চকরিয়ায় ইউপি সদস্যকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ,

পুলিশে

বাংলাদেশ মেইল::

কক্সবাজারের চকরিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে এলাকায় মহড়া দেওয়ার সময় স্থানীয় জনতা তিনজনকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। এ সময় একটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করে পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় জনতা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার ১৫ সদস্যের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী সকাল ৯টা থেকে ছাইরাখালী গ্রামে মহড়া দেওয়া শুরু করে। ওই গ্রামের আমির আলী ও তালেব আলীর মধ্যে লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ দেখা দিলে তালেব আলীর পক্ষে ছাইরাখালী গ্রামে যায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। প্রথমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে এলাকায় মহড়া দেওয়ার পর সেখানে সালিশ বৈঠকে বসে দুইপক্ষ। সেই সালিশে তালেব আলীর পক্ষে যাওয়া বহিরাগত সন্ত্রাসীরা আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে প্রতিপক্ষকে গুলি করার ভয় দেখায়। এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে চারিদিক থেকে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে সন্ত্রাসীদের গণপিটুনি দেয়।

এ সময় অন্যরা পালিয়ে গেলেও ধরা পড়ে তিন সন্ত্রাসী। তন্মধ্যে একজন সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের এক নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও মানিকপুর গ্রামের মৃত মনোহর আলম সিকদারের ছেলে জাহেদুল ইসলাম সিকদার (৪০), অপর দুজন হলেন চিরিঙ্গা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরণদ্বীপ গ্রামের নুরুল আলমের ছেলে মো. ইমরান (২৬) ও একই ইউনিয়নের বুড়িপুকুর গ্রামের মোজাহের আহমদের ছেলে আবদুর ছবুর (৩৫)।

সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম জানান, তার পরিষদের সদস্য জাহেদুল ইসলাম সিকদার বহু অপকর্মের হোতা। তার হেফাজতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সে বিভিন্ন স্থানে ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবেও যায়। শনিবারও সে সদলবলে সশস্ত্র অবস্থায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী গ্রামে গেলে গণপিটুনির শিকার হয়। পরে পুলিশ গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রসহ তিনজনকে জনতার রোষানল থেকে আটক করে।
এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, পাওনা টাকার লেনদেন নিয়ে দুইপক্ষে সালিশ বৈঠকে অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি দেওয়ার সময় ক্ষুব্ধ জনতা বেশ কয়েকজনকে ধরে গণপিটুনি দেওয়া শুরু করলে তিনজন ছাড়া অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে তিনজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে জনতা। এ সময় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি আগ্নেয়াস্ত্র (শর্টগান) উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।