। বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন দলের স্থানীয়রা নেতারা।

    এ কারণে নির্বাচনী মাঠে প্রচারণায় গতি বাড়ানো হয়েছে। প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এ আসনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সিলেটের ভোটের মাঠে এখনো জোয়ারে ভাসছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক। ২৮শে জুলাইয়ের স্থগিত হওয়ার নির্বাচনের আগে তার পক্ষে প্রকাশ্যে ছিল ভোটের জোয়ার। কিন্তু এই জোয়ার এখন নীরব। মাঠ ছেড়ে ঘরে উঠে গেছেন ভোটাররা। তারা নড়ছে না, কথাও বলছে না। এ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন আতিক। এখন তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কেন্দ্রে ভোটারদের নিয়ে আসা। এরইমধ্যে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আতিক। ভোটের পরিবেশ এবারো তার কাছে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন। গতকাল আতিক জানিয়েছেন- ভোটের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা হুমকি দিচ্ছে। তারা নীরব ভীতির সঞ্চার করছে। আর এর কারণ হচ্ছে- তার ভোটাররা যেন কেন্দ্রে না যায়। এই পরিস্থিতি উত্তরণ ঘটাতে তারা ইতিমধ্যে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের আশ্বস্ত করা হলেও স্বস্তি ফিরছে না বলে দাবি করেন আতিক। ভোটাররা কেন্দ্রে গেলে তার জয় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন- জাতীয় পার্টির সব নেতারাই চোখ রাঙানির মুখে রয়েছেন। অনেককে কেন্দ্রে না যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এতে পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা আছে। তবে- জাতীয় পার্টি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করবে বলে জানিয়েছেন ওই নেতা। লকডাউন ও শোক দিবসের বিরতি কালে সিলেট-৩ আসনে একা একা হেঁটেছেন শফি আহমদ চৌধুরী। প্রথম পর্যায়ে তার অবস্থা ভালো না থাকলেও শেষ দিকে এসে তিনিও নির্বাচনে লড়াইয়ের আভাস দিয়েছেন। গ্রামে গ্রামে যোগাযোগ বাড়ানোর কারণে বিএনপিসহ শরিক দলের তৃণমূলের নেতারাও তার পক্ষে মাঠে নেমেছেন। আর মাঠে নামা নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি কৌশলী প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, সেন্টার কমিটিসহ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যাদের রেখেছেন তাদের নাম প্রকাশ করেননি তিনি। এ কারণে দিনে দিনে ভোটের মাঠে শক্তি সঞ্চয় করেছেন তিনি। গতকালও নিজ বাড়ি দাউদপুর থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা সহকারে বের হন শফি আহমদ চৌধুরী। প্রচারণা শুরু করার আগে তিনি জানিয়েছেন- ‘তিন উপজেলার প্রতিটি মানুষ আমাকে চেনে। আমিও তাদের চিনি। সুতরাং মানুষ তাকে হতাশ করবে না। তিনিও জয় ছাড়া নির্বাচনে কিছু ভাবছেন না বলে জানান।’ তবে ভোটের মাঠ ও নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেন শফি চৌধুরী।

    সিলেটে একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চাই- বাবলু: জাতীয় পার্টির মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেছেন, গণতন্ত্র বিকাশের স্বার্থে সিলেটে একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চাই।

    জনগণের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পাবে। ভোটের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়বে। তিনি দক্ষিণ সুরমার সিলাম, জালালপুর, বালাগঞ্জের মোরারবাজার, আজিজপুর বাজার এবং গতকাল দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার, দাউদপুর, ফেঞ্চুগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান আতিকের সমর্থনে পৃথক পৃথক পথসভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এতে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন সিলেট-৩ আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান আতিক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম শাহরিয়ার আসিফ, যুগ্ম মহাসচিব ও জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. বেলাল হোসেন এবং ক্রীড়া সম্পাদক ও জাতীয় যুব সংহতির সদস্য সচিব আহাদ ইউ চৌধুরী শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হাজী বাবুল হোসেন, সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব উছমান আলী প্রমুখ।

     

    বিএম/ উপনির্বাচনে