ভারতীয়দের ফেরাতে হাঙ্গেরি, মলদোভার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ফোনালাপে জয়শঙ্কর

বাংলাদেশ মেইল ::

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে ভারতীয় নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে দেশটির প্রতিবেশী হাঙ্গেরি এবং মলদোভার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে টেলিফোনে মতবিনিময় করেছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। গত ২৭ ফেব্রুয়ারী, রবিবার, ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদ প্রস্থান ও গোটা অঞ্চলের বিদ্যমান সার্বিক অবস্থা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন তারা।

উল্লেখ্য, হাঙ্গেরি ইতোমধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের নিজ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে সাহায্য শুরু করে দিয়েছে। এজন্য হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজ্জার্তোর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জয়শঙ্কর। মালদোভার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকু পোপেস্কুকেও একই অনুরোধ করেন তিনি। পরবর্তীতে এক টুইটবার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই।

এছাড়া, ভারত সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অপারেশন গঙ্গার আওতায় এখনও অবধি প্রায় ২০০০ ভারতীয়কে ইউক্রেন থেকে সরানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। এর আগে পররাষ্ট্র সচিব শ্রী হর্ষবর্ধন শ্রিংলাও বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

অপারেশন গঙ্গা সম্পর্কে একটি বিশেষ ব্রিফিংয়ে ভাষণ দেওয়ার সময় পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, “অপারেশন গঙ্গার অধীনে এখনও অবধি প্রায় ১০০০ নাগরিককে রোমানিয়া ও হাঙ্গেরিতে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এছাড়াও, আরও ১০০০ জন নাগরিক অন্যান্য নিরাপদ অবস্থানে সরে গিয়েছেন বা সরিয়ে নেয়া হয়েছে, যেখান থেকে সরাসরি ভারতের উদ্দেশ্যে উড়াল দিতে পারবেন তারা।”

হাঙ্গেরি এবং রোমানিয়ার সীমান্ত ক্রসিংগুলো কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পোল্যান্ডের প্রস্থান পয়েন্টটি প্রায় লক্ষাধিক ইউক্রেনীয় এবং অন্য দেশীয় নাগরিকদের সেখান থেকে দেশ ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করার কারণে আটকে আছে। তাই প্রচুর ভারতীয়, যারা ওই রাস্তা অবলম্বন করে দেশ ছাড়তে চেয়েছিলেন, তারা আটকে পড়েছেন।”

রবিবার ইউক্রেনে ভারতীয় দূতাবাসের জারি করা পরামর্শের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র সচিব শ্রিংলা বলেন, “ভারতীয় নাগরিকদের সক্রিয় সংঘাতের অঞ্চলগুলো থেকে সরে যেতে এবং পশ্চিমাঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কাছাকাছি রেলওয়ে স্টেশনগুলো ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

শ্রিংলা বলেন, “আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি, ভারতীয় শিক্ষার্থীদের পক্ষে যতটা সম্ভব সীমান্তের (রোমানিয়া, হাঙ্গেরি) কাছাকাছি আসার চেষ্টা করতে থাকা উচিত। বিভিন্ন স্টেজিং পয়েন্ট আছে যেখানে তাদের আশ্রয় নেওয়া উচিত। তারপরে তারা কোথায় ক্রসওভার করতে পারেন, সেটি আমরা দেখছি।”

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রুশ বাহিনী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইউক্রেনের মোট আটশো জায়গায় হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। দেশের মোট ১৪টি বিমানঘাঁটি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, ১৯ কামান্ড পোস্ট, ২৪ এস-৩০০ বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪৮ রেডার স্টেশন দখলে নিয়েছে রাশিয়া।

এছাড়া, ইউক্রেনে খাবারের আকাল তীব্র হচ্ছে। বহু জায়গায় জল, বিদ্যুৎ নেই। ন্যাটো ইউক্রেনের পাশে থাকলেও তারা এখনও পর্যন্ত বড় কোনও পদক্ষেপ নিতে পারেনি।

এদিকে, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর দাবি, ইতিমধ্যেই তারা ৩ হাজার ৫০০ রুশ সেনাকে হত্যা করেছে। বন্দি করেছে ২০০ সেনাকে। পাশাপাশি ১৪টি রুশ যুদ্ধবিমান, ৮ কপ্টার, ১০২টি ট্যাঙ্ক ধ্বংস করেছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেন অভিযান মাত্র ২ সপ্তাহেই শেষ করে ফেলতে চান পুতিন। ক্রেমলিন সূত্রে এমনটাই দাবি করেছে এক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম। শনিবার ইউক্রেনের রকাজধানী কিয়েভে ঢুকেছে রুশ সেনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে জেলেনস্কি সরকার।

এমতাবস্থায়, সেখানে আটকে পড়া প্রায় ১৬ হাজার ভারতীয় পড়ুয়া ও প্রবাসী নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত সরকার। এজন্য ২৪ ঘন্টা সেবা দিচ্ছে সেখানে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম ও হেল্পলাইন। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক