দুর্গন্ধযুক্ত চাল বিতরণে চুয়াডাঙ্গার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ ৪ কর্মকর্তা জড়িত

জেলা খাদ্য

বাংলাদেশ মেইল:

গত ঈদুল আজহা উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নে ভিজিএফের দুর্গন্ধযুক্ত চাল বিতরণের ঘটনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল ইসলামসহ চার কর্মকর্তার জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে দায়িত্বে চরম অবহেলার বিষয়টি উঠে আসলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়নি। কৌশলে এড়িয়ে গেছে তদন্ত কমিটি।

চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীনের তদন্ত কমিটি জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ৪ কর্মকর্তা হলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম, সদর উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর ছিদ্দিক, জীবননগর উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ ও সদর উপজেলা কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক আনিছুর রহমান।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮ জুলাই ভিজিএফ কার্ডধারী ৬০০ জনকে খাওয়ার অযোগ্য দুর্গন্ধযুক্ত ও পচা চাল দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল ইসলাম ১০ হাজার ৫৬০ কেজি নিম্নমানের চাল জব্দ করে। জব্দ করা চাল সদর খাদ্যগুদামে আনা হয় এবং সেখান থেকে সমপরিমাণ ভালো চাল বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদে নেওয়া হয়। পরদিন উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে দিনব্যাপী ১ হাজার ৫৬০ জনের মধ্যে ভালো চাল বিতরণ করা হয়।

এ ঘটনা তদন্তে ঈদের ছুটি শেষে ২৬ জুলাই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকার। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সুফি মো. রফিকুজ্জামান, জেলা বাজার তদারকি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল ইসলাম। কমিটির সদস্যরা ২৭ জুলাই সরেজমিনে তদন্ত করেন এবং ঘটনার অনুসন্ধানে পরবর্তীকালে সংশিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎ গ্রহণ করেন।

জানা গেছে, ভিজিএফের দুর্গন্ধযুক্ত চাল সরবরাহের ঘটনায় তদন্ত কমিটির সদস্য  রেজাউল ইসলামের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় কমিটির অন্য সদস্যরা বিব্রত হন। এরপর তাকে বাদ দিয়ে তদন্ত কমিটির অপর সদস্যরা তদন্তের কাজ এগিয়ে নেন এবং তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্তের সময় অভিযোগের বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বক্তব্য নিয়ে সেটা তদন্ত প্রতিবেদনে যুক্ত করা হয়। এ ছাড়া আরও ১৩ জনের বক্তব্য নেয় তদন্ত কমিটি।

জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি নিশ্চিত হয়, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, দুজন ভারপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তা ও কারিগরি পরিদর্শক নিম্নমানের চালের বিষয়টি সংগ্রহ থেকে বিতরণ পর্যন্ত জানতেন। বেগমপুর ইউনিয়নে ভিজিএফ কর্মসূচিতে বিতরণ করা চাল জীবননগর খাদ্যগুদাম থেকে পাঠানো হয়েছিল। জীবননগর উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ অসৎ উদ্দেশ্যে যোগসাজশ করে জীবননগরের সাথী রাইস মিল, দেশবাংলা এবং এ অ্যান্ড জেএম অটোরাইস মিল থেকে সংগ্রহ করে। গত ৫ জুলাই ৫০০ মেট্রিক টন চাল জীবননগর থেকে সদর খাদ্য গুদামে পাঠানো হয়। ২০ মেট্রিক টন করে ২৫টি ট্রাকে পাঠানো হয়। প্রতিটি ট্রাকের নমুনা পরীক্ষার কথা থাকলেও কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক তা করেননি। চালগুলো নিম্নমানের ও লাল রঙের জানানোর পরও খাদ্য নিয়ন্ত্রক তা গুদামে রাখতে সদর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়। জীবননগর থেকে পাঠানো চাল বিতরণের কথা না থাকলেও সদর গুদাম কর্মকর্তা তা সরবরাহ করে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেটা খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।