দ্বিতীয় দিনের মত রুশ সামরিক অভিযান
রুশ বাহিনীর হামলায় ইউক্রেনের অন্তত ১৩৭ জন নিহত বলে দাবি ইউক্রেনের

বাংলাদেশ মেইল ::

ইউক্রেনজুড়ে দ্বিতীয় দিনের মত রুশ সামরিক অভিযান চলছে। এরইমধ্যে রুশ সেনারা রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠে অস্তমেল বিমানঘাঁটি দখলে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের এক উপদেষ্টা। এদিকে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের অন্তত ১৩৭ জন সেনা ও বেসামরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় এই কথা জানান তিনি।

এদিকে রাশিয়া এবং বেলারুশ সীমান্ত দিয়ে ট্যাঙ্ক ও ভারী অস্ত্রে সজ্জিত রুশ সেনারা বিভিন্ন স্থানে প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়ছে। তবে ঘাঁটির দখল ফিরে পেতে ইউক্রেন সেনাবাহিনী পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে।

বর্তমানে ওই অঞ্চলে রুশ ও ইউক্রেন সেনাদের ব্যাপক লড়াই চলছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। এদিকে চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকাটি যুদ্ধের পর দখলে নিয়েছে রুশ বাহিনী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক।

তবে পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন যারা যা ধারনা করেছিলেন রুশ সৈন্যরা তা চেয়ে দ্রুত গতিতে অগ্রসর হচ্ছে। পল অ্যাডামস বলছেন কিয়েভের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ বিমান ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এখন রুশ প্যারাট্রুপাররা হয়ত অগ্রসরমান রুশ সাঁজোয়া বাহিনীর জন্য অপেক্ষা করবে নতুবা ঐ ঘাঁটি থেকে নিজেরাই কিয়েভের ওপর হামলা শুরু করবে। ব্যাপারটি যে কোনো সময় ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

কিয়েভে এখন কারফিউ। রুশ বিমান হামলার ভয়ে মাঝে মধ্যে সাইরেন বাজছে। মানুষজনকে নিরাপদে আশ্রয় নিতে বলা হচ্ছে। অনেকে পাতাল রেল স্টেশনগুলোতে গিয়ে বসে আছেন।

দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভের কাছেও সংঘর্ষ চলছে। এছাড়া মারিয়োপালে দুপক্ষের মধ্যে গোলাবর্ষন অব্যাহত আছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সেনা না পাঠানোর ঘোষণার সমালোচনা করেন জেলেনস্কি।

যুদ্ধে ইউক্রেনকে একা ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া পাল্টা হামলায় রাশিয়ার ৫০ সেনা নিহত, ৬টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি করেছে ইউক্রেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, আজ আমি ইউরোপের ২৭ জন নেতার সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু কেউই আমাকে আশানুরূপ কিছু বলতে পারেনি। তারা সবাই ভয় পাচ্ছে। তবে আমরা ভীত নই, যে কোনো কিছু করতে আমরা প্রস্তুত আছি।

ইউক্রেনে প্রতিবেশী মলদোভা এবং রুমানিয়ায় ইউক্রেন হাজার হাজার লোক ঢুকেছে।

এর আগে গতকাল রাশিয়ার সামরিক অভিযানে ইউক্রেনের ৪০ সেনা ও ১০ নাগরিক নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছিল ইউক্রেন। এছাড়াও পাল্টা হামলায় রাশিয়ার ৫০ সেনা নিহত, ৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছে তারা। তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের বিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর অস্বীকার করেছিল।

বৃহস্পতিবার সকালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘোষণার পরপরই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে। উত্তরে বেলারুশ এবং দক্ষিণে ক্রিমিয়া থেকে সেনা প্রবেশ করেছে বলে জানায় ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অভিযান শুরুর পরপরই সামরিক আইন জারি করেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

এদিকে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়ে পুতিন বলেন, ইউক্রেন থেকে আসা হুমকির জবাবে এ পদক্ষেপ। তবে রাশিয়া কোনভাবেই ইউক্রেন দখল করতে চায় না। যেকোন ধরণের রক্তপাতের জন্য ইউক্রেন দায়ী থাকবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। অন্য কোন দেশকে এ সংঘাতে না জড়াতেও সতর্ক করেন পুতিন।