জার্মানিতে জোট গঠনের তৎপরতা শুরু

    বাংলাদেশ মেইল ::

    জার্মানির নির্বাচনের পর জোট সরকার গঠনের লক্ষ্যে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হচ্ছে। ছোট দুইটি শরিক দল পারস্পরিক বোঝাপড়ার পর বড় দুই দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু করছে। সব পক্ষই দ্রুত সরকার গড়তে আগ্রহী বলে জানিয়েছে জার্মান সংবাদ মাধ্যম ডয়চে ভেলে।

    জার্মানির সংসদ নির্বাচনে এই প্রথম কোনো দল যথেষ্ট শক্তিশালী না হওয়ায় জোট গঠনের কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠছে। সামান্য ব্যবধানে জয় সত্ত্বেও সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডি দলের সরকার গড়তে দুই শরিক দলের প্রয়োজন হবে। দ্বিতীয় স্থান পাওয়া সত্ত্বেও অংকের বিচারে ইউনিয়ন শিবিরও সেই দুই দলের সঙ্গে সরকার গঠন করতে পারে। তাই ‘কিংমেকার’ হিসেবে পরিবেশবাদী গ্রিন্স পার্টি এবং উদারপন্থি এফডিপি দল সবার আগে মতপার্থক্য দূর করতে নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করেছে। বেশকিছু নীতির প্রশ্নে দুই দলের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য থাকায় পারস্পরিক সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করা তাদের জন্য জরুরি।

    এদিকে, সপ্তাহান্তেই ছোট দুই দল বড় দলগুলোর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে চায়। শুক্রবার গ্রিন্স পার্টি এবং এফডিপি আরও গভীর আলোচনায় বসবে বলে জানাচ্ছে ডয়চে ভেলে।

    জার্মানিতে সাধারণ নির্বাচনের পর থেকে সরকার গড়ার পথ যথেষ্ট জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠছে। ২০১৭ সালের নির্বাচনের পর সেই প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় ছয় মাস লেগে গিয়েছিল। দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের লক্ষ্যে প্রাথমিক আলোচনায় আশার আলো দেখলে তবেই জোট গড়ার আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়। সেখানে শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা মিলে অভিন্ন সাধারণ কর্মসূচির উদ্যোগ নেন এবং মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে দরকষাকষি করেন। কোয়ালিশন চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হলে শরিক দলগুলোকে হয় বৃহত্তর নেতৃত্ব অথবা সব সদস্যদের সমর্থন আদায় করতে হয়। তারপর চুক্তি সই হলে সরকার গড়ার পথ প্রশস্ত হয়।

    এবার সেই প্রক্রিয়ায় নতুনত্ব দেখা যাচ্ছে। এসপিডি নেতা ওলাফ স্কলস এবং ইউনিয়ন শিবিরের নেতা আর্মিন লাশেট দুজনেই সরকার গড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে দুজনকেই গ্রিন্স পার্টি ও এফডিপি দলের সমর্থন আদায় করতে হবে। প্রতিযোগিতার এই পরিবেশে নিজেদের গুরুত্ব বুঝে এই দুই দল নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার পর দুই বড় দলের প্রস্তাব খতিয়ে দেখতে চায়। ফলে সরকার গড়ার উদ্যোগ পেছন থেকে শুরু হচ্ছে। তবে সবপক্ষই সময় নষ্ট না করে দ্রুত সরকার গড়ার অঙ্গীকার করছে।

    বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জানা গেছে বিদায়ী চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মার্কেল এবং ইউনিয়ন শিবিরের নেতা লাশেট দুজনেই স্কলস জয়ের জন্য লিখিত অভিনন্দন জানিয়েছেন। বাভেরিয়ার সিএসইউ দলের নেতা মার্কুস স্যোডার আগেই প্রকাশ্যে সেই কাজ করেছেন।

    অন্যদিকে, গ্রিন্স পার্টির নেতা আনালেনা বেয়বক জানিয়েছেন, তার দল রোববার এসপিডির সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনায় বসবে। আগামী সপ্তাহে ইউনিয়ন শিবিরের সঙ্গেও আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এফডিপি নেতা ক্রিস্টিয়ান লিন্ডনার জানিয়েছেন, তার দল শনিবার ইউনিয়ন শিবির এবং রোববার এসপিডির সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনায় বসছে। আদর্শগত মিলের কারণে এফডিপি ইউনিয়ন শিবির এবং গ্রিন্স পার্টি এসপিডির সঙ্গে জোট বাঁধতে আগ্রহী।

    অপরদিকে, একাধিক জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী জার্মানির মানুষ ওলাফ স্কলসকে আগামী চ্যান্সেলর হিসেবে দেখতে চান। সেই সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ রাজনীতির আঙিনা থেকে লাশেটের সরে দাঁড়ানোর পক্ষে।