দেশে যেসব স্কুল খুলছে না

খুলছে না

বাংলাদেশ মেইল::

সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ রোববার থেকে খোলার সিদ্ধান্ত হলেও এক হাজারের মতো কিন্ডারগার্টেন ও স্কুল খুলছে না। স্কুলের শিক্ষকরা বলছেন, মূলত আর্থিক অসচ্ছলতা, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী সংকটের কারণে স্কুলগুলো বন্ধ রাখতে তারা বাধ্য হচ্ছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যক্তি মালিকানাধীন এসব স্কুল নিয়ে এখনও তাদের কোনো পরিকল্পনা নেই। খবর বিবিসি বাংলার।

করোনাভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার পর গত বছরের মার্চের শেষ দিকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরকারের নির্দেশনা মেনে আজ থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার কথা থাকলেও যেসব স্কুল খুলছে না তার একটি চট্টগ্রামের ভিশন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন জানান, ২১ জন শিক্ষক এবং সাড়ে ৪শ শিক্ষার্থী নিয়ে তাদের স্কুল চলছিল। তবে চরম প্রতিকূল অবস্থায় পড়ে তাকে স্কুলটি বন্ধ করে দিতে হয়েছে।তিনি বলেন, গত বছর রোজার পর সরকারের নির্দেশ মতো অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের কাছ থেকে সাড়া পাইনি। ঘর ভাড়া, গ্যাস ও কারেন্ট বিল, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-এসব কুলিয়ে উঠতে না পারায় ২০২১ সালে এসে আমরা স্কুলটা বন্ধ করতে বাধ্য হলাম।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল এবং কলেজ ঐক্য পরিষদ দাবি করছে, সারা দেশে প্রায় ৬০ হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুল ছিল। সেখানে প্রায় ১০ লক্ষ শিক্ষক প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থীকে পাঠদান করে আসছিল। কিন্তু করোনার প্রকোপে স্কুল যেমন বন্ধ হয়েছে তেমনি নতুন করে স্কুল খুলতে শিক্ষকদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে নানা চ্যালেঞ্জ। সব কিন্ডারগার্টেন ব্যক্তি মালিকানাধীন। তাদের খরচ চলে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি দিয়ে। দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় অনেক স্কুলের শিক্ষক অন্য পেশা গ্রহণ করেছেন। ঐক্য পরিষদের দাবি, ১০ হাজারের মতো স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে।

সংগঠনটির চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, রোববারে বোঝা যাবে কয়টা স্কুলের পাঠদান শুরু হয়। যেসব স্কুল এখনো চালু আছে তাদের ঘুরে দাঁড়াতে হলে সরকারি সহযোগিতা দরকার। কিন্তু আমরা সরকারের বিভিন্ন স্তরে ঘুরে কোনো আশ্বাস পাইনি।

বিএম/খুলছে না